Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

রেল যাত্রীদের নিরাপত্তায় কেনা হচ্ছে সিসি ক্যামেরাযুক্ত কোচ


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১, ১০:৫৭ পিএম
রেল যাত্রীদের নিরাপত্তায় কেনা হচ্ছে সিসি ক্যামেরাযুক্ত কোচ

প্রতিকি ছবি

ঢাকাঃ বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তায় ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাযুক্ত (সিসি ক্যামেরা) কোচ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। ওই লক্ষ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় চীন থেকে কেনা হচ্ছে ১০০টি বব্রড গেজ কোচ। ওই কোচগুলোতেই সিসি ক্যামেরা থাকবে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে ওসব কোচের স্পেসিফেকশন চূড়ান্ত করেছে।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণাধীন ঢাকা-যশোর রেলপথসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ওসব কোচ চলবে। তাছাড়া রেলওয়ে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) অর্থায়নেও ২০০টি ব্রড গেজ ও টেন্ডারার্স ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ২০০টি মিটার গেজ কোচ কিনতে যাচ্ছে। ওসব কোচেও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চীনের সিআরইসি তাংশান কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রথমবারের সিসি ক্যামেরাযুক্ত রেল কোচ কিনতে যাচ্ছে। ওসব কোচের মধ্যে রয়েছে ৪টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ, ১৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচ, ৫২টি শোভন চেয়ার কোচ, ১৮টি প্যান্ট্রি ও গার্ডবেব্রকসহ শোভন চেয়ার কোচ এবং ১০টি পাওয়ার কোচসহ শোভন চেয়ার কোচ। ওসব কোচের প্রতিটিতেই সিসি ক্যামেরা থাকবে। চেয়ারকোচগুলোতে কোচের ভেতরেই ক্যামেরাগুলো বসানো থাকবে। আর স্লিপার কোচে করিডোরে ক্যামেরা লাগানো থাকবে। সম্প্রতি রেল ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় ওসব বিষয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে নতুন কোচগুলোতে আধুনিক টয়লেট, ওয়াশিং বেসিন, স্লাইডিং দরজা, টিভি মনিটর, পরিবেশবান্ধব বায়োটয়লেট, শারীরিকভাবে অক্ষম যাত্রীদের জন্য বিশেষ ধরনের টয়লেটসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও রাখা হবে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০১১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩০০টি মিটার গেজ ও ২২০টি ব্রড গেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনা হয়েছে। সব মিলে বাংলাদেশ রেলওয়েতে বর্তমানে ১ হাজার ৬৭১টি সচল যাত্রীবাহী কোচ আছে। তার মধ্যে ১ হাজার ২০৩টি মিটার গেজ কোচ এবং বাকিগুলো ব্রড গেজ। মিটার গেজ ও ব্রড গেজ মিলে বর্তমানে এসি কোচ রয়েছে ২১৬টি আর নন-এসি কোচের সংখ্যা ১ হাজার ৪৫৫টি। কিন্তু রেলের বহরে দেড় হাজারের বেশি কোচ থাকলেও সেগুলোর সিংহভাগেরই অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ। ইতিমধ্যে যাত্রীবাহী ১ হাজার ৭৭১টি কোচের মধ্যে ৫৯২টি মিটার গেজ ও ২৬৬টি ব্রড গেজ বগির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। শতাংশের হিসাবে রেলের আয়ুষ্কাল ফুরিয়ে যাওয়া কোচের পরিমাণ ৪৭ ভাগ। আর রেলের প্রায় অর্ধেক কোচের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ায় ট্রেন পরিচালনা মারাত্মকভাবে বিঘিন্ত হচ্ছে।

এদিকে এ প্রসঙ্গে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানান, বলতে গেলে ১৯৭৫ সালের পর থেকেই রেলের উন্নয়ন থমকে গেছে। ওই সময়ে সড়কপথে যতো উন্নতি হয়েছে, রেলে তার ছিঁটেফোঁটাও লাগেনি। ২০১৯ সালে আওয়ামী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর রেলকে আলাদা মন্ত্রণালয় করা হয়েছে। রেলের উন্নয়নে একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত এক দশকে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৩ শতাধিক নতুন কোচ কেনা হয়েছে। কোচ কেনার জন্য আরো একাধিক প্রকল্প চলমান আছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আজকে যেভাবে রেলের উন্নতি হচ্ছে, তাতে আশা করা যায় কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি উন্নত ও আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

আগামীনিউজ/শরিফ