Agaminews
Dr. Neem Hakim

ঘৃতকুমারী (Aloe Vera)


আগামী নিউজ | ড. নিম হাকিম প্রকাশিত: এপ্রিল ২৭, ২০২০, ০৪:৪৯ পিএম
ঘৃতকুমারী (Aloe Vera)

ছবিঃ সংগৃহিত

পরিচিতিঃ
Aloe (Latin: Aloe; Greek: loe) এর এখন পর্যন্ত ১৮০  টি প্রজাতি সনাক্ত করা গেছে। এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে Aloe Vulguris,  Aloe  Barbadensis সবচেয়ে বেশী গুনাগুন সম্পন্ন। ভেষজটি দেখতে ক্যাকটাসের মত মনে হলেও আসলে ক্যাকটাস নয়। ঘৃতকুমারী হলো প্রকৃতি থেকে  প্রাকৃতকি  উপাদান উৎপাদনকারী একটি প্রধান উদ্ভিদ। 
 
উদ্ভিদতাত্বিক বর্ণনাঃ Aloe barbadensis, Liliaceae পরিবারের একটি কান্ডহীন উদ্ভিত। এটি বহু বর্ষজীবি উদ্ভিদ এবং গুচ্ছ শিকড় যুক্ত। রসাল ও চারিদিকে সাজানো পাতা যুক্ত এই উদ্ভিদ দেখতে খুবই সুন্দর এবং অন্যান্য উদ্ভিদ থেকে তা সহজেই আলাদা ভাবে চিহ্নিত করা যায়। 

পাতা ২৫ থেকে ৫০ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা এবং ৫ থেকে ১০ সে.মি. পর্যন্ত চওড়া হয়ে থাকে। সঠিক চাষাবাদে এক মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা যায়। শীতকালে মাত্র দুই বছর বয়সে ফুল হয় এবং তা ৯০ -১০৫ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। ফুল উজ্জ্বল হলুদ। ফুল গুলো সবই পুরুষ প্রকৃতির তাই শুধু মাত্র পুকি (Sucker) থেকেই বংশবৃদ্ধি করা সম্ভব। 

ঘৃতকুমারী ক্যাকটাসের মত দেখতে যা উষ্ণ  জলবায়ু অঞ্চলে ভাল জন্মায়। যে কোন ধরনের মাটি যেমন দোআঁশ, লাল, কালো বা বালু মাটিতেও জন্মায়। ঘৃতকুমারীর বহু প্রকারের মধ্যে মাত্র ৪টি প্রজাতির ঘৃতকুমারী ঔষধি গুন সমৃদ্ধ। এর মধ্যে Aloe Barbadensis বা Barbadian সবচেয়ে বেশী গুনাগুন সম্পন্ন। এই প্রজাতির ঔষধি উপাদানের জন্য খ্যাতি এবং প্রসাধন শিল্পে এর বহুবিধ এবং ব্যাপক ব্যবহার আছে। 

প্রকৃতপক্ষে এই উদ্ভিদের আসল জন্ম স্থান হলো উত্তর আফ্রিকা এবং এটা অতি উষ্ণ মরুভূমির মত জায়গায় ভাল জন্মায়। সমগ্র আফ্রিকা অঞ্চল এবং অনুরূপ জলবায়ু অঞ্চলে ঘৃতকুমারী দেখা যায়। 
আামদের দেশে দক্ষিণাঞ্চলের, রাজবাড়ী,  নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বর্তমানে  বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। 
সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামেও চাষাবাদে শুরু হয়েছে বিভিন্ন আদিবাসী এলাকায়। 

বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব লোকজ ঔষধের ব্যবহারের দিকে ক্রমান্বয়ে আকৃষ্ট হচ্ছে তাই আমাদের উচিৎ হবে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বেশী বেশী ঔষধি উদ্ভিদের চাষাবাদ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা। দেশকে আর্থিকভাবে লাভবান করা। 

