August
Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim
৮বছর কারাদন্ড, জরিমানা ১০কোটি, ১০ বছর পলাতক

থেমে নেই ধরিএী প্রোপার্টিজের নামে ক্রাউন রেজার প্রতারনা!


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২২, ০৮:৫১ পিএম
থেমে নেই ধরিএী প্রোপার্টিজের নামে ক্রাউন রেজার প্রতারনা!

ফেসবুকে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের নমুনা, ইনসেটে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আতাউর রহমান রেজা

ঢাকাঃ আলোচিত ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাচারের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আতাউর রহমান রেজা প্রকাশ্যেই করছে অবৈধ এম এল এম ব্যবসা। সরকারি  প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ব্যবহার করে  বিক্রি করছে যৌন উত্তেজক ক্ষতিকর সামগ্রী, প্লট, 'ক্রাউন বাজার' নামে ডিলারশীপ প্রদান ও অতি লাভজনক বিনিয়োগের নামে করছে প্রতারণা আর সংগৃহীত অর্থ পাচার করছে মালয়েশিয়া ও দুবাইয়ে।

৮ বছর করে কারাদণ্ড, ১০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছর কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামী এ.এইচ.এম আতাউর রহমান রেজা, যিনি বর্তমানে ক্রাউন টাচ গ্লোবাল লিঃ নামক আরও একটি অবৈধ  মাল্টিলেভেল  প্রতিষ্ঠানের কর্নধার এবং মাওয়া রোডে ধরিএী প্রোপার্টিজ লিঃ এর এমডি হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফেসবুকে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের নমুনা

ধরিএী প্রোপার্টিজ লিমিটেডের নামে ক্রাউন রেজা ফেসবুকে লোভনীয় বিজ্ঞাপন, লিফলেট এবং ব্যক্তি ভিজিটিং কার্ডের পিছনে বিভিন্ন অফার দিয়ে ঢাকা-মাওয়া রোডে সামান্য কিছু জমি ক্রয় করে  হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে এক জমি একাধিক জনের কাছে রেজিষ্টি করে না দিয়ে কিস্তি সুবিধার নাম করে প্রতারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার গুলশানে ওরিয়েন্টাল হোটেলে প্রতি শনিবার সন্ধা ৬ টায় বিভিন্ন অফিসের লোকজনকে দাওয়াত দিয়ে মগজ ধোলাই করে  হাজারহাজার লোকের কাছ থেকে মত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ক্রাউন রেজা। তার এই অফারের শর্ত হলো ১০ বছর পর কিস্তি শোধ করে প্লট বুঝিয়ে দেওয়া। তবে অনুসন্ধান করে জানা গেছে এক জমি বা ই ধরিএী প্রোপার্টিজের একাধিক ব্যক্তিকে দেখিয়ে প্রতারনা করছে ক্রাউন রেজা। এবাবে কেউ জানতে পারছে না একটা প্লট কত  জনের কাছে  বিক্রি করছেন তিনি। 

ফেসবুকে ধরিএী প্রোপার্টিজের শুভেচ্ছা পোষ্টার

প্রশ্ন হলো সে কিভাবে রাজধানীর প্রানকেন্দ্র তোপখানা রোড, সেগুন বাগিচা,শাহবাগে অবস্থিত অফিসে বসে এই প্রতারনা করে যাচ্ছে। জানা গেছে ০১৮৬৯-৭৫০১৯৯ মোবাইল নাম্বারটি অফিসে ব্যবহার করে ক্রাউন রেজা। 

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিনসহ ৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, তাদের ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১০ বছর পর চলতি বছরের ১২ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া আসামিদের মধ্যে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছেন। এই মামলায় চার জন আসামি জামিনে থাকলেও বাকিরা পলাতক।

আর বাংলা মটরের মত অভিজাত এলাকায় রুপায়ন টাউয়ারের ৭তলায় তিন লাখ টাকা ভাড়ায় বিলাসবহুল সুসজ্জিত অফিস চালয়িছেনে এততনি  এবং এখন শামছুন্নার কমপ্লেক্স,৬-এ,৩১/সি, তোপখানা রোড, সেগুন বাগিচায় আরও একটি অফিস নিয়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় পলাতক আসামী ক্রাউন রেজা চালাচ্ছেন এই অবৈধ ও প্রতারনামুলক কারবার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি এই ক্রাউন রেজা ডেসটিনির মতই জামাত বিএনপির পন্থী সুবিধালোভী কিছু সাংবাদিকের ছত্রছায়ায় নিউজ গ্লোবাল বিডি নামে একটি অনলাইন পত্রিকা চালু করেন। পরে নানা চাপে সেটি বন্ধ করে দেন।

