Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

বিষকাঁটালি


আগামী নিউজ | ডঃ নিম হাকিম প্রকাশিত: মে ১৮, ২০২১, ০১:১৫ পিএম
বিষকাঁটালি

ছবি: সংগৃহীত

পরিচিতিঃ (Botanical Name: Polygonum L., Common Name: Biskatali, English Name: Water Pepper, Family: Polygonaceae)

অনেক শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট বিরুৎ উদ্ভিদ। ডোবা বা জলাশয়ের ধারে জন্মে থাকে। পাতা একক, সম্পূর্ণ ও সুক্ষ্ণাগ্র। এটি যেখানে জন্মে সেখানে খুব  ঘন সন্নিবেশিতভাবে থাকে। কান্ডের নিচের অংশ তখন পর্ব থেকে শিকড় বের করে মাটির সাথে সংলগ্ন হয়ে থাকে। বীজ কালো, গোড়ার দিক অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত। ভারত এর আদি বাসস্থান।

প্রাপ্তিস্থানঃ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে, ডোবা-নালা, খাল-বিলের ধারে পাওয়া যায়।

চাষাবাদঃ প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকে। নভেম্বর মাসে বীজ আহরণ করা যায়। বীজ বপনের মাধ্যমে বংশ বিস্তার হয়।

বীজ আহরণঃ বীজ পেকে কালো রং ধারণ করলে আহরণ করতে হয়।

লাগানোর দূরত্বঃ ধান ও পাটের বীজের মত বপন করলেই চলে।

উপযোগী মাটিঃ স্যাঁতস্যাঁতে কর্দমাক্ত মাটিতে ভাল জন্মে।

প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণঃ ২৫,০০০-৩০,০০০ পর্যন্ত বীজ হয়।

প্রক্রিয়াজাতকরণ/সংরক্ষণঃ সাধারনতঃ কাঁচা অবস্থায় ব্যবহৃত হয়।

ব্যবহার্য অংশঃ সম্পূর্ণ উদ্ভিদ।

উপকারিতা/লোকজ ব্যবহারঃ বিষকাঁটালি ভেজসগুণে সমৃদ্ধ। পাতার রস রক্তপাত বন্ধ করে। রক্তবমন ও রক্ত আমাশয়ে উপকারি। বিষকাঁটালি শব্দের অর্থ যা বিষ বা আঘাত নষ্ট করে। ফোঁড়া ফাটানোর জন্য এ গাছটি ব্যবহার হয়ে থাকে। বর্ষাকালে খোলা পায়ে অধিক চলাফেরা করলে, পায়ের আঙ্গুলের চিপায় ঘা হলে ও গাছ বাটা লাগিয়ে দিলে অতি সহজেই আরোগ্য হয়।

কোন অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হয়ঃ

  • পাতার রস ১-২ চামচ খেলে রক্ত বমি ও আমাশয়ে উপকার পাওয়া যায়।
  • কেটে গেলে পাতার রস ব্যবহার করা হয়।
  • তিন বছরের নীচের শিশুদের ও গর্ভবতী মায়েদের খাওয়া নিষেধ।
  • গরুর শরীরে উকুন হলে শোয়ার জায়গায় বিষকাঁটালি বিছিয়ে দিলে উকুন দূরীভূত হয়।

অন্যান্য ব্যবহারঃ পশুখাদ্য হিসেবে বিষকাঁটালির প্রচলন রয়েছে।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ নয় মাস।

আয়ঃ একর প্রতি জমিতে বছরে ২০,০০০ টাকা থেকে ২৫,০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।