Agaminews
Dr. Neem Hakim

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষে সংক্রামিত ৭৫ শতাংশই প্রাণীরোগ


আগামী নিউজ | তরিকুল ইসলাম সুমন প্রকাশিত: মে ২০, ২০২০, ১০:১৯ এএম
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষে সংক্রামিত ৭৫ শতাংশই প্রাণীরোগ

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বিশ্বের মানুষ। একদিকে বরফ গলছে, অন্যদিকে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আবহাওয়া ও জলবায়ুর তারতম্য বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং প্রাণীরোগ। নানা কারণে প্রণীদেহ থেকে মানুষের শরীরে সংক্রামিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য, ডেইরি ও পোল্ট্রি সেক্টর সংশ্লিষ্ট প্রাণী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মোসাদ্দেক হোসাইন এই প্রতিবেদককে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের দেশের চাহিদা পূরণে বাড়ছে (মৎস্য, ডেইরি ও পোল্ট্রি) বাণিজ্যিক খামার। তবে এসব খামারের বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নানা রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে খামার। এসব রোগ প্রতিরোধের জন্য যেসব ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে বা ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ওষুধের প্রভাব পড়ছে খামারে উৎপাদিত মাংস, দুধ এবং ডিমে। এসব মানবদেহে প্রবেশ করে নানা রকমের রোগ ব্যাধি বাসা বাঁধছে। এসব সংক্রামিত গবাদিপশুর সান্নিধ্যে বা সহচর্যে যাওয়া মানুষের শরীরেও সরাসরি ঢুকছে পশু রোগ।

তিনি আরো বলেন, অনেক ক্ষেত্রে খাদ্য ও পানীয়জলের সংস্পর্শে আসছে অনেক পশু-পাখি। তাদের লালা থেকেও ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ। এছাড়াও রয়েছে ট্রান্সবাউন্ডারি নানা প্রাণী রোগ। বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আসা নানা প্রাণী স্কানিং না করেই প্রবেশ করছে দেশের অভ্যন্তরে এসব প্রাণীদের থেকেও আমরা সংক্রামিত হচ্ছি।

ঢাকা চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ডা. নজরুল ইসলাম বলেন আগামীনিউজ ডটকমকে বলেন, পৃথিবীতে মানুষের শরীরে যত রোগ হচ্ছে তার ৭৫ শতাংশ রোগ হচ্ছে পশুদের অর্জিন। সাধারণত প্রাণীর সহচর্যে আসার কারণেই নানা রোগ ছড়ায়। জীবন জীবিকা হোক বা পোশ মানানো সহ নানা করনে মানুষ প্রাণীকুলের সহচর্যে আসছে। 

কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের সাবেক প্রধান চিকিৎসক ডা. মো. শহীদুউল্লাহ আগামীনিউজকে বলেন জলবায়ুর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন অনেক রোগ দেখা দিয়েছে। এসব রোগ এখন শুধু পশুতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এসব পশু গোশত, রক্ত, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ছে মানবদেহে। এ থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য ওয়ার্ল্ড এনিমেল হেলফ অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কারিকুলাম তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বণ্য প্রাণীর চিকিৎসার বিষয়টিও পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। অ্যানথ্রাক্স, রাণীক্ষেত, ক্ষুরা রোগ, যক্ষা, সোয়াইন ফ্লু, বার্ড ফ্লু, মার্স, সার্স, করোনা ভাইরাস (যা বাদুড় থেকে ছড়ায়), জিকা ভাইরাস শক্তিশালী হয়ে মানুষের দেহে প্রবেশ করছে। প্রাণীরোগ মানুষের দেহে প্রবেশ করে তা মহামারি আকার ধারণ করছে। বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমনে বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করছে। মারা যাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, কিছু রোগ আছে যা পশু থেকে মানুষ এবং মানুষ থেকে প্রাণীতে ছড়ায়। এসব রোগের কারণে আমরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছি। আবার অনেক রোগ শক্তিশালী হচ্ছে। এসব রোগ নিরাময়ে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত মাত্রার ভ্যাকসিন।

তিনি আরো বলেন, যাতে করে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় এজন্য আমরা বনবিভাগ, এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছি। যাতে করে ট্রান্সবাউন্ডারি রোগ দেশে ছড়াতে না পারে এজন্যও আমরা কাজ করছি। দেশের প্রতিটি ল্যান্ড ও সি পোর্ট এলাকায় একটি করে কোয়ারেন্টন (পশুর সঙ্গ রোধক করার) হাউস করার পাশাপাশি ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। আমদানি করা পশু অবজারভেশন এবং ল্যাবরেটরি টেস্ট উত্তীর্ণ হলেই দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে।

আগামীনিউজ/তরিকুল/মিজান  

Dr. Neem

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের আরো খবর