Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

সুপারি


আগামী নিউজ | ড. নিম হাকিম প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২১, ০১:২৬ পিএম
সুপারি

ছবিঃ আগামী নিউজ

পরিচিতিঃ (Botanical Name: Areca catechu L., Common Name: Supari, English Name: Betel Nut, Family: Palmae)

সুপারি গাছ শক্ত, সরু ও লম্বা শাখা প্রশাখাহীন গাছ। সাধারণত ২৫ থেকে ৫০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। পত্রদণ্ডের পরস্পর বিপরীত দিকে পাতাগুলো থাকে এবং লম্বায় দুই ফুট পর্যন্ত হয়; পত্রদন্ড লম্বা ১০ ফুট পর্যন্ত হতে দেখা যায়। পুষ্পদন্ড (বহু শাখা-প্রশাখা) বিভক্ত পুষ্পমঞ্জরী সম্পন্ন। প্রতিটি মঞ্জরীর গোড়ায় ৩৫০ টি স্ত্রী ও ডগায় প্রায় ৪৮,০০০ পুরুষ ফুল থাকে। ফল (সুপারি) কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও পাকা অবস্থায় গাঢ় হলুদ বা কমলা রং ধারণ করে।

প্রাপ্তিস্থানঃ বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই সুপারি গাছ বেশি দেখা যায়। তবে বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, বাগেরহাট, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট ও উপকূলীয় জেলা সমূহে সুপারি ভালো জন্মে।

চাষাবাদঃ সাধারণতঃ জুলাই মাসে সুপারি গাছে ফুল ধরে ও নভেম্বর মাসে ফল পাকে। ফল পাকলে গাছ থেকে আহরণ করে ১৫সেন্টিমিটার দূরত্বে ৫ সেন্টিমিটার গভীর গর্তে সুপারীর মুখ উপরের দিকে রেখে বীজতলায় বপন। করতে হয়। বীজ বপনের পর বীজতলায় ছায়া ও পানি দেয়া প্রয়োজন সাধারণত ৫০ দিনে চারা গজায়।

লাগানোর দূরত্বঃ ৬ ফুট পর পর।

উপযোগী মাটিঃ সব ধরনের মাটিতে সুপারি হয়ে থাকে। তবে পানি জমে না এমন উঁচু দোআঁশ মাটি, পলি মাটি ও লোনা মাটি সুপারি চাষের জন্য উপযোগী।

বীজ আহরণঃ নভেম্বর মাসে সুপারি গাছে ফল পাকে। সে সময় গাছ থেকে সুপারি সংগ্রহ করে সাত থেকে দশ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে ঢেকে রেখে বীজতলায় বীজ বপন করতে হয়।

প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণঃ প্রায় ৫০ টি।

প্রক্রিয়াজাতকরণ/সংরক্ষণঃ সুপারি কাঁচা ও পাকা অবস্থায় ব্যবহার করা হয়। 

ব্যবহার্য অংশঃ  ফলতবে শিকড়ও ব্যবহার হয়ে থাকে।

উপকারিতা/লোকজ ব্যবহারঃ গুঁড়া কৃমি এবং রক্ত আমাশয়ে সুপারি বিশেষ উপকারী। সুপারি পেটের পীড়া, মাড়ির ফোলা ও মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।

কোন অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হয়ঃ

  • গুড়া কৃমির উপদ্রব হলে ৪ গ্রাম সুপারি থেঁতো করে ৩ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এককাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে সকালে বিকালে দুইবার খেলে উপকার পাওয়া যায়। শিশুদের জন্য পরিমাণে অর্ধেক।
  • ৪ গ্রাম সুপারি থেঁতো করে তার সঙ্গে কাঁচা বেল ১ গ্রাম পরিমাণ গুঁড়া ৩ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে সকালে বিকালে দুইবার খেলে রক্ত আমাশয় সেরে যায়।
  • ঘা পচে গিয়ে দুর্গন্ধ হলে কাঁচা সুপারি ভালোভাবে শুকিয়ে খোসাসহ থেঁতো করে তার মিহি গুঁড়া ঘায়ে লাগালে দুর্গন্ধ দূর হয় ও ঘা সেরে যায়।
  • সুপারি মিহি করে ভেজে তা দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের ব্যথা ও পায়োরিয়া রোগ ভাল হয়।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ সাধারণতঃ ৬-৮ বছরে সুপারি গাছে ফল ধরে তবে ১২ থেকে ১৫ বছরে পরিপূর্ণ ফলবান হয়।

অন্যান্য ব্যবহারঃ পানের সাথে সুপারি খাওয়া হয়। সুপারি গাছের কান্ড ঘরের মাচা, খুঁটি, সিলিং ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়। সুপারির খোসা দিয়ে হার্ডবোর্ড তৈরি করা যায়। সুপারি গাছের পাতা দিয়ে মাদুর, ঝুড়ি ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

আয়ঃ একটি পরিপূর্ণ সুপারি গাছ থেকে বছরে ৬০০ থেকে ৭০০ সুপারি পাওয়া যায়। এক একরে সুপারি থেকে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

আগামীনিউজ/নাসির