Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim
বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস প্রস্তুত

নৌযাত্রী ব্যবস্থাপনায় নতুন সংযোজন ওয়াচ টাওয়ার


আগামী নিউজ | তরিকুল ইসলাম সুমন প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২০, ০৮:৪৩ পিএম
নৌযাত্রী ব্যবস্থাপনায় নতুন সংযোজন ওয়াচ টাওয়ার

ঢাকা : আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও যাত্রী সামাল দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেবাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং লঞ্চ মালিক সমিতি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকবার ঈদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে একগুচ্ছ কর্মপ্রণালী প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন এগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে এবারের  ঈদে নৌপথে যাত্রা হবে নির্বিঘ্ন।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক আগামী নিউজকে জানান, যাত্রীদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস চালুর জন্য বেশ কিছু নৌযান প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঈদের পরেও যাত্রী আনার জন্যও একই ব্যবস্থা করা হবে। তবে এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনায় নতুন সংযোজন হচ্ছে নতুন ভবনের ছাদে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। এ টাওয়ারের মাধ্যমে আশপাশের এলাকা মনিটরিং করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এবার করোনা পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য নানাবিধ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নৌযানে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধ এবং মাস্টার ড্রাইভার দিয়ে লঞ্চ পরিচালনার জন্য নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ঢাকা সদরঘাট নৌবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিআইডব্লিউটিএ যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন আগামী নিউজকে বলেন, ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে স্থাপন করা হয়েছে মনিটরিং ক্যাম্প। এ জায়গা থেকে নির্দিষ্ট নৌরুটের যাত্রীদের নির্দিষ্ট ঘাটে পাঠানো হবে। কোরবানির ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সব ধরনের বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। মানুষের চাপ সামাল দিতে ও পন্টুনে অতিরিক্ত যাত্রী যেন যেতে না পারে এজন্য টার্মিনালগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। টার্মিনাল এলাকায় জীবানু নাশক ট্যানেল এবং নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এছাড়াও নিয়ম না মানলে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবন। ঈদ ব্যবস্থাপনায় একটি কমিটি গঠন করা হবে। লঞ্চে মাঝ নদী থেকে যাত্রী নেয়া যাবে না। কেউ যাত্রী নিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও লঞ্চ মালিকদের জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এ সময়ে যাতে করে লঞ্চে মোটর সাইকেল বা মালামাল পরিবহন না করেন সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

নৌ নিরাপত্তা বিভাগ সূত্র জানায়, এবার এলাকাভিত্তিক লঞ্চ ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে- বরিশালের লঞ্চ থাকবে ও ছেড়ে যাবে ১, ২ ও ৩ নম্বর গ্যাংওয়ে থেকে, হুলারহাট-ভান্ডারিয়াগামী লঞ্চ ৫ ও ৬ নং গ্যাংওয়ে, ঝালকাঠি মাদারীপুর- ৪ নম্বর গ্যাংওয়ে, রায়েন্দা, গোমা, মুলাদি, ভাষাণচর ৭ নম্বর গ্যাংওয়ে, সবুজবাগ, আমতলী, পয়সার হাট, বরগুনা ৮ নম্বর গ্যাংওয়ে, লালমোহন, বেতুয়া, কালাইয়া ৯ নম্বর গ্যাংওয়ে, হাতিয়া, মাষ্টারহাট, দৌলত খাঁন ১০ নম্বর গ্যাংওয়ে, বোরহানউদ্দিন, পাতারহাট, ভোলা, ১১ নম্বর গ্যাংওয়ে, ভোলা লেতরা, ঘোষের হাট ১২ নম্বর গ্যাংওয়ে, রাঙ্গাবালী, টরকী ১৩ নং গ্যাংওয়ে, সুরেশ্বর, ওয়াপদা, দুবলার চর বালাবাজারগামী লঞ্চ ১৩ নম্বর গ্যাংওয়ে, গ্রীণ লাইন (ডে সার্ভিস), চাঁদপুরগামী লঞ্চ, এবং বিআইডব্লিউটিসির রকেট স্টিমার লালকুঠি ঘাটে বার্থিং করবে এবং ছেড়ে যাবে। পটুয়াখালী ও গলাচিপার লঞ্চ থাকবে ওয়াইজ ঘাটের গ্যাংওয়েতে।

এছাড়াও করোনা দুর্যোগে বিভিন্ন নদী বন্দরে যাত্রী পরিবহনে স্বাস্হ্য বিধি পালন করা ও তদারকির ব্যবস্থা, নৌপথে যাত্রী চাহিদা বিবেচনা করে লঞ্চ সংখ‍্যা বৃদ্ধি, বিভিন্ন নদী বন্দরে রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব‍্যবস্থা, বন্দর এলাকায় ছোট নৌকায় যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ, যে কোনো অবস্থায় ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ, নৌপথে প্রশাসনের মাধ‍্যমে টহল বৃদ্ধি, বন্দর এলাকা যানজটমুক্ত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ টহল বৃদ্ধসহ মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক নিশ্চিত করার উগ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আগামীনিউজ/তরিকুল/এমজামান

Dr. Neem