ঘৃতকুমারীর বিভিন্ন প্রকারঃ 
Aloe Barbadensis Miller:
এই প্রকারের ঘৃতকুমারী Barbados থেকে এসেছে বলে শ্রুত, যদিও তার আদি জন্মস্থান উত্তর আফ্রিকা। এই প্রজাতির কান্ড খুব ছোট এবং ফুল হয় উজ্জ্বল হলুদ। এই প্রজাতির এ্যালোভেরা (Aloe Vulgaris lam, Aloe ferox Mille)।  এই প্রজাতি Aloe del Cabo নামে পরিচিত। Aloe Barbadensis এর সাথে এর পার্থক্য হলো এর কান্ড বড় এবং ফুল অনেকটা লাল। এ্যালোভেরার আরও দুটি প্রজাতি হলো  Aloe Saponaria  এবং  Aloe Vahom

রাসায়নিক যৌগঃ (Chemical Composition) 
স্বাস্থ্যের জন্য ঘৃতকুমারী খুবই সমৃদ্ধ ভেষজ। এর রাসায়নিক যৌগে ঔষধি ব্যবহারের উপাদান রয়েছে। ঔষধি কার্যকারীতার জন্য নিম্নে রাসায়নিক বিশ্লেষণ এর বিবরণ দেয়া হলো:-
Aloe emotion :  Intestinal mucous membrane কে তার যথাযথ কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত করে।
Aloe mitiona :  কয়েক রকম ক্যানসার  প্রতিরোধ, এবং সৃষ্টি বাধাগ্রস্থ হরে। 
Aloe oleina :  অন্ত্র এবং পাকস্থলী এর আলসার বা ঘা সারায়। Acidity reutvalize করে । 
Emolina, Emodina, Barbaloria, Cre atinisa : এনার্জি সংরক্ষণ ও পরিচালনা করে।
Saponias :  এন্টিসেপ্টিক উপাদান আছে। 
Carrisina :  Immune  system এর  শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। 
Amino Acid :  প্রোটিন সৃষ্টি এবং Immune System বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বৃদ্ধি করে। 
Vitimins :  শরীরের সকল Functions বা কার্যকারীতা বৃদ্ধি করে।  
Mucinous :  চামড়ার সকল প্রকার রোগ ও সমস্যায় উপকারী। 
Fosfalo De Mons :  কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং বিশেষ করে মুখ গহ্বরের ঘায় খুবই উপকারী।

