Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

এই আমল জীবনে কখনও ছাড়বেন না


আগামী নিউজ | ধর্ম ডেস্ক প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২২, ০২:২৯ এএম
এই আমল জীবনে কখনও ছাড়বেন না

ঢাকাঃ ওয়াজ মাহফিলে, পত্র-পত্রিকায় বা বই-পত্রে অনেক আমল নিয়ে আলোচনা হয়। পাঠক বা শ্রোতারা তা থেকে উপকৃতও হন। জানতে পারেন- কোন আমল কখন কীভাবে করতে হবে। এরপর সেগুলো মেনেও চলেন। কিন্তু একটি আমল নিয়ে আলোচনা খুব কম-ই হয় এবং যে আমলটি এই যুগে পালন করা খুব কঠিন হয়ে গেছে।

সেটি হলো-রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো। খুব অল্পসংখ্যক মানুষ ছাড়া সবাই রাত করে ঘুমান। ফলে ফজরের নামাজ সময়মতো পড়া হয় না, আবার ভোর সময়টির বরকত থেকেও বঞ্চিত থাকতে হয়। 

ফজরের নামাজের ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি দুটি শীতল সময়ে (ফজর ও আসর) সালাত আদায় করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সহিহ বুখারি: ৫৭৪, সহিহ মুসলিম: ৬৩৫/২১৫)

বিখ্যাত তাবেয়ি আবু বকর বিন উমারাহ তাঁর পিতা রুআয়বাহ থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে বলতে শুনেছি, ‘এমন কোনো ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের আগের এবং সূর্যাস্তের আগের অর্থাৎ ফজর ও আসরের নামাজ আদায় করে।’ (মুসলিম: ১৩২২)

দিনের শুরুকে বরকতময় করার জন্য রাসুল (স.) আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করেছেন, اللَّهُمَّ بَارِكْ لأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের জন্য দিনের শুরু বরকতময় করুন।’

বর্ণনাকারী বলেন, ‘এ জন্যই রাসুল (স.) কোনো যুদ্ধ অভিযানে বাহিনী পাঠানোর সময় দিনের শুরুতে পাঠাতেন। আর সাখর (রা.) ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তিনিও তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ভোরবেলা শুরু করতেন। এতে তাঁর ব্যবসায় অনেক উন্নতি হয় এবং তিনি সীমাহীন প্রাচুর্য লাভ করেন।’ (আবু দাউদ: ২৬০৬)

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মুসলিম উম্মাহ আজ সময়ের বরকত থেকে বঞ্চিত। কাজের বরকত থেকে বঞ্চিত। এর অন্যতম কারণ তাড়াতাড়ি না ঘুমানো। খেয়াল করলে দেখবেন, যে সমাজে ৫০০ লোকের বাস, সে সমাজের মাত্র ২০-৩০ জন ফজরের জামাতে হাজির হন। ঘুম থেকে উঠেন ৮টা ৯টার পর। এর চেয়ে হতভাগ্যের বিষয় আর কী হতে পারে! ওরা নিজের জন্য কী করবে, আর উম্মাহর কল্যাণে কী করবে?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার দেওয়া বরকতময় সময়টা আমরা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেই। এজন্যই আমরা বরকত থেকে বঞ্চিত। উরওয়া (রহ.) বলেন, إِنِّي لَأَسْمَعُ بِالرَّجُلِ يَتَصَبَّحُ فَأَزْهَدُ فِيهِ ‘আমি যখন কারো সম্পর্কে শুনি, সে ভোরবেলা ঘুমায় তখন তার প্রতি আমি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি।’ (মুসান্নাফ ইবনু আবি শাইবা: ৫/২২২)

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) তাঁর এক সন্তানকে ভোরবেলা ঘুমাতে দেখে বলেছিলেন, أتنام في الساعة التي تُقسَّم فيها الأرزاق؟ ‘ওঠো, তুমি কি এমন সময়ে ঘুমিয়ে আছ, যখন রিজিক বণ্টন করা হচ্ছে?’ (জাদুল মাআদ: ৪/২৪১)

প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইবলিস জানে যে, রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে গেলেই মুসলমান সফল হয়ে যাবে। তাই এটা করতে দেওয়া যাবে না। এজন্য দেখা যায়, মুসলিম দেশগুলোতে রাতে মানুষের কাজ বেড়ে যায়। আরব দেশগুলোতে তো অবস্থা আরও খারাপ। রাত ১২টার পর তাদের সন্ধ্যা হয়। ঘুমায় সকাল ১১টা, ১২টা এমনকি জোহর পর্যন্ত। অথচ, নবী কারিম (স.)-এর সুন্নতের বাইরে কোনো কল্যাণ থাকতে পারে না। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশ আছে, যারা মুসলমান না। কিন্তু সুন্নতের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তারা অনেক উন্নত। যেমন জাপানের শহরাঞ্চলে দেখেছি, সন্ধ্যার পরপর তাদের ঘুমানো শুরু হয়ে যায়, ওদিকে ভোরে ঘুম থেকে ওঠে পড়ে। 

‘আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ফজরের শপথ, ভোরের শপথ করেছেন—‘ওয়াল ফাজরি ওয়ালায়ালিন আশর’, ‘ওয়াসসুবহি ইজা তানাফফাস’। এতেই ফজরের গুরুত্ব ফোটে ওঠে। মহান আল্লাহর কাছে ফজর বা ভোরের গুরুত্ব কত বেশি হলে তিনি শপথ করেন! শপথ করে তিনি আমাদেরকে বুঝিয়েছেন যে, এই সময়ের গুরুত্ব আল্লাহ তাআলার কাছে অনেক বেশি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বোঝার তাওফিক দান করুন। দ্রুত ঘুমানোর জন্য সচেতনতা দান করুন এবং ভোরের বরকতময় সময়কে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

এসএস