August
Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

দেশে মাঙ্কিপক্সের রোগী নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান


আগামী নিউজ | আগামী নিউজ প্রতিবেদক প্রকাশিত: মে ২৪, ২০২২, ১২:১৮ পিএম
দেশে মাঙ্কিপক্সের রোগী নেই, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান

ঢাকাঃ বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, মাঙ্কিপক্স নিয়ে গুজব বা আতঙ্ক নয়, বরং আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। 

মঙ্গলবার (২৪ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, 'বাংলাদেশে এখনও এই রোগের কোনো রোগী ধরা পরেনি। করোনা মহামারিকে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেভাবে মোকাবিলা করেছি, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে যেভাবে বাংলাদেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে দেইনি। একই রকমভাবে আমরা মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের জন্যও প্রস্তুত আছি। দেশের মানুষ যদি কোনো ধরনের গুজব বা আতঙ্ক এড়িয়ে চলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো চলে, তবে এই রোগ থেকেও আমরা জাতিকে নিরাপদ রাখতে পারব।'

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজবের বিষয়ে শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, গতকাল সোমবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএসএমএমইউতে মাঙ্কিপক্সের প্রথম রোগী শানাক্ত হয়েছে বলে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যা ছিল নিছক একটি গুজব। বিষয়টি আমাদের নজরে আনেন গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল কিছু সংখ্যক সাংবাদিক ভাইয়েরা। তাদের এ তথ্যে আমাদের প্রশাসন তৎপর হয়। এরপর আমরা খোঁজ নেয়া শুরু করি আসলে কী ঘটেছে। গুজব রোধ এবং গুজব রটনাকারীকে খুঁজে পেতে গণমাধ্যমের কর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের কাছে মৌখিকভাবে সহযোগিতা চাওয়া হয়। তাদের তড়িৎ পদক্ষেপে আমরা জানতে পারি নোয়াখালি জেলার সেনবাগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. আসিফ ওয়াহিদ অর্কের বরাতে সংশ্লিষ্ট গুজব পোস্ট হয়।

'তবে ডা. আসিফ ওয়াহিদ জানান এমন কোনো ঘটনা সে জানে না। তিনি এমন পোস্টও করেনি। আমাদের ডাটাবেসেও মাঙ্কিপক্স রোগী ভর্তির কোনো তথ্য নেই', যোগ করেন অধ্যাপক শারফুদ্দিন।

ডা. ওয়াহিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিএসএমএমইউ ভিসি বলেন, 'আসিফ ওয়াহিদ বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের নতুন ভর্তিকৃত রেসিডেন্ট। তনে তিনি কোনো ক্লাস করেননি। যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা তাকে ট্রেস করতে পারিনি। তিনি ৩৯ তম বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডার। তার দাবি তিনি নিজ ফেসবুকে মাঙ্কিপক্স নিয়ে কোন স্ট্যাটাস পোস্ট দেননি।'

করোনা মোকাবেলায় বিএসএমএমইউ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর ধারাবাহিকতায় নতুন বৈশ্বিক সংকট মাঙ্কিপক্সও নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বেশ সতর্ক রয়েছে বলেও জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে মাঙ্কিপক্সের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, এটি একটি ডিএনএ ভাইরাস। কাউপক্স, ভ্যাক্সিনিয়া এবং ভ্যারিওলা (স্ম্যালপক্স) এই গ্রুপের ভাইরাস। এটি একটি জুনোটিক ভাইরাস যার প্রাথমিক সংক্রমণ সংক্রমিত প্রাণীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বা সম্ভবত তাদের অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা মাংস খাওয়ার মাধ্যমে ঘটে বলে বিশ্বাস করা হয়। উদাহরণ-জংলি কুকুর, ইঁদুর, খরগোশ, কাঠবিড়ালি, বানর, সজারু ইত্যাদি।

১৯৫৮ সালে ল্যাবরেটরিতে বানরের দেহে প্রথম এই ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল। ১৯৭০ সালে এর নামকরণ হয় মাঙ্কিপক্স। এই ভাইরাসের দুইটি স্ট্রেইন রয়েছে। কঙ্গো বেসিন স্ট্রেইন পশ্চিম আফ্রিকার স্ট্রেইনের চেয়ে বেশি মারাত্মক। এই ভাইরাস পশু থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়। এর মধ্যে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মাধ্যম বলে বিবেচিত। এর শতকরা ৯০ শতাংশ রোগী ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। গুটিবসন্তের টিকা বন্ধ করা এর একটি কারণ হতে পারে। আফ্রিকাতে ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুর হার রিপোর্ট করা হয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ২০০৩ সালে প্রাদুর্ভাবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। জটিলতার মধ্যে রয়েছে স্থায়ী ক্ষত, বিকৃত দাগ, সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, ব্রঙ্কোপনিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, কেরাটাইটিস, কর্নিয়ার আলসারেশন, অন্ধত্ব, সেপ্টিসেমিয়া এবং এনসেফালাইটিস। গুটিবসন্তের টিকা মাঙ্কিপক্স থেকে ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে, সম্ভব হলে ৪ দিনের মধ্যে এটি ব্যবহার করতে হবে। ইনকিউবেশন পিরিয়ড গড়ে ১২ দিন, ৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত। প্রড্রোম ১ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। জ্বরজনিত অসুখের সঙ্গে ঠাণ্ডা লাগা, ঘাম, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, পিঠে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ফ্যারিঞ্জাইটিস, শ্বাসকষ্ট এবং কাশি হয়ে থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. একেএম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. স্বপন কুমার তপাদার প্রমুখ।

এমবুইউ