Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে কমিশন গঠনের নির্দেশ


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২২, ০১:০৯ পিএম
পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজতে কমিশন গঠনের নির্দেশ

ঢাকাঃ পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে ৩০ দিনের মধ্যে কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। 

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

গতকাল সোমবার এ বিষয়ে শুনানির সময় আদালত বলেন, পদ্মা সেতু জাতীয় সম্পদ ও দেশের অহংকার, যারা এমন জাতীয় সম্পদের বিরোধিতা করবে তারা জাতির শত্রু।

আদালতের তার পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, ‘পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটা আমাদের অহংকার। এ ধরনের জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের বিরুদ্ধে যারা থাকেন, তারা জাতির শত্রু, দেশের শত্রু, তাদের চিহ্নিত করা দরকার।’

পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানির দিন নির্ধারণের সময় এমন মন্তব্য করেন আদালত।

এর আগে গত রোববার (২৬ জুন) পদ্মা সেতু নির্মাণ চুক্তি নিয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে কমিশন গঠন প্রশ্নে জারি করা রুল শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়।

বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কমিশন গঠনের আদেশ দেন। আদেশে পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি ও এ বিষয়ে দুর্নীতির মিথ্যা গল্প সৃষ্টির নেপথ্যের প্রকৃত ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিশন বা কমিটি গঠন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং দোষীদের কেন বিচারের মুখোমুখি করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

রুলে মন্ত্রিপরিষদ, স্বরাষ্ট্র, আইন ও সেতু সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয় আদালতে।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে বারবার সময় নেওয়ায় এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ২ আগস্ট হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ৩১ আগস্টের মধ্যে কমিশন গঠন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে সেতু মন্ত্রণালয়ের চিঠি যুক্ত করে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা হয় আদালতে। ওই প্রতিবেদনের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি সংযুক্ত করা হয়।

সেতু মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে দেখা যায়, এ সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত কমিশনের সদস্য হিসেবে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (কারিগরি) মো. কামরুজ্জামানকে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

শুনানিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেছিলেন, ‘পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, পদ্মা সেতু নির্মাণের চুক্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ অভিযোগ ওঠার পর বিশ্বব্যাংক ও অপরাপর দাতা সংস্থা অর্থায়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যা জাতির মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে আঘাত করছে।’

আদালত বলেন, এ দুর্নীতির সঙ্গে কানাডিয়ান কোম্পানির তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়টি কানাডিয়ান আদালতে বিচার হয়েছে। বিচারে আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন। অভিযোগের প্রমাণ পায়নি আদালত।

এমবুইউ