Agaminews
Dr. Neem
রংপুর বনায়ন প্রকল্প

গাড়ি-যন্ত্রপাতি কেনাতেই কাজ সীমাবদ্ধ, ফের বাড়ছে ব্যয়


আগামী নিউজ | সাইফুল হক মিঠু প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২০, ০৮:০৭ পিএম
গাড়ি-যন্ত্রপাতি কেনাতেই কাজ সীমাবদ্ধ, ফের বাড়ছে ব্যয়

বন রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় বৃহত্তর রংপুর জেলায় টেকশই সামাজিক বনায়ন উন্নয়ন প্রকল্পে আরো ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় বাড়াতে চায় বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়।

৩ বছরে যানবাহন ও যন্ত্রপাতি কেনা ছাড়া প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না থাকার পরেও টাকা ও সময় বাড়ানোর আবদার করেছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এসব তথ্য পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

সরকার নিজস্ব অর্থায়নে রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাটের ৩৫ উপজেলায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর বিভাগের পরিবেশ রক্ষায় ও জীববৈচিত্র্যের মান উন্নয়নে ১৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার প্রকল্প নেয় পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়। ‘বৃহত্তর রংপুর জেলায় টেকশই সামাজিক বনায়ন উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের প্রকল্পটি ২০১৭ সালের পহেলা জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা ছিল বন অধিদফতরের। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি।

আনুমানিক ব্যয়ের চেয়ে ২২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়ে ও আরো এক বছর সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চায় বন অধিদফতর।

৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পটির সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করে পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়। গত বছরের নভেম্বর মাসের ৫ তারিখ পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্পটির পিআইসি কমিটির ৩য় সভা অনুষ্ঠিত হয়। একই মাসের ২০ তারিখ ২য় পিইসি সভায় প্রকল্পটি নিয়ে আবারো আলোচনা হয়।

এতে প্রকল্পের ব্যয় অনুমোদিত ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) চেয়ে বেশি ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।  অনুমোদন পেলে প্রকল্পের নতুন ব্যয় দাঁড়াবে ২২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর মেয়াদ ১ বছর বেড়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের জুনের পরিবর্তে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ পাবে এই প্রকল্পটি।

তবে এখনই সেই সংশোধনী পায়নি অনুমোদন। প্রকল্পটি নিয়ে আরো যাচাই বাছাই চলছে বলে জানা গেছে।

প্রকল্পটি সংশোধনের জন্য তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে সংশোধনীতে।

২০১৮-১৯ সালে সৃজিত ৭৫০ সিডলিং কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানের ওয়াচিং বাবদ ২০২০-২১ সালে কোনো সংস্থার বরাদ্দ না থাকায়, প্রকল্পে অতিরিক্ত ২ হাজার ৯ শত ১৮ জন উপকারভোগী সদস্যের প্রশিক্ষণ ব্যয় বাড়ায়, ২০১৪ সালের রেট সিডিউল অনুযায়ী মিঠাপুকুর ও হাতীবান্ধা ইকোপার্কের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ব্যয় থাকায় তা ২০১৮ সালের রেট সিডিউল অনুযায়ী সঙ্গতিপূর্ণ করতে বাড়তি অর্থ প্রয়োজন বলে সংশোধিত ডিপিপিতে জানানো হয়।

আর ২০১৮ -১৯ সালে সৃজিত ৭৫০ সিডলিং কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান, ১৫০ হেক্টর উডলট বাগান, ৭৫০ মিটার রানিং মিটারে জীবন্ত বেড়া বনায়নের রক্ষণাবেক্ষণ জন্য প্রকল্পের মেয়াদ ১ বছর বাড়ানো প্রয়োজন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের প্রধান কাজ যেমন বাগান সৃজন, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্র‍য় সম্পন্ন হয়েছে। এই সময় পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত অগ্রগতির পরিমাণ ১৮৩ লাখ টাকা।

প্রকল্পের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ১৫০০ সিডলিং কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান সৃজন, মিঠাপুকুর ও ডোমার রেঞ্জের জবরদখলকৃত সরকারি বনভূমি উদ্ধার করে ২৫০ মিটার বাগান সৃজন, মিঠাপুকুর হাতীবান্ধা ইকোপার্কে ৩ হাজার রানিং জীবন্ত বেড়া বনায়ন, মিঠাপুকুর ও হাতীবান্ধা  ইকোপার্কে ৬৪৭৫ রানিং মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, স্ট্রিপ ও ব্লক বাগানের সাথে সম্পৃক্ত ৫ হাজার ২০০ জন উপকারভোগী সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান, স্থানীয় জনগণের সাথে সরকারি বনভূমির সীমানা বিরোধ নিরসনকল্পে ৫০০টি স্থায়ী সীমানা পিলার নির্মাণ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বৃহত্তর রংপুর বিভাগে ইকো ট্যুরিজম সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় আর্থসামাজিক বনায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। বনভূমি উদ্ধার ইকো-পার্কসহ সকল প্রটেক্টেড এরিয়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করে জীব বৈচিত্র ও বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন, চুক্তি প্রটোকলের বিধি-বিধান অনুসরণ ও বাস্তবায়ন হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগে বন ও পরিবেশ উইংয়ের যুগ্ম প্রধান মো. শাহজাহান তার সুপারিশে বলেন, মেয়াদ বৃদ্ধি বিবেচনা করা না হলে প্রকল্প সংশোধনের প্রয়োজন হবে না।

এছাড়া সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অতিরিক্ত অর্থ চাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রকল্প নির্মাণ খাতে ইকোপার্ক ও বিভিন্ন অফিসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের জন্য মূল ডিপিপিতে ৬৪৭৫ রানিং মিটারের জন্য ৫৭৩ লাখ টাকার সংস্থান রয়েছে। ডিপিপি সংশোধনের কারণ হিসেবে পিডাব্লিউডির হালনাগাদ রেট সিডিউল অনুসারে ৩১৭৬ রানিং মিটারের জন্য ৪৫১ লাখ টাকার সংস্থান রেখে প্রকল্প সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। যা অনুমোদিত সংস্থানের তুলনায় কম।

অন্যদিকে প্রকল্প ব্যয় প্রাক্কলনের তুলনামূলক বিবরণীতে  সীমানা প্রাচীরের পরিমাণ ৮৮ মিটার বাড়ানোর (১৭৮ লাখ টাকা) বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে যা বর্ণিত ব্যয়ের ৪২ শতাংশ। এ বিষয়ে কোন তথ্যটি সঠিক সেই সম্পর্কে মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যা করতে পারে।

আগামীনিউজ/মিঠু/ডলি/নুসরাত

Dr. Neem