Agaminews
Bangla Noboborsho
Dr. Neem Hakim

মনমোহন দত্তের মরমী সঙ্গীতের প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যা-২৮


আগামী নিউজ | সাঁঈজি সিরাজ সাঁঈ প্রকাশিত: এপ্রিল ৮, ২০২১, ১২:১৯ পিএম
মনমোহন দত্তের মরমী সঙ্গীতের প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যা-২৮

মলয়া সংগীতের জনক, মরমী সাধক, কবি, বাউল ও সমাজ সংস্কারক মনমোহন দত্ত। ছবিঃ সংগৃহীত

ও মন যাবে যদি ভব পারে
ভুলোনা তাঁরে, যে জন সৃজন লয় করে।
যাহার করুণা বলে, দেখোরে জগতী তলে,
রবি শশী গ্রহতাঁরা, সকলে আলো বিতরে।
অনন্ত জগতজন, পূজিয়ে যার চরণ
লহরে তার স্বরণ, যাবে দূরে।
ভুলে গিয়ে যত সব, তাহারিও পদ ভাব,
সকলি হবে সম্ভব, ভাসিয়ে সুখ সাগরে।
যিনি তাহারি চরণ, নাহি অন্য রত্ন ধন,
বলিরে মনোমোহন, রাখো সদা অন্তরে।

প্রজ্ঞাময় ব্যাখ্যাঃ
মানুষ এই পৃথিবীকে নিয়ে সব সময় ব্যতিব্যস্ত থাকে। বস্তুর বাইরে তার কোন চিন্তা-চেতনা থাকে না। কিন্তু বাস্তবতা এই যে সকলকেই একদিন এই নশ্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে। এই বস্তুময় পৃথিবীর মায়া মমতা ত্যাগ করে মুক্তির জগতে যেতে হলে তাকে প্রজ্ঞাবান হতে হবে। তাকে কেবল বস্তুর চিন্তায় রত থাকলে চলবে না। এই বস্তু চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে তাকে সব সময় প্রজ্ঞায় থাকতে হবে।

মানুষ সব সময় বস্তুর চিন্তায় রত থাকার কারণে তার মধ্যে দুঃখ বোধ সদা সর্ব্বদা লেগে থাকে। বস্তুর উপর নির্ভর করা অর্থই বস্তুর দুঃখে নিজেকে নিপতিত করা। মানুষের মন বস্তু দ্বারা তৈরী হয়। যাহাই বস্তু তাহাই দুঃখ। তাই বস্তুময় চিন্তা করলে আলাদা দুঃখের প্রয়োজন নেই। তাই মানুষ এবং দুঃখ এই দুয়ের মধ্যে সেতুবন্ধন রূপে বস্তু কাজ করে।
মানুষ এবং বস্তুর মধ্যে সংযোগ হিসেবে কাজ করে মানুষের বস্তুগত তৃষ্ণা। বস্তুর আকর্ষণই মানুষকে দুঃখে নিপতিত করে। সে কারণে মানুষ দুঃখ থেকে মুক্তি পেতে তার অন্তরের মধ্যে যে প্রজ্ঞাময় শক্তি আছে তার দ্বারা বস্তুর উপর অবস্থান করতে হবে। প্রজ্ঞার শক্তিই মানুষের মনকে বস্তুর উপরে উঠতে সক্ষম করে। মানুষ যখন সাধনার দ্বারা নিজের মধ্যকার অন্তরের শক্তিকে উন্মেষ ঘটিয়ে সকল চিন্তা তথা কর্মের উপর সেই শক্তিকে অবস্থান করায় তখন তার মন আর বস্তুর সাথে একাকার হয়ে থাকে না।

এইরূপ সাধনার মাধ্যমে নিজের অন্তরের শক্তিকে জাগ্রত করে সকল দুঃখ থেকে মুক্ত হয়ে নিজের অন্তরের শক্তিকে জাগ্রত করে সকল দুঃখ থেকে মুক্ত হয়ে নিজের অন্তরে সর্বদা আনন্দ বোধ জাগ্রত রাখা সম্ভব হয়।