Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

৩ উইকেট হারিয়ে চা খেতে গেল বাংলাদেশ দল


আগামী নিউজ | ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৭, ২০২১, ০৩:৫৪ পিএম
৩ উইকেট হারিয়ে চা খেতে গেল বাংলাদেশ দল

ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকাঃ মিরপুর টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয়ের ওপর আস্থা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেকও হয়েছে। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর ওপেনিংয়ে নামলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না। অভিষেকেই শূন্য রানে সাজঘরে ফিরেছেন। তার বিদায়ের পর পর ধৈর্য্য পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকও। তাতে চা বিরতির আগেই প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের সংগ্রহ ২২ রান। ক্রিজে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (১৩)। বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে ২৭৮ রানে। 

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী জয় আউট হয়েছেন তৃতীয় ওভারে। সাজিদ খানের অফস্পিনে একটু এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আউটসাইড এজ হয়ে বল জমা পড়ে স্লিপে থাকা বাবর আজমের হাতে। ৭ বল খেললেও তিনি রান করতে পারেননি কোনও। 

পাকিস্তানের মতো ভেজা পিচে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বাংলাদেশকেও। বাড়তি বাউন্সের কারণে ক্যাচ আউট হতে হয়েছে সাদমানকে। কাট করতে গিয়ে এই ওপেনার ফিরেছেন মাত্র ৩ রানে। তার পরের আউটটি ছিল দুর্ভাগ্যজনক। দ্রুত রান নেওয়ার তাড়ায় রানআউট হয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক (১)।   

এর আগে ৪ উইকেটে ৩০০ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে ফাওয়াদ আলম অপরাজিত থাকেন ৫০ রানে। খেলেছেন ৯০ বল, মেরেছেন ৭টি চার। রিজওয়ানও ৯৪ বল খেলে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকেছেন।       

বৃষ্টিতে প্রায় দুটি দিন নষ্ট হওয়ার পর শুরু হয়েছে এই টেস্ট। টস জিতে ব্যাট করা পাকিস্তান খেলা শুরু করে ২ উইকেটে ১৮৮ রান নিয়ে। শুরুতে তাদের ওপর আধিপত্য দেখান স্বাগতিক পেসাররা। প্রতিরোধ গড়া আজহার-বাবরকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন এবাদত-খালেদ। তবে প্রথম সেশন শেষের আগে সেই ধাক্কা সামলে উঠেন রিজওয়ান-ফাওয়াদ।

মাঠে খেলা গড়ালে দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। মিরপুরে ৭০ রানে ২ উইকেট পড়ার পর বাবর-আজহার জুটিই প্রতিরোধ গড়ে দাঁড়িয়েছিল। ১২৩ রানের এই জুটি ভাঙে এবাদত হোসেনের কল্যাণে। তার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন আজহার। বল টপ এজ হয়ে জমা পড়ে লিটন দাসের গ্লাভসে। আজহার ১৪৪ বলে ৫৬ রান করে ফিরেছেন।

অপরপ্রান্তে সেঞ্চুরির আশায় থাকা পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজমও টেকেননি বেশিক্ষণ। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বিদায় দিয়েছেন পেসার খালেদ আহমেদ। তার হঠাৎ নিচু হয়ে পড়া বল আঘাত করে বাবরের প্যডে। তিনি রিভিউ নিয়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও অনফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল থেকেছে। ১২৬ বলে ৭৬ রান করে ফেরেন বাবর। তাতে ছিল ৯টি চার ও একটি ছয়। এটি খালেদের প্রথম টেস্ট উইকেট।  

এর পর জুটি গড়ে দ্রুত গতিতে ব্যাট চালিয়ে খেলেছেন ফাওয়াদ-রিজওয়ান। অবশ্য এই জুটি এতদূর যেত না যদি ফাওয়াদ আলমকে ফেরানো যেত। এবাদতের ৭৩তম ওভারের শেষ বলে ফাওয়াদকে আউটের সুবর্ণ সুযোগ ছিল। আলট্রা এজে দেখা গেছে বল তার ব্যাট ছুঁয়েই লিটনের গ্লাভসে জমা পড়েছিল। কিন্তু স্বাগতিক শিবিরের কেউ আবেদনই করেনি তখন!

এর আগে এবাদতের বলে রিভিউ নিয়ে বাঁচেন রিজওয়ান। ৭৯তম ওভারেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে এলবিডাব্লিউ হয়েছিলেন এই ব্যাটার। কিন্তু সংশয় থাকায় তিনি রিভিউ নিয়েছিলেন। তাতে দেখা গেছে বল মিস করছে অফ স্টাম্প। পরে এই সুযোগগুলোই কাজে লাগান দুজন।

বিশেষ করে লাঞ্চ বিরতির পর হাত খুলে মারার চেষ্টা করেন তারা। তাতে রিজওয়ানকে আউট করার স্পষ্টও এসেছিল। মেরে খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু বল হাতে জমাতে ব্যর্থ হয়েছেন তাইজুল।

শুরুতে বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৯টায় খেলা শুরু করা যায়নি। বৃষ্টি থামার পর মাঠ খেলার উপযোগী করতে খানিকটা সময় লেগেছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়েছে চতুর্থ দিনের খেলা।

আগামীনিউজ/বুরহান