Agaminews
Dr. Neem Hakim
৪ বিভাগে বিদ্যুতায়ন প্রকল্প

কাজের অগ্রগতি নেই, খরচ বেড়েছে ১৫৮৭ কোটি টাকা


আগামী নিউজ | সাইফুল হক মিঠু প্রকাশিত: মার্চ ২২, ২০২০, ০৩:৪৪ পিএম
কাজের অগ্রগতি নেই, খরচ বেড়েছে ১৫৮৭ কোটি টাকা

ঢাকা: চার বিভাগে ১৩ লাখ মানুষের মাঝে বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে পৌনে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছিলো বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। কিন্তু  নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই বাড়তি আরো ১৫৮৭ কোটি টাকার ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

কাজের ৫২ভাগ শেষ দেখানো হলেও মূলত তিন ভাগের এক ভাগও হয়নি। তবে এখানে আর্থিক অস্বচ্ছতা নয় বরং কাজের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরাঞ্জামাদির দাম বৃদ্ধি, বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ কাজের ব্যয় বৃদ্ধি ও মেয়াদ বৃদ্ধি কে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে সংশোধনী প্রস্তাবে।

রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মাঝে বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালের পহেলা জানুয়ারী ৬ হাজার ৭৭৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

'শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ' নামের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিলো বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের ‘রূপকল্প ২০২১’ অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালের ২০ জুন অনুষ্ঠিত একনেক সভায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের এই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।  প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়,নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করা হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় অনুমোদিত ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) চেয়ে বেশি ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৮৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অনুমোদন পেলে প্রকল্পের নতুন ব্যয় দাঁড়াবে ৮ হাজার ৩৬৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর মেয়াদ দুই বছর বেড়ে যাওয়ায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ পাবে এই প্রকল্পটি।

এরই মধ্যে সে সংশোধনীর অনুমোদন প্রক্রিয়াও শেষ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই সংশোধনী উপস্থাপনের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দুই বছরে প্রকল্পের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৫২ শতাংশ। কিছু কাজের অগ্রগতি একটু ভালো হলেও অনেক কাজ এখনো শুরু হয়নি। এরই মধ্যে বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের কলেবর।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি সংশোধনের ফলে নতুন গড়ে ওঠা বসতবাড়ি এবং নদী ভাঙনের ফলে আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা নতুন বসতিসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের অফগ্রিড এলাকাগুলোতেও নেটওয়ার্ক পৌঁছাবে। এতে করে বাড়তি ৩ লাখ ৬০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। আর সেটা করতে গিয়েই প্রকল্পটির বিভিন্ন অংশের কাজের পরিমাণ ও ব্যয় প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে বাড়িয়ে প্রকল্পটির ডিপিপি সংশোধন করা হয়েছে।

সংশোধনীতে নতুন করে ৩ লাখ ৬০ হাজার বেশি গ্রাহক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বাড়তি এসব গ্রাহকের জন্য প্রস্তাবনায় বাড়ানো হয়েছে বিতরণ লাইনের পরিমাণ ও উপকেন্দ্রের সংখ্যা, বাড়তি দেখানো হয়েছে বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ কাজের ব্যয়। এর সঙ্গে যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের পেছনে ব্যয়ও বাড়ানো হয়েছে।

সংশোধিত প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- ৪৮ হাজার ২৫৫ কিলোমিটার নতুন বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন নির্মাণ, ৫৫টি নতুন ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র স্থাপন, বিদ্যমান ৫৬টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের ৫৩৫ এমভিএ ক্ষমতা বাড়ানো, ৬২ সেট রিভার ক্রসিং টাওয়ার নির্মাণ, ১৮ দশমিক ৪০ একর ভূমি অধিগ্রহণ, একটি সুইচিং স্টেশন নির্মাণ এবং ১৬ দশমিক ৯০ লাখ নতুন গ্রাহককে সংযোগের আওতায় আনা।

জানা যায়,প্রকল্পটি সংশোধন ও প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূলত নতুন গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি ও সরাঞ্জামাদির দাম বৃদ্ধি, বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ কাজের ব্যয় বৃদ্ধি ও মেয়াদ বৃদ্ধি কে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে সংশোধনী প্রস্তাবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদী ভাঙ্গন, চরাঞ্চল এলাকা সহ যেসব এলালায় নতুন করে বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে সেই সব এলাকায় বিদ্যুৎ সেবার সম্প্রসারণ হবে। অফগ্রীড এই অঞ্চল গুলোর ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বিদ্যুতের আওতায় আসবে বলে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগে সিনিয়র সচিব শাহীন আহমেদ চৌধুরি জানান।


আগামী নিউজ/মিঠু/ডলি/নাঈম

Dr. Neem

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের আরো খবর