ঘৃতকুমারীর ব্যবহার (Usage of Aloe Vera) :  কমপক্ষে ফার্মালোজিক্যালি চারটি কার্যকরী উপাদান রয়েছে ঘৃতকুমারীতে Brandy Kines, Magnesium lactate, a substanee with antiprostag landirn activity যা  anthrax quinone. এই উপাদানগুলোই ব্যাথা নিরাময়ে কাজ করে, চরম প্রদাহে (Inflmation)। Magnesium Lactate ঘৃতকুমারীর অনেক প্রজাতির মধ্যেই পাওয়া যায়। হিস্টামিন নামক এক প্রকার অন্তরস সৃষ্টিতে বাধাগ্রস্থ করে এই অন্তরস চামড়ায় চুলকানী বা Itching এর জন্য দায়ী। হিস্টামিন তৈরী বন্ধ করে চুলকানী বন্ধ করে। এই চুলকানী বিষ (Poison) বা বিষাক্ত কীট-পতঙ্গের কামর থেকে হতে পারে। ঘৃতকুমারীতে রয়েছে antiprostag landirn agent যা প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
Anthraqunoneat: এই উপাদানে Psoriasis- সোরিয়াসিস / নিরাময়ে ব্যবহার হয়। ঘৃতকুমারীর রস থেকে Aloin, সংগৃহীত হয় যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ মাত্রার Qunone সম্ভবত চর্মরোগের নিরাময়ের জন্য এই উপাদানটিই কার্যকরী। ঘৃতকুমারীর তাজা বা Fresh জুস্ বা রস শীতল কারক এবং চোখের সমস্যার উপকারী। অন্ত্র (Spleen) এবং লিভারের সমস্যায় এই জুস্ বেশ উপকারী। X-Ray এর কারনে দেহ এবং চামড়ার বিভন্ন রোগ ও Cutaneous disorder এ ভাল কাজ করে। 
ঘৃতকুমারী জুসে লৌহ বা আইরন থাকার কারনে রক্ত শূন্যতা রোধ করে এবং হজমের সমস্যাও উপকারী। এই জুস মেদ বা স্থলতা রোধ এবং কমাতে সাথে সাথে laxative জাতীয় ঔষধ তৈরীতে প্রয়োজনীয় উপাদান। 
চামড়ার শুষ্কতারোধ, স্নিগ্ধকারক (emollient)যা wound বা আঘাত জনিত ব্যথার জন্য অনেক ঔষধ ও প্রসাধনা তৈরীতে ব্যবহার হয়। 
আয়ুর্বেদিক ঔষধে হরমোন বিহীন অনিয়মিত মাসিক (Irregularities of Oestrus cycle) বিশেষ উপকারী dysmenorr hoe ও উপকারী। এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই। মেয়েলোকের নিস্তেজতায়, পোড়া ঘায়ে ঘৃতকুমারীর জেল খুবই উপকারী এবং প্রদাহ নিরাময়ক। কীট পতঙ্গের কামড় এবং বাত বা arthritis নিরাময়ে  ব্যবহার হয় জেল।  কৌষ্ঠ কাঠিন্য রোগেও ভাল ফলদায়ক।
ঘৃতকুমারীর বিভিন্ন কার্যকরী উপাদান এর বিভিন্ন প্রজাতীর উপর নির্ভর করে। চামড়ার শুষ্কতারোধে বা চামড়া শীতল ও মোলায়েম রাখার জন্যই মূলত প্রসাধনীতে ঘৃতকুমারী ব্যবহার হয়। এক পরিসংখ্যানে জানা যায় যে আমেরিকার অন্ততঃ ৪০ প্রকার প্রসাধনীতে ঘৃতকুমারী ব্যবহার হয়। ঘৃতকুমারীতে ১৭ প্রকার অ্যামিনো এসিড বিদ্যমান এবং সাত প্রকারের খনিজ বা Minerals রয়েছে। ঘৃতকুমারীর জেল এন্টি ইনফ্লেমেটরী, এন্টি-ব্যাকটেরিল, এন্টি ভাররিসাইডাল, এন্টি কাঙ্গিমাইডাল এবং  এন্টি পাইরেটিক। 
ঔষধি কার্যকরীতা (Pharmaceutical effects): ঘৃতকুমারীর প্রয়োগ মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন। মুখগহ্বরে ব্যবহারের জন্য নিম্ন মাত্রা (০.০২-০.০৬ মিলি) পাকস্তলীর সমস্যায় ব্যাহার হয় মধ্যম মাত্রা তা হলো (০.১০ মিলি) এটা সামান্য পিচ্ছিল কারক (Laxative) হিসাবে ব্যবহার হয় এবং উচ্চ মাত্রা (০.২০-০.৫০ মিলি) এর অতি পিচ্ছিল কারক হিসেবে ব্যবহার হয়। পুর্বেই বলা হয়েছে যে, এর অতি পিচ্ছিলতার জন্য Antiraquinones দায়ী। 
বৃহদন্ত্রের দেয়ালের উত্তেজনা (Peristalsis) বৃদ্ধি করে পায়খানার বেগ ত্বরান্বিত করে সে কারনে এটা Laxative বা পিচ্ছিল কারক। ঘৃতকুমারীতে এন্টি-সেপটিক, এন্টি-বায়োটিক, নিরাময়ক, এ্যানাটক্সিন, ময়েসচরাইজিং, এন্টি-ফাংগাল, ইমিউন এবং এন্টিইচিং উপাদান বিদ্যমান। 
চামড়া পুনঃ বৃদ্ধি(Regenarating) ইমুলুয়েন্ট (Emollient) শুষ্ক কারক (Hydrating), Epiltelizantes এবং এন্টি ইনফ্লেমেটরী বা প্রদাহ নিরাময়ক।

