Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

টিএইচ খানের শোক-শ্রদ্ধায় আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকাজ বন্ধ


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৭, ২০২২, ১১:০৮ এএম
টিএইচ খানের শোক-শ্রদ্ধায় আজ সুপ্রিম কোর্টের বিচারকাজ বন্ধ

মরহুম বিচারপতি তাফাজ্জাল হোসেন খান। ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকাঃ সাবেক বিচারপতি তাফাজ্জাল হোসেন খানের (টি এইচ খান) মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ বসবে না।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। 

এদিন আপিল বিভাগ বেঞ্চে বসলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী ও আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল টিএইচ খানের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, সিনিয়র আইনজীবী টিএইচ খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ (আপিল ও হাইকোর্ট) পরিচালনা করা হবে না।

এর আগে গতকাল ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণতম আইনজীবী সাবেক বিচারপতি টি এইচ খান রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আজ সোমবার (১৭ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বরেণ্য এই আইনজ্ঞের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

১০২ বছরে পা দেওয়া খ্যাতিম্যান এই প্রবীণ আইনজীবীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর আজ রবিবার (১৬ জানুয়ারি) ভোরে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বার্ধক্যজনিত জটিলতাসহ নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন।

এদিকে জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

সর্বজন শ্রদ্ধেয় এই আইনবিদ ১৯২০ সালের ২১ অক্টোবর ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলাধীন ঔটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে তিনি আইন পেশায় যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনিই ছিলেন দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ আইনজীবী।

বিচারপতি টি এইচ খান ১৯৬৮ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর ১৯৭৩ সালের জুলাই মাস থেকে পুনরায় আইন ব্যবসায় ফিরে আসেন। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথম বারের মতো সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। 
১৯৭৯ সালে তিনি পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর আইন, শিক্ষা, ধর্ম, ভূমি ও রাজস্ব এবং ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদের নেতৃত্বে নতুন সামরিক আইন জারি করা হয়। তখন তিনি আবার আইন পেশায় ফিরে যান। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে বিরোধিতা করার জন্য গ্রেফতার হন। 

বিচারপতি টিএইচ খান ১৯৯২ সালে জাতিয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। এই পদে তিনি ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির প্রথম ভাইচ চেয়ারম্যান। 

১৯৯২ সালে তিনি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাস্থ জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যার রাইটস কমিশনের মেম্বার এবং একই বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দান করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের দ্বিতীয় বারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন। 

১৯৯৫ সালে বিচারপতি টিএইচ খান এশিয়া জোন থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রুয়ান্ডা ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের ১৯ জুন মাস পর্যন্ত জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল পদে বিচারকাজ পরিচালনা করেন।  

১৯৪০ সালে বিচারপতি টিএইচ খান ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন এবং ১৯৪২ সালে তৎকালীন কলকাতা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ অনার্স-এ ভর্তি হন। ১৯৪৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ অনার্স এবং ১৯৪৬ সালে এমএ পাস করেন। ১৯৫১ সালের ১৪ মার্চ তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী হন। 

আইন পেশা ছাড়াও বিচারপতি টিএইচ খান প্রথম জীবনে পাবনা অ্যাডওয়ার্ড কলেজ, ঢাকার জগন্নাথ কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন ও আইন বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। 

গত ২১ অক্টোবর বিচারপতি টিএইচ খানের ১০২তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়। 

আগামীনিউজ/বুরহান