Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

ফখরুলের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা ‘ভূতের মুখে রাম নাম’


আগামী নিউজ | আগামী নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২২, ০৩:৪৮ পিএম
ফখরুলের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা ‘ভূতের মুখে রাম নাম’

ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ঢাকাঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (২৩ মে) আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মির্জা ফখরুলের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা ‘ভূতের মুখে রাম নাম’ ছাড়া কিছু নয়। বিএনপির শীর্ষ নেতা দুর্নীতি ও এতিমের অর্থ আত্মসাতের দায়ে আদালতে সাজা পাওয়ায় দলটি এখন দেউলিয়া ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, মিথ্যাচার ও গুজব জনবিচ্ছিন্ন বিএনপির একমাত্র অস্ত্র। দেশবাসী ভুলে যায়নি, বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে (২০০১-৬) বিবিসির সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহা, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক হুমায়ুন কবির বালুসহ ১৬ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছিল। তখন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ৫০০-র বেশি মামলা এবং ৮০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বিট্রিশ টেলিভিশনের লিওপোল্ড ব্রুনো সরেন্তিনো জেইবা মালিকসহ কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিককে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালানো হয়েছিল। জঙ্গি হামলার ঘটনায় উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত অনেক সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছিল। তখন ‘রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারস’ বাংলাদেশকে সাংবাদিকদের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করে বলেন, মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে জাতিকে জ্ঞান দিচ্ছেন! অথচ প্রতিদিনই গণমাধ্যমে বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচারের বিস্তারিত সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। টেলিভিশনে তাদের কর্মসূচিগুলো সরাসরি লাইভ করা হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের মনগড়া ও নির্জলা মিথ্যাচার কোনো রকম সম্পাদনা ছাড়ায় গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। টকশোসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও অপপ্রচার প্রতিদিন সম্প্রারিত হচ্ছে। তারপরও তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন তুলছেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার আকাশ উন্মুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, এখন শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি টেলিভিশনও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সম্প্রচারের সুবিধা ভোগ করছে। বাংলাদেশে এক সময় সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল (বিটিভি) ছিল ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম। শেখ হাসিনাই প্রথম বেসরকারি টেলিভিশনের অনুমোদন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দেশে অর্ধশত বেসরকারি টেলিভিশন, অনলাইন টিভি ও আইপি টিভিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে গণমাধ্যমের অবারিত দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সহস্রাধিক দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা এবং অসংখ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল রয়েছে। যেখানে সব রাজনৈতিক দলের সংবাদ কর্মসূচি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ হচ্ছে। সরকার সাংবাদিকদের মর্যাদা বৃদ্ধি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘গণমাধ্যম কর্মী আইন’ প্রণয়নের পদক্ষেপ নিয়েছে। অথচ বিএনপির সময় সাংবাদিকদের মর্যাদা ও অধিকার বিবেচনা করা হয়েছিল শ্রম আইনের আওতায়। তখন সাংবাদিকদের সামাজিক মর্যাদাও রক্ষা করা হয়নি।

বিএনপি নেতাদের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা মানায় না উল্লেখ করে বিবৃতিতে কাদের বলেন, আমরা মির্জা ফখরুলের মর্মবেদনা বুঝি। ব্যর্থতার ভারে নুয়ে পড়া বিএনপির কাছে স্বাধীনতার অর্থ কী তা দেশবাসী জানে। বন্দুকের নলের মুখে সাংবাদিকদের জিম্মি করে রেডিও-টেলিভিশনে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণার মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতাদখলকারী জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলের নেতাদের মুখে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা মানায় না। আজকে তারা বাক স্বাধীনতার কথা বলেন! স্বাধীনতা তাদেরই থাকে যারা দায়িত্বশীল নিয়মসিদ্ধ আচরণ করে ও স্বীয় কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকে। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে বিএনপি সব সময় বাক-স্বাধীনতার অপব্যবহার করেছে।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের কাছে যদি প্রশ্ন করি- বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে গণমাধ্যমের বিকাশ, উৎকর্ষ সাধন এবং সাংবাদিকদের কল্যাণ ও স্বার্থ সংরক্ষণে কী করেছে?

আওয়ামী লীগের সিনিয়র এই নেতা বলেন, বিএনপি গণমাধ্যমের বিকাশ এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধে রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। দেশবাসী ভুলে যায়নি। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতাবিরোধী নতুন ষড়যন্ত্রের বর্হিপ্রকাশ।

বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার পরিহারের আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনারা মিথ্যা ও অপপ্রচারের পথ পরিহার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আস্থা রেখে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। এতে দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথ প্রতিবন্ধকতা মুক্ত হবে। অন্যথায় মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে। 

এমবুইউ