স্বল্পস্থায়ী উপাদানে (Vulneraries Properties) 
চিকিৎসায় প্রয়োগ (Therapeutical Application): ঘৃতকুমারীর জুস বা পাতা ঠান্ডা এবং সূর্যের প্রদাহ আগুনে বা উষ্ণ তাপের প্রদাহ, ক্ষতিকর রাসায়নিকের কারনে এবং অতি শীতল জনিত সমস্যায় বেশ উপকারী। ডিজাইনফেকটেন্ট এবং আরও অনেক সমস্যা নিরাময়কারী যেমনঃ হেমোরয়েডস (Hemorhoids), ডারমাটাইটিস (Dermatitis), একজিমা (Ecxema), একনি (Acne), হিরোয়েস  (Heroes) এবং স্ট্রির্চ (Stritch) মার্কস (Marks)। এছাড়াও এ্যাথলেট ফুট (Athletes foot), ক্রনিক আলসার (Cronic ulcers), ড্রাই এন্ড গ্রেজী স্কিন (Dry and greasy skin), দাঁতের ও মুখ গহ্বরের সমস্যা এবং দাঁতের গামের প্রদাহ নিরাময়ে উপকারী। বিশেষভাবে পাকস্থলীতে হজমের সমস্যা পেপটিক আলসার, হার্নিয়া এবং হজমে ব্যবহৃত জারক রস প্রয়োজনীয় মাত্রার বৃদ্ধি করে। প্রাচীনকাল থেকে কৌষ্ঠকাঠিন্য বা Constipation নিরাময়ে ঘৃতকুমারীর বহুল ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। 
ঘৃতকুমারীর জুস খাওয়ার মাত্র ৮ ঘন্টার মধ্যে এর কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও ঘৃতকুমারী হেপাটিক (Hepatic), রেনাল (Renal), প্যানিক্রিয়াটিক (Panicreatic) সমস্যা এবং Dyspepsia এবং  DISQUINESI AS BILIARES এ উপকারী। রক্ত ও lymph সার্কুলেন বাড়ায় এবং রক্ত শোধনে কাজ করে। 
ঘৃতকুমারীর জুস অন্তকার্যকারীতার সমস্যা যেমনঃ যক্ষা, ব্রংকহিটিস, এজমা, ঠান্ডা, সর্দি, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং Anaermic এর জন্য উপকারী, কারন এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ও খনিজ বা মিনারেল। ঘৃতকুমারী দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দুর্বলতা থেকে শরীর সতেজ করে। 
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং শারীরিক দুর্লবলতা বা ক্লান্তির কারনে এইডস এর মত প্রাণঘাতী রোগ পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
প্রসাধনীতে ব্যবহারঃ বহুবিধ ব্যবহারের মধ্যে প্রসাধনীতেই ঘৃতকুমারীর ব্যবহার বেশী লক্ষ্যনীয় এতে রয়েছে পুনঃ উৎপাদনের উপাদান বা (Regenarative properties) যা বেস (Base) হিসেবে ব্যবহার হয়। 
অনেক প্রসাধনীতে প্রয়োজনীয় উপাদান বা (Essential Component) হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। 

