Agaminews
Dr. Neem Hakim
হাজার কোটি টাকার ক্ষতি : জনজীবন বিপর্যস্ত 

বেনাপোল বন্দরসহ গোটা উপজেলা অন্ধকারে


আগামী নিউজ | বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি প্রকাশিত: মে ২২, ২০২০, ১০:৩১ পিএম
বেনাপোল বন্দরসহ গোটা উপজেলা অন্ধকারে

সুপার সাইক্লোন আম্পানের তান্ডবে পুরো যশোরের বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলা এখন জেরবার দশায়। জীবাণু শত্রু কোভিড-১৯’র লাগাতার ‘হামলার’ মধ্যেই অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় হানা দিল। যার কয়েক ঘণ্টার ভয়াল আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ঘরবাড়ি, গাছপালা, সবজির ক্ষেত ও ফলের বাগান। এমনকি ঝড়ের সময় ভেঙে পড়া গাছের চাপায় প্রাণ হারিয়েছে চার জন। আহত হয়েছে কয়েকজন। ঝড়ের তান্ডবে বেনাপোল-শার্শায় কয়েক হাজার ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সাথে ২০ একর সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বাজারে তোলার মতন আম ও লিচুর বেশির ভাগই ঝরে পড়েছে। দানবীয় ঘূর্ণি ঝড়ের দাপটে অসংখ্য ছোট বড় গাছ উপড়ে ও ডালপালা ভেঙে পড়ে অনেক জায়গার যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে যায়। খুঁটি ভেঙে ও লাইনের তার ছিঁড়ে বিদ্যুত সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। এরপরও ভাঙা খুঁটি ও লাইনের মেরামত শেষ না হওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

নিহতরা হলো উপজেলার শার্শা গ্রামের জেলে পাড়ায় মৃত সুনিল মন্ডলের পুত্র গোপাল বিশ্বাস (৬৫), জামতলা এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে মুক্তার আলী (৬৫), গোগা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার শাহাজানের স্ত্রী ময়না খাতুন (৪০) ও মহিষাকুড়া গ্রামের মোবারকের পুত্র মিজানুর রহমান(৪০)। নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে বলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানিয়েছেন।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত শহর বেনাপোলসহ শার্শা উপজেলার আশে পাশের গ্রাম ঝড়ে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা সঠিক নিরুপন করা না গেলেও হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অভিজ্ঞমহল।
 
আম্পানের তান্ডবে কৃষকের দেশি কাগজে লেবু বাগান, ড্রাগন, পেয়ারা বাগান, পেঁপে বাগানসহ শাক সবজির মাঠ একেবারে ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে গেছে। বেনাপোল বাজার এলাকায় সড়কের পাশে বড় বড় গাছ পড়ে রয়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটি ও পৌরসভার আধুনিক ল্যাম্প পোস্টগুলি ভেঙ্গে সড়কের উপর পড়ে রয়েছে। প্রতিটি পাড়া মহল্লায় টিনের ঘরের ছাউনি উড়িয়ে নিয়ে গেছে। অনেকের ঘরে গাছ পড়ে ঘর ভেঙ্গেগেছে। 


বেনাপোল, ছোটআঁচড়া মাঠ, পুটখালী মাঠ, চাতুরিয়ার বিলে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে সবজি চাষিদের। এ এলাকার বড় বড় আমবাগান রয়েছে। প্রতিবছর এখান থেকে বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে পাকা আম। সেই আমবাগানে কাঁচা আম পড়ে বাগান সয়লাব হয়েছে। চাষিরা আম নিয়ে বাজারে আসলে মাত্র ৫ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করতে দেখা গেছে। আম চাষি বক্স বলেন, আমার বাগানে প্রায় ২০ মন কাঁচা আম পড়ে রয়েছে। এগুলো বাজারে নিলে কেউ কিনতে চাচ্ছে না। এক আড়তদারকে মাত্র ৫ টাকা দাম ধরে আমগুলো দিয়ে এসেছি। বিক্রি হলে আমাকে টাকা দেবে। একই কথা বলেন, চাষি হায়দার আলী ও জলিল। হায়দার আলীর একটি লেবু বাগান ও রয়েছে। লেবু গাছ গুলো ঝড়ে শুয়ে পড়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউস, বিজিবি ক্যাম্প ও বন্দরের সেড গুলির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেনাপোল পৌর সভার আধুনিক বাস ও ট্রাক টর্মিনালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টার্মিনালের অত্যাধুনিক গ্যাস ভেঙ্গে এবং পানির ট্যাংকি উড়িয়ে নিয়েছে এ ঝড়টি। সাথে টার্মিনালের নির্মিত শ্রমিকদের থাকার ঘর একেবারে ভেঙ্গে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এ অঞ্চলের কুমড়া, লাউ, পুইশাখ, পটল, ভেন্ডির ক্ষেত গুলিও একেবারে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে এই ঝড়ে।
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে বেনাপোল-শার্শার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার রাত থেকে সঞ্চালন লাইনের খুটি ও বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।  বেনাপোল বন্দরসহ গোটা উপজেলা রয়েছে অন্ধকারে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদুৎ সংযোগ চালু করা যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নেটওয়ার্ক না থাকায় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে মোবাইলে যোগাযোগ। পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরাও বিপাকে পড়েছে।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শার্শা জোনাল অফিসের সহকারী জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার মোঃ নেয়ামুল হাসান বলেন, উপজেলা ১১টি ইউনিয়নে ঝড়ে লাইনে গাছ পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙ্গে লাইনের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বৃহষ্পতিবার সকাল হতে ১১ জন লাইনম্যান ও ৫০ জনের মত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত লেবার বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু করার কাজ চালাচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সেবা দেওয়ার চেস্টা করা হচ্ছে।

বেনাপোল অঞ্চলের সর্বোচ্চ বয়স্ক ব্যক্তি আমির হোসেন বলেন, আমার বয়স প্রায় ৯০ বছর অতিক্রম করতে যাচ্ছি। কখনো এত বড় ঝড় দেখিনি।প্রবীণেরা বলছেন, এর আগে ১৯৮৮ সালে যশোরে একবার বড় ধরনের সাইক্লোন আঘাত করেছিল। আর ২০০০ সালে যশোরে একবার বন্যা হয়েছিল। এবার ২০২০ সালের আম্পানের তান্ডব ছিল স্মরণকালের মধ্যে প্রথম।


আগামী নিউজ/মনির হোসেন
 

Dr. Neem