Agaminews
August

থামানো যাচ্ছে না বিটুমিন আমদানিতে জালিয়াতি


আগামী নিউজ | ‍নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১, ১০:১১ এএম
থামানো যাচ্ছে না বিটুমিন আমদানিতে জালিয়াতি

ঢাকাঃ উৎপাদন হয় ইরানে। রপ্তানি প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত চীনসহ কয়েকটি দেশের প্রতিষ্ঠান। শুধু জাহাজ বদল ও প্যাকেজিংয়ের কাজটা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই)। আর তাতেই বিটুমিনভর্তি ড্রামের গায়ে লেখা হয়ে যাচ্ছে ‘কান্ট্রি অব অরিজিন-ইউএই’। বিটুমিন আমদানিতে এ জালিয়াতি কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশ ইরানের প্রস্তুতকৃত নিম্নমানের ভেজাল বিটুমিন হামেশা ঢুকছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এ বিটুমিনে সর্বনাশ হচ্ছে দেশের সড়ক-মহাসড়কের।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এবার ইরানের পতাকাবাহী জাহাজেই বিটুমিন ঢুকেছে চট্টগ্রামে। আমদানি নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ইরানের পণ্য খোদ ওই দেশের জাহাজে দেশে ঢোকার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে দেশকে কোণঠাসা করে রাখতে পারে। আমদানিনিষিদ্ধ দেশের জাহাজ এবং ওই দেশের পণ্য এভাবে ঢুকতে থাকলে অর্থনৈতিকভাবে দেশে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্র বলছেন, সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে বিটুমিনভর্তি কয়েকটি জাহাজ নোঙর করে। এসব জাহাজের বিটুমিন খালাসও হয়ে গেছে। সর্বশেষ ১৭ জুন বৃহস্পতিবার জেটিতে ভেড়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীর অ্যান্ড আদার্সের বিটুমিনের একটি জাহাজ। এর তিন দিন আগে ১৪ জুন জেটিতে পৌঁছায় আরেকটি জাহাজ, যেটি ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের বিটুমিন নিয়ে এসেছে। আমদানি নথির তথ্যানুযায়ী দুটি জাহাজই এসেছে ইউএই বন্দর থেকে।

সূত্র আরো জানান, ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিটুমিন নিয়ে বন্দরে ঢোকে ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ ‘নেগার’। জাহাজটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে গিয়ে দেখা যায়, ইরানে নিবন্ধিত জাহাজটির আইএমও নম্বর ৯১৬৫৮৩৯। ২২ বছর ধরে চলমান জাহাজটির ধারণক্ষমতা প্রায় ২৩ হাজার টন। আইএমও নম্বর দিয়ে ট্র্যাকিং করলে দেখা যায়, জাহাজটি পণ্য খালাস করে ১৯ জুনই চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করেছে। মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দরের দিকে যাচ্ছে জাহাজটি।

তথ্যমতে, জাহাঙ্গীর অ্যান্ড আদার্সের বিটুমিনের ইনভয়েস ভেল্যু দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৩২ হাজার ৩০১ ডলার। এ বিটুমিনের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম রাজ স্পেশালিটি কেমিক্যালস প্রাইভেট লিমিটেড। এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ রয়েছে চট্টগ্রামের চৌধুরী সিন্ডিকেটের নাম। অন্য জাহাজটির বিটুমিন রপ্তানি করেছে রোসনার হোল্ডিং কোম্পানি লিমিটেড। যেখানে বিটুমিনের ইনভয়েস ভেল্যু দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৫ ডলার। সব বিটুমিনই ৬০-৭০ গ্রেডের বলে উল্লেখ রয়েছে। রপ্তানিকারক দুটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজ স্পেশালিটি কেমিক্যালস মূলত প্রতিবেশী দেশের একটি প্রতিষ্ঠান। চেন্নাইতে এর প্রধান কার্যালয়। এ কোম্পানির অনেক কাজের একটি হলো বিটুমিন রপ্তানি।

ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী ইরান থেকে বিটুমিনের সোর্সিং শুরু করে। এ ছাড়া গ্রাহকের নির্দেশনা অনুযায়ী শুধু আমিরাত থেকে পুনঃরপ্তানির কাজটিও করে দেয় তারা। অন্যদিকে রোসনার হোল্ডিং হংকংভিত্তিক একটি কোম্পানি। হংকংয়ে প্রধান কার্যালয়ের পাশাপাশি চীনের সাংহাই, ইউরোপের নেদারল্যান্ডস ও ইথিওপিয়ায় কোম্পানির কার্যালয় আছে। মজার তথ্য হলো, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোম্পানিটির কোনো কার্যালয়ই নেই। অথচ ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিটুমিন আমদানির নথিতে এ কোম্পানিটিকে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে মেইল করা হলেও তাদের সাড়া মেলেনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট সূত্র নিশ্চিত করেছেন, ইউএইতে বিটুমিনের কোনো কারখানা নেই। দেশটি বিটুমিন উৎপাদনই করে না। মূলত পাশের দেশ ইরান থেকে বিটুমিনের চালান সে দেশে ঢোকার পর সেগুলো রিফাইন হয়। তারপর তা বিভিন্ন দেশে পুনরায় রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হয়। কনস্যুলেট সূত্র আরও জানান, আবুধাবি, হামরিয়াহ উন্মুক্ত জোন, ফুজাইরাহ ও আজমানে রিফিলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ইউএই সূত্র জানান, চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান আমিরাতের বিভিন্ন বন্দরসংলগ্ন এলাকায় বিটুমিনের ডিপো স্থাপন করেছে। ইরানের উৎপাদিত বিটুমিন প্রথমে এসব ডিপোয় রাখা হয়। তারপর ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী প্যাকেজিং শেষে পুনরায় রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।