Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

নয়নতারা


আগামী নিউজ | ডঃ নিম হাকিম প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ০৪:০০ পিএম
নয়নতারা

ছবি: সংগৃহীত

পরিচিতিঃ (Botanical Name: Catharanthus roseus(L.) Don., Common Name: Nayantara, Eghlish Name: Perwinkle, Family: Apocynaceae)

নয়নতারা একটি গুল্ম জাতীয় বহু শাখা ও ঘন পাতা বিশিষ্ট উদ্ভিদ। এটি ২ থেকে ৩ ফুট পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা অনেকটা ডিম্বাকৃতি। বোঁটাসহ লম্বা ২-৩ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। উপরিভাগ গাঢ় সবুজ থাকলেও নিচের ভাগ হালকা বর্ণের। নয়নতারার শাখা শক্ত ও কাষ্ঠল। সারাবছর ফুল ফোটে এবং ফল ধরে। সাধারণতঃ গোলাপি, হালকা গোলাপি ও সাদা এ তিন ধরনের নয়নতারা দেখা যায়। পুষ্পদন্ডে পাপড়ি বিশিষ্ট ফুল ফোটে। পাপড়ি চারদিকে ছড়ানো থাকে এর নিচের দিকে রং হালকা। ফল দেখতে অবিকল সরিষার শুঁটির মত, লম্বালম্বিভাব দু’টি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত এবং প্রতি ফলে সরিষার আকারে ১৬-৩০ টি পর্যন্ত বীজ থাকে। সমগ্র গাছটি তিতা স্বাদের।

প্রাপ্তিস্থানঃ বাংলাদেশের সর্বত্র এটি জন্মায়।

চাষাবাদঃ কাটিং বা বীজ থেকে চারা গজায়। গাছের নিচে পাকা বীজ পড়ে এমনিতেও নতুন চারা গজায়। এগুলি সরিয়ে রোপণ করলে নতুন গাছ জন্মায়। তেমন কোন যত্নের প্রয়োজন পড়ে না। গাছের বয়স পাঁচ থেকে ছয় মাস হলেই একে ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা চলে। 

লাগানোর দূরত্বঃ দুই থেকে তিন ফুট।

উপযোগী মাটিঃ প্রায় সব ধরনের মাটিতে এর চাষ করা যায়। ছায়াতে ঘেরা বালি এবং কাঁকুড়ে মাটিতে ও এরা বেঁচে থাকে।

বীজ আহরণঃ সারাবছর নয়নতারা গাছে ফুল ও ফল থাকে। তাই সবসময় এর ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করা যায়।

প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণঃ প্রায় এক লক্ষ।

প্রক্রিয়াজাতকরণ/সংরক্ষণঃ বীজ সংরক্ষণের প্রয়োজন পড়ে না।

ব্যবহার্য অংশঃ ভেষজ হিসেবে নয়নতারার পাতা ও মূল ব্যবহৃত হয়।

উপকারিতা/লোকজ ব্যবহারঃ সমগ্র গাছের রসের প্রায় ৭০ টি উপক্ষার পাওয়া যায়। তার মধ্যে ভিন ক্রিস্টিন এবং ভিন ব্লাস্টিন নামক উপক্ষার দু’টি লিউকোমিয়া রোগের ঔষধ হিসেবে বিশেষভাবে গণ্য। নয়নতারা নিয়ে দেশে-বিদেশে বিজ্ঞানীরা এখনও ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সমগ্র গাছ ডায়াবেটিস রোগে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়া গাছটি অবসাদক, স্নায়ু উত্তেজনা নাশক ও নিদ্রাকারক।

কোন অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হয়ঃ

  • বিষাক্ত ক্ষত ও ঘাঃ শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে কিংবা ঘা যদি বিষাক্ত হয়ে যায়, নয়নতারা গাছের রস প্রয়োগ করলে খুবই উপকার পাওয়া যায়। রোজ একবার করে কচি ডাল ও পাতা বেটে তার রস দিয়ে ঘা ধুয়ে দিতে হবে। সাতদিন ব্যবহারে বিষদোষ নষ্ট হয়ে যাবে এবং ঘা শুকিয়ে যাবে।
  • রক্তের চাপ বাড়লেঃ পাঁচ মিলিলিটার নয়নতারা গাছের মূলের টাটকা রস সকালে খালি পেটে একবার করে খেতে হবে। তিন-চারদিন খেলে উপকার পাওয়া যাবে। তবে চার পাঁচদিন পরে অবশ্যই রক্তের চাপ পরীক্ষা করে নিতে হবে।
  • বহুমূত্র রোগেঃ প্রতিদিন সাদা নয়নতারা গাছের দু’টি পাতা খালি পেটে চিবিয়ে খেলে এ রোগ মোটেই বাড়তে পারে না। যাদের দাঁত নেই তারা পাতাকে সামান্য পানি দিয়ে বেটে এক চামচ পরিমাণ রস খাবেন। নয়নতারা পাতা নিয়মিত খেলে রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ ৬ থেকে ৮ মাসে নয়নতারা গাছ পরিপক্ক হয়ে থাকে।

অন্যান্য ব্যবহারঃ নয়নতারা বাগানের শোভা বৃদ্ধির জন্য রোপণ করা হয়ে থাকে।

চাহিদাঃ দেশে ও বিদেশে নয়নতারা চাহিদা রয়েছে। তাই এটি চাষ করা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে।

আয়ঃ এক একর জমিতে নয়নতারা চাষে ২৫-৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।