Agaminews
Dr. Neem Hakim
গুরু এইবার হোক শুরু

এ কেমন অবমাননা গুরু শব্দের!


আগামী নিউজ | এম এ হাকিম প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২০, ১০:২৯ এএম
এ কেমন অবমাননা গুরু শব্দের!

সংগৃহীত ছবি

'গুরু' একটি বিশেষ্য পদ। সাধারণ অর্থে দীক্ষাদাতা, ধর্ম-উপদেষ্টা, মন্ত্র-দাতা, শিক্ষক, উপদেশক, আচার্য, মাননীয় বা পূজনীয় ব্যক্তি, দেবগুরু নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু কোনোভাবেই একটি কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি একটি কোমল পানীয় এর নামের সঙ্গে সংগতি ও সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়। জীবনে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সফলতা ও ন্যায়পরায়নতার কারণে যিনি সর্বজন শ্রদ্ধেয়, তিনি গুরু খেতাবে ভূষিত হন।

কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থ দিলো আর বিজ্ঞাপন প্রচার করলাম এটি যদি হয় কোনো টিভি চ্যানেলের বিজ্ঞাপন প্রচারের নিয়ম তাহলে সেটা খুবই দুঃখজনক। আমার মনে হয়, সরকারি যে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার নীতিমালা রয়েছে তার সঙ্গেও এটি সংগতিপূর্ণ নয়। 

অনেকের সঙ্গে কথা বলে বুঝা গেলো, গুরু শব্দটি পবিত্র, বৈদিক, সনাতন ধর্মের আদি শব্দ। এই নামে কোনো পণ্যের নামকরণ ঠিক হয়নি। যা অনৈতিক, বাঙালি ও ধর্মীয় সংস্কৃতি এবং মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের অন্তরায়। যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। এই পণ্যের মাধ্যমে গুরু শব্দকে খাট এবং বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অবিলম্বে এই পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধ করার পাশাপাশি এই পণ্যের নামও পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

আর রাসায়নিক বা কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি ঐ সফট ড্রিংকস বা কোমল পানীয়ের নাম যদি রাখা হয় গুরু (GURU)।  এবং যার বিজ্ঞাপনে যুবাদের দিয়ে অশালীন নৃত্যের মাধ্যমে পানীয়কে আকর্ষণীয় করার জন্য কোনো যুবতী নারী বা কোনো যুবক পুরুষকে এই ড্রিংকস অফার করে বলে ‘গুরু এইবার হোকে শুরু’। এ যে গুরু শব্দের কত বড় অবমাননা তা কল্পনাও করা যায় না। গুরু শব্দের এভাবে ব্যবহার সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতেরও শামিল। কারণ গুরু শব্দটি এসেছে ‘বেদ’ থেকে।

বিজ্ঞাপন সম্প্রচার সংক্রান্ত নীতিমালা (২০১৩) অনুযায়ীঃ-

৪.১.২ বেতার এবং টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের ভাষা, দৃশ্য কিংবা নির্দেশনা কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক অনুভূতির প্রতি পীড়াদায়ক হবে না। ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহারের মাধ্যমে পণ্যের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ইত্যাদি স্থানের ধর্মীয় স্থিরচিত্র কিংবা চলমান চিত্র প্রদর্শন করা যাবে না। তবে বিজ্ঞাপন চিত্রে ব্যবহৃত বিষয়বস্তুর প্রয়োজনে ধর্মীয় অনুভূতিকে আহত না করে এ ধরণের প্রতিষ্ঠানের চিত্র প্রদর্শন বিবেচনা করা যেতে পারে।

৪.২ পণ্য, পণ্যের মান এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণঃ
৪.২.২ বিজ্ঞাপনে এমন কোনো বর্ণনা বা দাবি প্রচার করা যাবে না, যাতে জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রতারিত হতে পারে।

৪.২.৫ বিজ্ঞাপনের অডিও মানস্মমত এবং শ্রুতিমধুর হতে হবে, অতি কোলাহলপূর্ণ ও কর্ণপীড়াদায়ক হবে না। বিজ্ঞাপনে নোংরা ও অশ্লীল শব্দ, উক্ত, সংলাপ, জিঙ্গেল ও গালিগালাজ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।

৪.৩.২ কোন বিজ্ঞাপন শোভনীয়, সুন্দর, সুরুচিপূর্ণ ও পরিমার্জিত কিনা এ বিষয়ে কোনোরুপ দ্বিধা/সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেলকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

৪.৩.৩ বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং যা শিশু কিশোর এবং যুব সমাজের মধ্যে হতাশা বা সংস্কৃতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সেই ধরণের বিজ্ঞাপন গ্রহণযোগ্য হবে না। কিশোর বা যুব সমাজ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় হয় এবং শারীরিক অক্ষম বা দৈহিক বর্ণকৈ কেন্দ্র করে কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না এবং শ্রমের মর্যাদা থেকে বিরত রাখার কোনো ধারণাকে গ্রহণ করা যাবে না।

৪.৩.৪ বেতার এবং টেলিভিশন বিজ্ঞাপন দেশের প্রচলিত আইন, রীতি-নীতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। 

৪.৪.৫ যে কোনো খাদ্য বা পানীয় এর বিজ্ঞাপনে উক্ত খাদ্য বা পানীয়ের পুষ্টি ও খাদ্য গুণ এবং স্বাস্থ্যগত প্রভাব সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে এবং সুপার ইম্পোজ করে স্পষ্টাক্ষরে দেখাতে হবে।

অথচ এই পণ্যের বিজ্ঞাপনে কোনো পুষ্টিগুণ দূরের কথা, এই পানীয় পানের স্বাস্থ্যগত কি প্রভাব হতে পারে তারও উল্লেখ নেই। এই বিজ্ঞপনটি যেমন অশ্লীল ও ধর্মীয়  অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। এবং বাঙালি সংস্কৃতির পরিপস্থী। সর্বোপরি বিজ্ঞাপন প্রচার নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপস্থী।

লেখক: এম এ হাকিম, নিম গবেষক

Dr. Neem