Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

মনমোহন দত্তের মরমী সঙ্গীতের প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যা-৩০


আগামী নিউজ | সাঁঈজি সিরাজ সাঁঈ প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২১, ০২:৪১ পিএম
মনমোহন দত্তের মরমী সঙ্গীতের প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যা-৩০

মলয়া সংগীতের জনক, মরমী সাধক, কবি, বাউল ও সমাজ সংস্কারক মনমোহন দত্ত। ছবিঃ সংগৃহীত

ওরে মন মাঝিরে
লাগাও তরী শ্রীগুরুর ঘাটে।
যদি সুখে রবি সুখ পাইবি, পার হবি ভব সংকটে।
ঘাটে আছে এক বাজার, সাধু সঙ্গ নাম তার,
কত হীরে মানিক বিনামূল্যে, বিকাইছে সেই হাটে।
হাল দিয়া কান্ডারির হাতে, দাঁড় টান ভাই বসে বসে;
ভাব বুঝে সে দিবে শলা, যখন যেমন খাটে।
ভয় করোনা ঝড় তুফানে, চালাও তরি প্রাণপনে,
দেখবে তরী নামের গুনে, আপনি লাগাবে ঘাটে।

প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যাঃ
মানুষের লক্ষ্য বাস্ততে পৌঁছাতে হলে মনকে স্থির চিত্তে ধাবিত করতে হয়। মন সব সময় বস্তুতে রত থাকে। বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট করতে কোন প্রতিজ্ঞা বদ্ধ হতে হয় না। কারণ মন বস্তু থেকেই তৈরী। মানুষ আজীবন সকাল থেকে যতক্ষণ জেগে থাকে ততক্ষণ বস্তুর রসে রসিত অব্স্থায় থাকে। বস্তুর আকর্ষণ তাকে সব সময় ব্যস্ত রাখে। সে কারণে মানুষের জীবন তরী বস্তুর মধ্যে ডুবে থাকে। বস্তুর আকর্ষণ থেকে সে কখনো উঠে আসতে পারে না। সেই কারণে তার মনের ভিতর কোন প্রজ্ঞাবান সত্ত্বার নিকট আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হয়। সেই প্রজ্ঞাবান সত্ত্বাই শ্রীগুরুর ঘাট। পৃথিবীর কোথাও জীবন তরী ভিড়ানোর স্থান নেই। সমস্ত জায়গাই বস্তুতে পরিপূর্ণ। পাড় আছে কেবল গুরুর নির্দেশিত স্থানে। মানুষ তার জীবন তরী নিয়ে জীবন সাগরের ঘাটে ঘাটে ভিড়ানোর চেষ্টা করে কিন্তু কোথাও স্থান নেই। সকল স্থানে বস্তু দুঃখে একাকার। এই কারণে কোন স্থানে দাঁড়ানোর কোন অবস্থা নেই। ফলে জীবন অবধি কেবল সাগরে ভাসতে হবে। কোথাও ঠাঁই নেই এই জীবন তরী। দুঃখের সাগরে ভাসতে ভাসতে জীবন তরী অবশেষে সাগরের গভীর তলে ডুবে যায়। এটাই মানব জীবনের প্রকৃত রূপ।

হ্যাঁ, এ জীবন তরী অনায়াসে ঘাটে ভিড়ানো যায়। কোন সত্ত্বা যখন কোন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে নিজের পথ প্রদর্শক হিসেবে মনে করে তখন তাঁর নির্দেশ মোতাবেক জীবন তরী পরিচালনা করতে থাকে। তখন তার নির্দেশিত পথে সে সাধনা করে। সাধনার এক পর্যায়ে সে তার অন্তরের মধ্যকার যে পরাক্রমশালী শক্তি আছে সেই শক্তির সাথে একাকার হয়ে নিজের মনের দুর্বলতাকে দূর করে জীবন তরীটা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।