চর্মে প্রয়োগ (Skin Applications): ঘৃতকুমারী চামড়ার তিনটি স্তরে কাজ করে। এসব স্তর থেকে ব্যাকটেরিয়া বিতারন এবং চর্বি জুমে চামড়ার ছিদ্র বন্ধ হওয়া রোধ করে। একই সময় এর নিউট্রেন্টস, মিনারেলস, ভিটামিন, এ্যামিনো  এসিডস এবং ইনজাইমকে উত্তেজিত বা সচল করে শেষ বিভাজনে সহায়তা করে। চামড়াকে টান টান করে কোষ পুনঃ উৎপাদনে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে বার্ধ্যকের ছাপ পড়ে না এবং অকাল পক্কতা রোধ করে। মেকআপ ধরে রাখতে মেকআপের পুর্বে মুখে মেখে নিলে মেকআপ সহজে মুছে যাওয়ার ভয় থাকে না। ময়েশ্চারাইজিং ক্রীমে ঘৃতকুমারী ব্যবহার হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে সূর্যের প্রদাহের কারনের দাগ দুর করে এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি রোধ করে। সেভের পরে ঘৃতকুমারী সরাসরি ব্যবহার করা যায় তারপর এ্যালো লোশন ব্যবহার খুবই আরামদায়ক। ঘৃতকুমারী ব্যবহারে দাগ হওয়া প্রতিরোধ এবং হওয়া দাগ দুর করে। ঘৃতকুমারী ব্যবহারের পরপরই ক্রীম বা তেল দিয়ে চামড়ায় মালিশ করা জরুরী। চুলের যত্নে ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ঘৃতকুমারীর ব্যবহার হয়ে থাকে। ঘৃতকুমারী জুস শ্যাম্পুর মত ব্যবহার করা যায় এবং এতে চুল ও মাথার ত্বকের উপকার হয়। খুশকি ও অকালে চুল পড়ার সমস্যায় ঘৃতকুমারী সরাসরি ব্যবহার করা যায়। 
মুখ গহ্বরের যত্ন (Oral Hygiene): মুখ গহ্বরের চিকিৎসায় বিশেষ করে দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া ও ব্যথায় ব্যবহার হয়। দাঁতের ক্ষয় রোধেও ঘৃতকুমারীর বিশেষ ভূমিকা আছে। মুখ গহ্বরের দুর্বলতায়ও ঘৃতকুমারী ব্যবহার হয়।
ঔষধে ব্যবহার (The Medical use): এখানে বহুবিধ রোগ ব্যধি বা সমস্যায় ঘৃতকুমারীর ব্যবহার বর্ননা করা হলো। এর অনেক রোগের চিকিৎসায় এখন ঘৃতকুমারী থেকে তৈরী ঔষধ ব্যবহার হয়। 
এলার্জি (Alergy): ঘৃতকুমারী ব্যবহারে এলার্জি হওয়া অত্যন্ত  স্বাভাবিক। পরীক্ষা করা জন্য বাহুর ভিতরের দিকে সামান্য ঘৃতকুমারীর জেল বা জুস মাখুন। যদি মাখার সাথে সাথেই ঐ অঞ্চল লাল হয়ে যায় এবং চুলকায় বা ব্যাথা করে তাহলে কোন অবস্থাতেই ঘৃতকুমারী ব্যবহার করবেন না। বিভিন্ন ধরনের এলার্জিতে ঘৃতকুমারী মেখে তা কমাতে এবং সারানো যায়। এজমায় ঘৃতকুমারীর পাতা একটি পাত্রে সিদ্ধ করে তার ধুয়া নাক দিয়ে টানতে পারেন। ঘৃতকুমারীর জুস বাষ্পের সাথে নাকের ভিতর মালিশ করা যেতে পারে এতে অনেকটা আরাম পাওয়া যায়।
পোড়া ও যন্ত্রনা (Burns and irretations): ঘৃতকুমারী প্রাথমিক চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ঘৃতকুমারী ব্যথা কমায় এবং ইনফেকশন বা সংক্রমন ঠেকিয়ে রোগ বৃদ্ধি রোধ করে। নিরাময়ে ঘৃতকুমারীর রয়েছে ত্বড়ান্বিত করার ভূমিকা। দীর্ঘকাল ধরে ঘৃতকুমারী কোষ্ঠ কাঠিন্য সেডেটিভ (Sedative) হিসাবে ব্যবহার হয়। ঘৃতকুমারীর পাতার মাংসল অংশ অবিরাম ব্যবহারে চামড়ায় ইনফেকশন হয় না। চামড়ায় কোষ ও পুনঃ উৎপাদনে সক্ষম হয় কোন ব্যথা বা অনরামদায়ক অবস্থা থেকে। 
