Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

টিকিট কাটতে যাত্রীদের ভোগান্তি থাকলেও কমেছে কালোবাজারি


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মার্চ ১৬, ২০২৩, ০৯:১০ পিএম
টিকিট কাটতে যাত্রীদের ভোগান্তি থাকলেও কমেছে কালোবাজারি

রেলের টিকিট বিক্রিতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এ নতুন নিয়মে টিকিট কাটতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে নীলফামারীর ট্রেন যাত্রীদের। রেজিস্ট্রেশন করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে অনেককেই। সার্ভার জটিলতার কারণে ধীরগতিতে চলছে টিকিট বিক্রি। স্থানীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীরা ঠিকমতো টিকিট কেটে ট্রেনে উঠেছেন কিনা তা তদারকি করছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ট্রেনের টিকিট কাটতে আসা বেশির ভাগ যাত্রীরা।

যাত্রীরা বলছেন, নতুন নিয়মে টিকিট কাটার পদ্ধতি কিছুটা কঠিন। স্টেশনের যাত্রীদের জন্য আলাদা একটি রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার থাকার কথা থাকলেও সেটি বসানো হয়নি। নেই তথ্য সেবাকেন্দ্র। তবে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন যাত্রীরা। কারণ, নতুন এ পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি শুরুর পর থেকে যাত্রীদের কালোবাজারিদের কাছে ধরনা দিতে হচ্ছে না। এছাড়া রেলস্টেশনে এসে চাহিদামতো যাত্রার টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জেলার চিলাহাটি, ডোমার, নীলফামারী ও সৈয়দপুর স্টেশন থেকে প্রতিদিন ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা রুটে পাঁচটি আন্তনগর ও একটি মেইল ট্রেন চলাচল করে। চার স্টেশন থেকে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষসহ রংপুরের তারাগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড়ের যাত্রীরা যাতায়াত করেন এই রুটে। 

যাত্রীসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ স্লোগানকে সামনে রেখে গত পহেলা মার্চ থেকে ট্রেনের টিকিট কেনার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু টিকিট কেনার নতুন নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত না জানায় স্টেশনে এসে বিপাকে পড়ছেন অনেকে।

 

সরেজমিন স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, মোবাইল ও এনআইডি না নিয়ে টিকিট কাউন্টারে এসে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়ছেন। অনেকে আবার ঠিকমতো নিবন্ধন করতে পারছেন না। আবার নিবন্ধন হতে দেরি হওয়ায় অনেকেই সঠিক সময়ে ট্রেন ধরতে পারছেন না। অনেক বয়স্ক যাত্রী নতুন নিয়মে টিকিট কাটার প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণাই নেই তাদের। তারাই বেশি বিপদে পড়েছেন। নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় নীলফামারীর রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রীদের জন্য আলাদা একটি রেজিস্ট্রেশন বুথের কথা থাকলেও সেটি বসানো হয়নি।

ঢাকা যাওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করেও টিকিট পাননি ইসফাত জেরিন। তিনি বলেন, প্রথমে আমার এনআইডি দিয়ে চেষ্টা করেছি কিন্তু ইনভ্যালিড দেখায়। এরপর আমার স্বামীর এনআইডি দিয়ে চেষ্টা করছি, কিন্তু সেটিও ইনভ্যালিড দেখায়। কাউন্টারে গিয়ে অনুরোধ করলে তারা বলেন এসএমএস না আসলে টিকিট পাওয়া যাবে না।

সাইফুল ইসলাম সবুজ নামে আরেক যাত্রী বলেন, আমি নীলসাগর ট্রেনে প্রায়ই ঢাকা যাওয়া-আসা করি। আগেতো টিকিট ঠিকমত পাওয়া যেত না, সব কালোবাজারিদের দখলে ছিল। এখন রেলস্টেশনে এসে চাহিদামতো যাত্রার টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান নিয়মে যার টিকিট সে-ই ভ্রমন করতে পারতেছে। আমি মনে করি, এটা খুব ভালো হয়েছে।

dd

ডোমার পৌর এলাকার মাজেদুল ইসলাম বলেন, বারবার চেষ্টা করেও নিবন্ধনের ফিরতি মেসেজ পাইনি। গত  সোমবার একটি কম্পিউটার দোকান থেকে রেজিস্ট্রেশন করেছি। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুর হয়ে গেল ফিরতি মেসেজ পাইনি। এ কারণে টিকিট কাটতেও পারছি না।  

ডোমার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলাম বলেন, এটি নতুন পদ্ধতি তাই কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে স্টেশনে যাত্রীদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এখন অনলাইনে ঢুকে যাত্রীরা নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিজেই টিকিট কাটতে পারছেন। অন্য কারও টিকিট কাটার সুযোগ নেই।

নীলফামারী রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার ওবায়দুল ইসলাম রতন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকে টিকিট কালোবাজারি অনেকাংশে কমে গেছে। আগে যাত্রার তারিখের ৫ দিন আগে অনলাইনে টিকিট বিক্রি করা হত। তখন অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরুর ১৫ মিনিটের মধ্যে সব টিকিট বিক্রি হয়ে যেত। এটা কোনোভাবেই রোধ করা যেত না। তবে এখন যাত্রার দুই-তিন দিন আগেও অনলাইনে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। কাউন্টারেও টিকিট সহজলভ্য হয়েছে।

এসএস

আগামী নিউজ এর সংবাদ সবার আগে পেতে Follow Or Like করুন আগামী নিউজ এর ফেইসবুক পেজ এ , আগামী নিউজ এর টুইটার এবং সাবস্ক্রাইব করুন আগামী নিউজ ইউটিউব চ্যানেলে