Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

মাতৃভক্ত এমপি সাদ এরশাদের গল্প


আগামী নিউজ | মহিউদ্দিন মখদুমী প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২২, ০৮:২২ পিএম
মাতৃভক্ত এমপি সাদ এরশাদের গল্প

মখদুমী, তোমার এমপি কোথায়? এই শব্দ কয়েকটি গত আট মাস ধরে শতবার শুনতে হয়েছে। অবশ্য আমি বিনয়ের সাথে বলার চেষ্টা করেছি- এমপি সাহেব মায়ের চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে চলে গেছেন। একজন সাংবাদিক ‘ এমপি আছে এমপি নাই’ শিরোনামে সংবাদ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমি তাকে মানবিক কারণে নিষেধ করেছিলাম। তাকে বলেছিলাম, একমাত্র মায়ের ভালোবাসা ছাড়া এই পৃথিবীতে ফ্রী তে কিছু পাওয়া যায় না। আমার এমপি রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ মাকে হারিয়ে ফেলতে চান না। মনে করুন, তার এমপিত্বের প্রয়োজন নেই, মায়ের প্রয়োজন আছে। এটি মানবিক ভাবে চিন্তা করলে আপনার শব্দ পরাজিত হবে। পরে জেনেছি সংবাদটি হয়নি।  

একদিন মমিনপুর ইউনিয়নে আমরা হঠাৎ এমপি সাহেবকে পেয়ে যাই। বর্ষাকাল চলছে। তিনি হাঁটছেন। আমরা পিছনে। গাঁ ভেজানো রোদ। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একটি বাড়ীর কাছে দুটি ছাগল ছানার কাছে তিনি বসে পড়লেন। ছাগল ছানা দুটি অসুস্থ্য। পায়খানার গন্ধ বেরুচ্ছে শরীর থেকে। তিনি পরম মমতায় ছাগল ছানা দুটিকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করছেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। আমরা সবাই দাঁড়িয়ে গেলাম। একজন এমপির ছাগল ছানার প্রতি মমত্ব দেখে মুগ্ধ সবার চোখ।

সেই এমপি রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ তাঁর মায়ের অসুস্থ্যতায় বসে থাকার কথা নয়। তিনি সব কিছু ছেড়ে ছুঁড়ে মা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাকে সাথে নিয়ে স্ত্রীসহ চলে গিয়েছিলেন থাইল্যান্ড। কেঁটে গেছে প্রায় আট মাস। দীর্ঘ প্রায় ২৩০ দিন। জাতীয় সংসদের এমপিদের হাজিরা খাতা আছে কি না জানি না। তবে রংপুর-৩ আসনের এমপি রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ দীর্ঘ আট মাস সংসদ কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিলেন। সংসদীয় এলাকায় এসেননি। জনগণের জন্য যা করা প্রয়োজন তা করেছেন ভার্চূয়ালী। তিনি প্রমান করেছেন এমপিত্বের চেয়ে মায়ের ভালোবাসার মূল্য বেশী। তাঁর এই ত্যাগ স্মরনীয় উপমা হয়ে থাকবে। 

গত ২৭ জুন ২০২২ সুস্থ হয়ে উঠা মা রওশন এরশাদকে সাথে নিয়ে বীরের বেশে দেশে ফিরেছেন সাদ এরশাদ এমপি। আমি তাঁর লাইভ দেখেছি। আনন্দমাখা মুখখানা দেখেছি। বারবার মনে হয়েছে, এটি তাঁর জীবনের বড় প্রাপ্তি। অবশ্য বরণের দৃশ্যটি দেখে খুব ভালো লেগেছে। জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপি সুস্থ্য হয়ে দেশে ফিরছেন, এ-খবরে পুরো জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা তাকে বরণ করে নেয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বন্দরে গিয়েছিল। শো-ডাউন করেছেন। খোদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বিমানবন্দরে ভাবি রওশন এরশাদকে স্বাগত জানিয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু, ফখরুল ইমাম এমপি, সুনীল শুভ রায়, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি, নাসরিন জাহান রতনা এমপি, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, মো. জহিরুল ইসলাম জহির, উপদেষ্টা রওশন আরা মান্নান এমপি, শেরীফা কাদের এমপি, নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, পনির আহমেদ এমপি, আমানত হোসেন আমানত, ডা. কে আর ইসলাম, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, ইয়াহ্ ইয়া চৌধুরী, এইচএম শাহরিয়ার আসিফ, জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব আশিক আহমেদসহ আরো অনেকে। ঢাকার কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক বন্ধু আমাকে জানিয়েছে, রওশন এরশাদের দেশে ফেরাকে ঘিরে বহুদিন পর ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পার্টি দেখেছে দেশবাসী। যদি দৃশ্যমান এই ঐক্য- ঐক্যের ঘরে থাকে তবে আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এই ঐক্য প্রভাব ফেলতে পারে। খুব গোপনে সাদ এরশাদ এমপির জন্য এটিও একটি অন্য রকম বড় প্রাপ্তি। কারণ তাঁর মায়ের প্রতি মমত্ববোধের কাছে হেরে গেছে জাতীয় পার্টির প্রধান সারির নেতাদের অদৃশ্য ক্ষোভ, অভিমান কিংবা দ্বন্দ্ব। জয় হোক মমত্ব বোধের। জয় হোক আমার এমপির।

পুনশ্চঃ চেহারায় সাদ এরশাদ এমপির মতো আমি কিংবা আমার মতো তিনি। তাই কিছু জনগণ তাকে আমার এমপি বলে আনন্দ পায়।

আত্ন-কথন-৩৭
সাংবাদিক ও লেখক