Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

নার্সিং কলেজ খুলে দেশবাসীকে বাঁচান!


আগামী নিউজ | মো. আমানুল্লাহ আমান প্রকাশিত: জুন ৫, ২০২১, ১২:১২ এএম
নার্সিং কলেজ খুলে দেশবাসীকে বাঁচান!

আমানুল্লাহ আমান | ফাইল ছবি

ঢাকাঃ দেশের সকল নার্সিং কলেজ খুলে দেয়ার সময় এখনই। কারন দুটি, প্রথমত রক্ষা করতে হবে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে, এরপর বাঁচাতে হবে দেশবাসীকে। দেশে নার্স ঘাটতির খবর অনেক পুরনো। তবে তা পূরণে অঞ্চলভিত্তিক সরকারের মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিশ্চয় প্রশংসিত। নার্সিং শিক্ষা অনেকটা এগুলেও বছর দেড়েক থেকে অবস্থা শোচনীয়। সেশনজট ও অদক্ষতায় শুধু নার্সিং শিক্ষার্থীরাই নয়, এর ভুক্তভোগী হওয়া লাগতে পারে দেশের আপামর জনতাকে।
দেশে নার্সিং শিক্ষা এগিয়েছে অনেক। তিন কোর্সের যেকোনো একটি সম্পন্ন করেই শিক্ষার্থীরা ক্যারিয়ার গড়তে পারছেন শিক্ষার্থীরা। ৩ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারী, একই সময়ের অপর কোর্স ডিপ্লোমা-ইন-মিডওয়াইফারি এবং ৪ বছর মেয়াদী বিএসসি-ইন-নার্সিং ডিগ্রী অর্জন করে সুযোগ থাকছে দেশের যেকোনো হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিকে চাকরীতে প্রবেশের। শিক্ষার ব্যাপ্তি ও সময় ভিন্ন হলেও একই পদে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ভিন্নতা সত্ত্বেও তাদের পদমর্যাদা এবং বেতন-ভাতায় দেয়া হয়েছে একই স্কেল।
তবে বন্ধ হতে চলেছে এটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স সম্পন্ন করে চাকরীতে প্রবেশের সুযোগ বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন দেশের লাখো নার্সিং শিক্ষার্থী। হুমকিতে পড়তে যাচ্ছে দেশের স্বাস্থ্যখাত। হাসপাতাল ডায়াগনস্টিকগুলোতে যেকোনো সময় সৃষ্টি হতে পারে বেসামাল পরিস্থিতি। তখন নিশ্চয় মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হবে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান বিশে^ ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ নার্সের। হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের বিপরীতে কমপক্ষে তিনজন নার্স থাকতে হবে। কিন্ত বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র একজন করে। এছাড়া প্রতি ৫ জন রোগীর জন্য একজন তালিকাভুক্ত নার্স থাকার কথা। সেটিও নেই। দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৭৬৭ জন চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন ৩৩ হাজার ১৮৩ জন। অথচ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে এখন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩০১ জন নার্স প্রয়োজন।
নার্স সংগঠনগুলোর দেয়া তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি তালিকাভুক্ত নার্সের সংখ্যা ৭০ হাজার। এর মধ্যে সরকারি নার্স রয়েছেন ৪০ হাজারের মতো। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে পুরো বাংলাদেশে প্রায় আড়াই লাখ নার্স দরকার। দেশের মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় অধীভূক্ত কলেজ ও ইনস্টিটিউটগুলো থেকে নার্সিংয়ের তিন কোর্সে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী পাশ করে বের হতেন। এতে ঘাটতি পূরণে অনেকটা এগিয়ে যেত নার্সিং অধিদপ্তর। 
কিন্ত করোনার প্রভাবে থমকে গেছে শিক্ষা ব্যবস্থা। ২০২০ সালে ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেশনজটসহ নির্দিষ্ট সময়ে কোর্স শেষ না করতে পারার আশঙ্কা প্রকট হচ্ছে। নার্স ঘাটতি অন্য সময়ের চেয়ে আরো বৃদ্ধি হতে চলেছে। কোনো কোনো হাসপাতালে ২০ জন রোগীর বিপরীতে একজন নার্স রয়েছেন। এরইমধ্যে প্রকট আকার ধারণ করেছে করোনা। এখনই নার্সিং শিক্ষা সচল করে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। কলেজে প্রাথমিক ধারণা দেয়ার পর হাসপাতালে ইন্টার্ন করার সুযোগ দিয়ে পরিস্থিতি সহনশীল করতে হবে নার্সিং শিক্ষার্থীদের জন্য। অন্যথায় দেশের স্বাস্থ্যখাত ভেঙে বিপদ ডেকে আনতে পারে দেশের আপামর জনসাধারণের।
তাই দাবি একটাই, অবিলম্বে দেশের নার্সিং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষিত করে তুলুন। হাসপাতালে ইন্টার্ন করার সুযোগ দিয়ে করোনা মোকাবেলায় ভূমিকা রাখার সুযোগ দিন। এর মাধ্যমে অসুস্থদের পাশে দাঁড়াতে অভ্যস্ত করে জনদরদী হওয়ার আকাঙ্খা জাগ্রত করুন।

লেখক: মো. আমানুল্লাহ আমান
সাংবাদিক ও কলামিস্ট, রাজশাহী