August
Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুর রশীদ পেশাগত জীবনের শেষ কর্ম দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য


আগামী নিউজ | জাহাঙ্গীর আলম প্রকাশিত: এপ্রিল ১১, ২০২২, ০১:৪১ এএম
অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুর রশীদ পেশাগত জীবনের শেষ কর্ম দিবসে শ্রদ্ধার্ঘ্য

ঢাকাঃ আধুনিক তেজগাঁও কলেজের রূপকার -অভিধাটি জাজ্বল্যমান যাঁর নামের পাশে তিনি হলেন, অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আবদুর রশীদ। যাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে তেজগাঁও কলেজ পরিণত হয়েছে পত্রপল্লবিত বিশাল মহিরুহে, অর্জন করেছে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারী মডেল কলেজের স্বীকৃতি।

১৯৮৪ সালে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ১৯৯৮ সালে তেজগাঁও কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত ছিলেন তিনি। কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে কাজ করে গেছেন নিরলসভাবে। সুদীর্ঘ কর্মময় জীবনে নানা বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করে পৌঁছেছেন অভিষ্ট লক্ষ্যে। দক্ষ প্রশাসকের নিগূঢ় গুণ মানবিকতা লক্ষনীয় তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে।

"অবসরজনিত বিদায়" শব্দটি পেশাজীবী মানুষ মাত্রই অনিবার্য সত্য। সুদীর্ঘ সময় তেজগাঁও কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর নিয়মের বাধ্যবাধকতা ও সময়ের তাগিদে আপনার বিদায় আমাদের কাছে অসহনীয় যন্ত্রণার নির্মম বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিতেই হচ্ছে। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন শেষে পেশাগত উৎকর্ষতার চূড়ান্ত শিখরে অবস্থান করেও সহকর্মীদের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বিদায় জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি। তেজগাঁও কলেজের সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন আপনি। কলেজের শিক্ষকতার পাশাপাশি সমগ্র দেশের শিক্ষকদের সংগঠিত করতে ছিলো আপনার বলিষ্ঠ পদচারনা। সবকিছু ছাপিয়ে আপনার কোমল হৃদয়ে মানবিকতা ছিলো অগ্রগন্য।

মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রানিত, আজন্ম অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় রাজনীতিতে দৃপ্ত পদচারনাই প্রমাণ করে আপনার নেতৃত্বগুণ। শিক্ষক হিসেবে যেমন দ্যুতি ছড়িয়েছিলেন তেমনি দক্ষ প্রশাসক হিসেবে নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়। মানব সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিজ জন্মভূমির আপামর জনগণের কাছে পরিণত হয়েছেন জননেতায়।

স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতেন আপনি, তেমনি স্বপ্ন দেখিয়েছেন হাজারো মানুষকে। তাইতো জীবনের সর্বক্ষেত্রে উন্নত মানবিক গুনাবলী সমৃদ্ধ একজন মানুষ হিসেবে সকলের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছিলেন স্ব মহিমায়।

আপনার মেধা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে তোলা দেশের সর্ববৃহৎ এই কলেজের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা নতুন নেতৃত্বের কাছেও অব্যাহত থাকবে এই প্রত্যাশা রেখে আপনার সুদীর্ঘ আয়ু এবং সুস্থতা কামনা করছি। আপনার কর্মই অগণিত মানুষের হৃদয়ে জাগ্রত থাকবে চিরন্তন। প্রিয় অভিভাবক, আমাদের সবার বুকের ভেতর ভালোবাসার ছোট্ট ঘরটিতে আপনি সবসময় থাকবেন।

একজন কর্মবীরের এ বিদায় মানে সবকিছু ছেড়ে যাওয়া নয়, এ বিদায় মানে নতুন আরেকটি অধ্যায়ের সূচনা। শুভ হোক আপনার প্রতিটি সময়। বাস্তবে পরিণত হোক আপনার সব স্বপ্নগুলো।

পরিশেষে মহাত্মা গান্ধীর ভাষায়, ‘‘কোনো বিদায় নেই, যেখানেই থাকুন না কেন আপনি সর্বদা আমার মনে থাকবেন।’’

জাহাঙ্গীর আলম

শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ তেজগাঁও কলেজ।