Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim

চিত্রশিল্পী আনোয়ারুল হকের ৩৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২০, ১২:৩৯ পিএম
চিত্রশিল্পী আনোয়ারুল হকের ৩৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাঃ চিত্রশিল্পী আনোয়ারুল হকের ৩৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৮ নভেম্বর। ১৯৮১ সালে এই দিনে মারা যান তিনি।

বাংলাদেশের অন্যতম চিত্রশিল্পী আনোয়ারুল হক। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, শফিউদ্দিন আহমেদ, কামরুল হাসান প্রমুখের পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তান সরকারি আর্ট ইনস্টিটিউট (বর্তমানে চারুকলা ইনস্টিটিউট) গড়ে তোলার পেছনে ছিল তার বিশেষ ভূমিকা। দায়িত্ব পালন করেন প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসেবেও। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের বিদেশ ভ্রমণের সময় এবং তার অবসর গ্রহণের কয়েক বছর পর আনোয়ারুল হক আর্ট ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পান। এ ছাড়া তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি আদর্শ শিল্পী তৈরিতে, চারুকলার পাঠ্যসূচি প্রণয়নে এবং আর্ট ইনস্টিটিউটের সব রকম উন্নয়ন কাজে নিজেকে নিরন্তর নিয়োজিত রেখেছেন। দেশের সমকালীন বেশিরভাগ প্রথিতযশা শিল্পীই তার ছাত্র।

১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন চিত্রশিল্পী আনোয়ারুল হক। সেখানে বাবা-মায়ের সঙ্গে কাটে তার শৈশব। আট বছর বয়সে তিনি কলকাতায় আসেন এবং ১৯৩৫ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তি হন। তৎকালীন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ছবি আঁকা ছিল এক রকম নিষিদ্ধ কাজ। আনোয়ারুল হকের অভিভাবকরাও তার ছবি আঁকা শেখাকে ভালো নজরে দেখতেন না। কিন্তু অদম্য উৎসাহে সব বাধাকে অতিক্রম করে তিনি আর্ট স্কুলের ছয় বছরের কোর্স সমাপ্ত করেন। কৃতিত্বের সঙ্গে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৪১ সালে। পরে তিনি আর্ট স্কুল থেকে ‘টিচারশিপ’ কোর্স শেষ করে কিছুদিন স্বাধীনভাবে চিত্রকলা চর্চা করেন। ১৯৪৩ সালে ড্রইং শিক্ষক হিসেবে ফরিদপুর জিলা স্কুলে যোগ দেন। পরে হাওড়া জিলা স্কুলে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। এর কিছুদিন পর কলকাতা আর্ট স্কুলে বাণিজ্যিক শিল্পকলা বিভাগে যোগ দেন। ১৯৪৫ সালে সর্বভারতীয় শিল্পকলা প্রতিযোগিতায় জলরং চিত্রে তিনি শ্রেষ্ঠ শিল্পীর সম্মান লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর চট্টগ্রামের নর্মাল স্কুলে ড্রইং শিক্ষক পদে যোগ দেন। ঢাকায় আসেন ১৯৪৮ সালে। এর পর পূর্ব পাকিস্তান সরকারি আর্ট ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমের শুরু থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে শিক্ষকতা করেন।

আনোয়ারুল হকের বেশ সংখ্যক চিত্রকর্ম রয়েছে। জলরং ও তেলরং উভয় মাধ্যমকে তিনি চিত্রকর্ম সৃষ্টিতে ব্যবহার করেছেন। প্রথমদিকে বাস্তবধর্মী চিত্রকর্ম সৃষ্টিতে বিশেষ করে জলরং এবং ষাটের দশকের পর প্রকৃতিনির্ভর চিত্রকর্মে তেলরংয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিত্র নির্মাণ করেন। পরাবাস্তবধর্মী ছবি আঁকায় তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বঙ্গভবন, দিল্লি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, পাকিস্তান আর্ট কাউন্সিল প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে তার উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম রয়েছে। ১৯৮১ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন এই গুণী চিত্রশিল্পী।

আগামীনিউজ/মিথুন