Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি লিটনের


আগামী নিউজ | ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২২, ০৪:৩৬ পিএম
টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি লিটনের

ঢাকাঃ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচের একমাত্র ইনিংসেই সেঞ্চুরির সুযোগ পেয়েছিলেন লিটন দাস। কিন্তু অফস্ট্যাম্পের অনেক বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে আউট হয়ে যান ৮৮ রান করে। সেঞ্চুরি মিসের সেই আক্ষেপ মেটাতে একদমই সময় নিলেন না এ উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

ঢাকায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসেই জাদুকরী তিন অঙ্কের দেখা পেলেন লিটন। মাত্র ২৪ রানে ৫ উইকেট পতনের পর উইকেটে এসে দলকে চাপমুক্ত করে ব্যক্তিগত এ মাইলফলকে পৌঁছে গেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূরণ করতে ১৪৯ বল খেলেছেন লিটন, যেখানে ছিল ১৩টি চারের মার।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬৪.২ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৩ রান। অবিচ্ছিন্ন ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে এরই মধ্যে ১৮৯ রান যোগ করে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন। ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে মুশফিক খেলছেন ৮৭ রান নিয়ে, লিটন অপরাজিত ১০৬ রানে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর নিজেরাই নিজেদের বিপদে ফেলে বাংলাদেশ। যার বড় প্রমাণ লিটন-মুশফিকের অবিচ্ছিন্ন জুটি। উইকেট যে ব্যাটিং সহায়ক তার বড় প্রমাণ এই দুজন। বাকিরা কৌশলী হতে পারেননি বলেই ৪২ মিনিটে বিদায় নেন ৫ প্রতিষ্ঠিত ব্যাটার!

২৪ রানে ৫ উইকেটে পড়বার পরই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যায় মুশফিকুর রহিম-লিটন দাস জুটি। প্রথম সেশনে অবিচ্ছিন্ন থেকে দ্বিতীয় সেশনে রীতিমত শাসন করেন লঙ্কানদের ওপর। সেই আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে তৃতীয় সেশনেও। তাতে ষষ্ঠ উইকেটে গড়া হয়েছে দুইশো ছাড়ানো রেকর্ড জুটির। ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের আগের সেরা জুটিটি ছিল আশরাফুল-মুশফিকের ১৯১ রান। ২০০৭ সালে এই লঙ্কানদের বিপক্ষেই তা এসেছিল।

মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামলেও শুরুতে বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেয় লঙ্কান পেস বোলিং। প্রথমে দুই ওভারে স্বাগতিকদের দুই ওপেনারকে সাজঘরে পাঠায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম বলটি ফুলার লেংথে দিয়ে মাহমুদুল হাসান জয়কে ভড়কে দিয়েছিলেন পেসার কাসুন রাজিথা। দ্বিতীয় বলে দুর্বল ডিফেন্সের খেসাড়তও দেন বোল্ড হয়ে। ফুটওয়ার্ক ঠিকমতো না করায় বল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। তাতে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল। দ্বিতীয় ওভারে তামিম ইকবালও ফেরেন ডাক মেরে। আরেক পেসার আসিথা ফার্নান্ডোর লেংথ বল লেগ সাইডে খেলতে গেলে তা লিডিং এজ হয়ে জমা পড়ে পয়েন্টে থাকা জয়াবিক্রমার হাতে।

তার পর মাঠে নামা অধিনায়ক মুমিনুল হকের ব্যাটিংও স্বস্তি এনে দিতে পারেনি। বাজে ফর্মে থাকা এই বামহাতি দুটি চার মেরে স্কোরবোর্ডে রান যোগ করলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। বরং বিপদ বাড়িয়ে দেন আরও। ফার্নান্ডোর অফ স্টাম্পের বাইরের লেংথ বল খেলবেন কি খেলবেন না, এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন। কিন্তু ব্যাট নামাতে দেরি করায় বল এজ হয়ে জমা পড়ে কিপারের গ্লাভসে। শেষ টেস্টে ২ রান করা মুমিনুল এবার করতে পেরেছেন ৯ রান।

তার পর বাংলাদেশকে ধ্বসস্তুপে পরিণত করে ছাড়েন রাজিথা। প্রথম টেস্টে দারুণ বল করা এই পেসার পর পর জোড়া আঘাতে সাজঘরে ফেরান নাজমুল হোসেন শান্ত ও সাকিব আল হাসানকে। তার সপ্তম ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে ভেতরে টার্ন করা বল বিলাসী ভঙ্গিতে ড্রাইভ করতে গিয়েছিলেন নাজমুল। কিন্তু বল ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে স্টাম্পে আঘাত করলে ৮ রানে ফেরেন এই ব্যাটার।

সাকিব তার পরের বলেই এলবিডাব্লিউ হয়েছেন। একই রকম ভেতরে ঢুকে পড়া ডেলিভারি দিলে পরাস্ত হন তিনি। লঙ্কানদের জোরালো আবেদনে আম্পায়ারও সাড়া দেন সঙ্গে সঙ্গে। বামহাতি অলরাউন্ডার রিভিউ নিলেও সাফল্য আসেনি তাতে। আম্পায়ার্স কলে শেষ পর্যন্ত শূন্য রানে ফিরেছেন এই অলরাউন্ডার।     

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দলটিকে তার পর দিশা দেখিয়েছে মুশফিক-লিটনের দৃঢ়চেতা ব্যাটিং। তবে দ্বিতীয় সেশনে ৩৮.১ ওভারে ফিফটির আগেই ফিরতে পারতেন লিটন। আসিথা ফার্নান্ডোর শর্ট বলে হুক করতে গিয়েছিলেন। বল টপ এজ হয়ে বাতাসে উঠলেও তা হাতে জমাতে পারেননি বদলি খেলোয়াড় কামিন্দু মেন্ডিস। তাতে ৪৭ রানে জীবন পান তিনি। তিন বল পর চার মেরে পূরণ করেন ফিফটি। প্রথম সেশনে নবম ওভারেও স্লিপে ক্যাচ গিয়েছিল লিটনের। ভাগ্যভালো যে আগেই তা মাটিতে ড্রপ খেয়েছে। 

এমবুইউ