Agaminews
Dr. Neem Hakim
পুরনো নিয়োগ বিতর্কে ভারতীয় সেনাবাহিনী

৩ বছরের ট্যুর অব ডিউটি না-কি ৫ বছরের শর্ট সার্ভিস কমিশন


আগামী নিউজ | আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মে ২৩, ২০২০, ০২:১২ পিএম
৩ বছরের ট্যুর অব ডিউটি না-কি ৫ বছরের শর্ট সার্ভিস কমিশন

ছবি: সাউথ এশিয়ান মনিটর

ভারতীয় সেনাবাহিনী একদিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে তিন বছরের জন্য স্বেচ্ছাভিত্তিক ‘ট্যুর অব ডিউটি’ বাস্তবায়নের কথা ভাবছে। অন্যদিকে, শর্ট সার্ভিস কমিশনকে (এসএসসি) আকর্ষণীয় ও বাস্তবমুখী করে তোলার জন্য পাঁচ বছর আগে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো, সেটি এখনো ঝুলে আছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ দল ওই প্রস্তাবটি তৈরি করেছিলো। খবর দ্য প্রিন্ট।

ট্যুর অব ডিউটির আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং প্রত্যেকের প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে কারণ তিন বছর পরে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে। ২০১৫ সালের রিপোর্টে মন্ত্রণালয় শর্ট সার্ভিস কমিশনকে বর্তমানের ১০ বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছরে নামিয়ে আনার পরামর্শ দেয়। 

১৪ মে মিডিয়ার সাথে আলাপকালে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেছিলেন যে, ট্যুর অব ডিউটি’র ধারণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সেটা এখন সেনাবাহিনী প্রধানের বিবেচনাধীন। তিনি বলেন, এটা যদি কাজ করে, তাহলে ভালো, কিন্তু এর গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেছেন, “এতে এক বছরের প্রশিক্ষণ লাগবে। ট্যুর অব ডিউটি হবে কাশ্মীরে এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলে। এক বছরের প্রশিক্ষণের খরচ, একজন ব্যক্তিকে সুসজ্জিত করতে, তার জন্য সবকিছু করে এবং চার বছর পরে তাকে ছেড়ে দিতে হবে। এটা কি হিসেবে মিলবে? এটা হিসেব করে দেখতে হবে”।

দ্য প্রিন্ট এর আগে রিপোর্টে জানিয়েছিলো যে, ট্যুর অব ডিউটির মেয়াদ হলো তিন-চার বছর, এর মধ্যে আবার প্রশিক্ষণের সময় রয়েছে। সেনাবাহিনী যদিও গভীরভাবে এটা যাচাই করে দেখছে, তবে সিডিএস এসএসসিকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তবে এই নিয়োগ বিতর্কের সমাধান হয়তো লুকিয়ে আছে ২০১৫ সালের রিপোর্টে। 

বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের ৫০৯ পৃষ্ঠার রিপোর্টে সার্ভিস এবং পেনশান, শৃঙ্খলা ও নজরদারি ইস্যু, পদোন্নতি এবং গোপনীয় রিপোর্ট, সামরিক বিচার প্রক্রিয়া, বেসামরিক চাকুরে এবং অন্যান্য বিতর্কের সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে ৭৫টি সুপারিশ করেছে। 

এতে বলা হয়েছে যে, যারা প্রতিরক্ষা সার্ভিসকে তাদের স্থায়ী পেশা হিসেবে নিতে চান না, তাদের জন্য এসএসসি খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হতে পারে। একই সাথে তিন বাহিনীতে কর্মকর্তা পদে যে ঘাটতি রয়েছে, এর মাধ্যমে সে ঘাটতিও পুরণ হবে। ২০০৬ এর আগে দীর্ঘ সময় এসএসসি পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য এটা প্রযোজ্য ছিলো, যেটা পরবর্তীতে প্রথম ধাপে আরো পাঁচ বছর এবং পরবর্তী ধাপে আরো চার বছর সম্প্রসারণের সুযোগ ছিলো। 

২০০৬ সালে এসে এসএসসিকে আরো আকর্ষণীয় করতে আগের ৫+৫+৪ বছরের ব্যবস্থা বদলে ১০+৪ বছর করা হয়। ফলে সুবিধা পাওয়ার জন্য শুরুতেই ১০ বছরের মেয়াদকে বাধ্যতামূলক করা হয়। 

রিপোর্টে আরো উল্লেখ করা হয় যে, একজন বেসামরিক ব্যক্তি তার এসএসসির মেয়াদ শেষ করার পর বেসামরিক জগতে কাজ শুরু করাটা তার জন্য যথেষ্ট কঠিন। এটা মনে রাখতে হবে যে, সামরিক বাহিনীতে ১০ বছর কাজ করার পর যখন কোনো ব্যক্তিকে ছেড়ে দেয়া হয়, তখন সে তার বয়স ত্রিশ আর চল্লিশের মাঝামাঝি এবং এ বয়সটাতে নতুন ইনিংস শুরু করাটা খুবই কঠিন।

আগামীনিউজ/বিজয়

Dr. Neem