জানা যায়, ইকর্মাস নামক প্রতারনা বানিজ্য প্রশাসনের নজরে এলে সাম্প্রতিক তিনি তার অফিস রূপায়ান টাওয়ার থেকে গুটিয়ে নিয়ে সেগুনবাগিচায় একই কায়দায় প্রতারনা মূলক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফেসবুকে লোভনীয় বিজ্ঞাপনের নমুনা

ক্রাউন রেজা নামে খ্যাত এই ব্যক্তি  ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের একজন ক্রাউন এক্সিকিউটিভ এবং ডেসটিনি মাল্টি-পারপাস কোঅপারেটিভ এর কোষাধক্ষ ছিলেন। যিনি বিলুপ্ত  ডেসটিনি ২০০০ লিঃ কোম্পানির দুর্নীতি মামলার একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী হিসেবে পলাতক আছেন। যেখানে ডেসটিনি ২০০০ লিঃ এর অর্থ- আত্মসাৎ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির  কর্ণধার সাজা প্রাপ্ত হয়ে জেলে সেই  অবস্থাতেও তিনি প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল দিখিয়ে দিব্বি ঘুরে বেডাচ্ছেন এবং অবৈধ  ব্যবসা ও  ভয়াবহ  প্রতারনার মাধ্যমে বিদেশে অর্থ  পাচার করছেন।

এছাড়া তিনি ধরিএী প্রোপার্টিজ লিঃ এর জমি এবং প্লট বিক্রির নামে শতশত মানুষদের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেই যাচ্ছেন। প্লট বুঝে না পেয়ে গ্রাহক  তাদের  টাকা ফেরত চাইলে নানা রকম ভয়ভীতি  এবং গুম করার   হুমকি দিচ্ছে ফলে তারা ভীষণ আতঙ্কে  আছে। এই ল্যান্ডের  নামে জনগন থেকে যে টাকা আমানত রাখা হচ্ছে এর বিরুদ্ধেও তার  নামে একাধিক মামলা ও রয়েছে বলে এক সূত্রে  জানা গেছে কিন্তু অজ্ঞাত কারনে প্রশাসন তার  কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না ফলে ভুক্তভোগীরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এসব অবৈধ টাকায় তার রয়েছে ঢাকায় নামে বেনামে একাধিক দামি ফ্লাট ও বিলাসবহুল গাড়ি।

এছাড়াও খন্দকার বেনজীর আহমেদকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড, ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর কারাবাসের রায় দেওয়া হয়েছে। তিনিও ক্রাউন রেজার মতো পলাতক আছেন। বর্তমানে ক্রাউন টাচ গ্লোবাল লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে আছেন।

ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাচারের মামলায় ক্রাউন টাচ গ্লোবাল লিঃ এর কান্টি ডিরেক্টর(মালয়েশিয়া) জাকির হোসেনকে ৯ বছর কারাদণ্ড, ১২৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতারনার কৌশল হিসেবে কখনো তার নিজ নামে, কখনো তার স্ত্রী,ভাই-বোন, ভাগ্নে বা আত্মীয়ের নামে  তিনি ব্যবসা পরিচালনা করেন। ইতিপূর্বে তিনি   মৈত্রী  প্রপারটিস, (নোয়াখালী টাউয়ার, পুরানা পল্টন), সেরাজেম( মালিবাগ), নিরাপদ হাসপাতাল (মালিবাগ মোড়, সি আই ডি অফিসের পাশে), পুষ্প ধারা হাউজিং( সিদ্ধেশরী),উদ্যোগ প্রপারটিজ লিঃ, ৪৫ বিজয় নগর ঢাকা  সহ আরও অনেক কোম্পানি খুলে বিভিন্ন ভাবে মানুষকে প্রতারনা করে সর্ব শান্ত করেছেন। কাওরান বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য কিনে এনে  অফিসে সাজিয়ে “ক্রাউন বাজার” নামে ভুয়া শোরুম দেয়ার কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা করে নিয়েছে এবং এখন ও নিচ্ছে ।

প্রশ্ন হলো ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বসে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর নজর এড়িয়ে ৮বছর কারাদন্ড, ১০কোটি জরিমানা, ১০ বছর পলাতক একজন আসামী কিভাবে এসব প্রতারনামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে?

এসএস

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের আরো খবর