Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

কনকচাঁপা


আগামী নিউজ | ড. নিম হাকিম প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০২১, ০৪:৪৪ পিএম
কনকচাঁপা

ছবিঃ সংগৃহীত

পরিচিতিঃ (Botanical Name: Pteropermum acerifolium Wild., Common Name: Kanokchapa, English Name: Unknwon, Family: Sterculiaceae)

কনকচাঁপা দীর্ঘাকৃতির চিরহরিৎ বৃক্ষ, ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে দেখা যায়। শাখাগুলো চারিদিকে বিস্তৃত, ছাল মসৃণ, কাঠ লাল বর্ণ, গুড়ি গোলাকার। গোলাকৃতির পাতার এক পিঠ উজ্জ্বল, সবুজ ও মসৃণ কিন্তু অন্য পিঠ রুক্ষ ও সাদাটে-ধূসর। ফুলের কলি দীর্ঘ, গোলাকৃতি ও বাদামি-হলুদ। ফুলের আকারে বেশ বড়, শ্বেতবর্ণ বা হরিদ্রাভ। একস্থানে কখনও কখনও দুই-তিনটি ফুল হতে দেখা যায়। ফুলের বহিঃচ্ছেদ চার-পাঁচটি ও লম্বা। পাপড়ী আরও লম্বা। বীজ পশমযুক্ত ও সংখ্যায় অনেক। মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত গাছে ফুল থাকে। ফল অনেকদিন গাছে থাকে এবং পরবর্তী বছর ফুল ফোটার আগে ফেটে মাটিতে পড়ে যায়। ভারত ও মালয়েশিয়া কনকচাঁপার আদি বাসস্থান। চিরহরিৎ, ছায়াঘন ও সুগন্ধি ফুলের জন্য একে পথের পাশে ও উদ্যানে রোপন করা চলে। 

প্রাপ্তিস্থানঃ পৃথিবীর সব অঞ্চলে এ ফুল দেখতে পাওয়া যায়।

চাষাবাদঃ বীজ থেকে চারা তৈরি করে লাগানো যায়। তেমন কোন যত্নের প্রয়োজন হয় না। এর বীজ সহজেই অঙ্কুরিত হয় কিন্তু বৃদ্ধি মন্থর।

লাগানোর দূরত্বঃ ২৫ থেকে ৩০ ফুট।

উপযোগী মাটিঃ সব ধরনের মাটিতে জন্মে থাকে তবে বিস্তীর্ণ মরুভূমিতে দেখা যায় না।

প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণঃ ১,০০০ থেকে ১,২০০ টি।

বীজ সংগ্রহের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি-মার্চ।

প্রক্রিয়াজাতকরণ/সংরক্ষণঃ বীজ সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে এক থেকে দেড় মাস সংরক্ষণ করা যায়। 

ব্যবহার্য অংশঃ পাতা ও ফুল।

উপকারিতা/লোকজ ব্যবহারঃ কনকচাঁপার পাতা রক্তস্রাব বন্ধ করতে সহায়তা করে। পাতা বসন্ত রোগের ঔষধ।

কোন অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হয়ঃ

  • রক্তস্রাবে পাতার রস ২ বা ৩ চা চামচ খেতে হয়।
  • পাতার কাথ্ব সামান্য কাঁচা হলুদ বাটাসহ গায়ে মাখলে বসন্ত রোগে উপকার হয়।
  • ১০ গ্রাম ফুলের রস ৫০০ গ্রাম পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে ভাইরাস ও পতঙ্গ বিতাড়িত হয়।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ সাত থেকে দশ বছরে পরিপক্ক হয়।

অন্যান্য ব্যবহারঃ নাতিদীর্ঘ ও মসৃণ কান্ড, ছায়ানিবিড় পাতা ও বড় ফুলের জন্য কনকচাঁপা বাগান বা গৃহের প্রাঙ্গণে একটি অনন্য নির্বাচন। এর কাট দৃঢ় লাল বা বাদামি, কাঠ দিয়ে দিয়াশলাই ও দিয়াশলাইয়ের বাক্স বানানো যায়। পাতার প্যাকেটে গ্রামাঞ্চলে তামাক, গুঁড় ও লবণ বিক্রি করা হয়। এর ফুল জীবানুনাশক ও পতঙ্গনাশক। 

আয়ঃ প্রতি একর জমিতে বছরে ৭০,০০০ হাজার টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।

আগামীনিউজ/নাসির