সূর্য্যের প্রদাহ (Sun burns): সূর্য স্নানের আগে ঘৃতকুমারী ব্যবহার করুন। ঘৃতকুমারী সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি (Ultraviolet ray) প্রতিরোধ করে। তা সত্বেও আমাদেরকে  সূর্য স্নানে সর্তক থাকতে হবে। সামান্য পরিমান জুস চামড়ায় মেখে নেয়াই যথেষ্ট। এতেই দ্রুত উপশমের অবস্থা অনুভব করা  যাবে। সাংঘাতিক রকমের সূর্য প্রদাহে এক চিলতা ঘৃতকুমারী প্রদাহ অঞ্চলের উপরে রাখলেই  হলো। এই পদ্ধতিতে আমরা চামড়ার কোষ কে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারি। এরূপ ক্ষেত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘৃতকুমারী প্রয়োগ করতে হবে। 
কাটা ও আঘাত (Cuts and Wounds) : ঘৃতকুমারী সব সময়ই আঘাত, কাটা সারানো ও দাগ মুছে ফেলতে খুবই জনপ্রিয়। প্রাচীন এই নিরাময় ব্যবস্থা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার হয়। একটি ঘা পরিষ্কার করার জন্য এক চিলতা ঘৃতকুমারী ঘায়ের উপর রেখে প্লাস্টার বা ব্যান্ডেজ করে দিতে হবে। 
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরন (Hemorrhoids): ঘৃতকুমারী সামান্য পিচ্ছিল কারক এ দুই রকম সম্পুরক ভাবে তা ব্যবহার হয়। একটি মাংসল অংশ এর উপর রেখে দেয়া যায় অথবা সকাল বেলা তা উঠায়ে ফেলা যায়। বহিঃ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক টুকরো পাতা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঢেঁকে দিতে হবে। 
দাগ নিরাময় (Healing of Scars): দাগের চিহ্ন মুছে ফেলতে জুস বা জেল সকাল-বিকাল নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে দীর্ঘ দিন ধরে ধৈর্য্যরে সাথে। ভিটামিন ই (Vitamin E) খুবই কার্যকারী এবং ঘৃতকুমারীর সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে। 
স্থায়ীভাবে বর্ধিত শিরা (Vericose Veins) : ভেরিকোসভেইন বা স্থায়ীভাবে শিরা বর্ধিত হওয়া খুবই যন্ত্রনাদায়ক। ব্যথাযুক্ত স্থানে ঘৃতকুমারীর রস মাখলে দ্রুত উপশম হয়। 
চামড়ার ক্যানসার (Skin Cancer ): প্রতিদিন ২-৪ বার ঘৃতকুমারীর জুস ব্যবহার করতে হবে যতদিন প্রয়োজন। ধৈর্য্য সহকারে এবং নিয়মিত ব্যবহার করা বাঞ্চনীয়। 
ঘোড়ার পদতলে প্রদাহ যুক্ত একজিমা; নখ দিয়ে আচরানো (Scratches): ক্ষতযুক্ত স্থানে এক টুকরা ঘৃতকুমারী রাখতে হবে। প্রথম দিন বারবার তা প্রয়োগ করতে হবে। এভাবে ব্যবহারে ব্যথা দ্রুত কমবে এবং দ্রুত নিরাময় হবে। 
একনি (Acne): মুখে ব্রণ, চর্মের এক প্রকার পুঁজ যুক্ত প্রদাহিক অবস্থা এরূপ ক্ষেত্র ছোট ছোট ফুস্করী দেখা দেয়। সাধারনত বয়স সন্ধি বা যৌবনের লক্ষনের সাথে সাথে এ অবস্থা হয়ে থাকে। সাধারনত ইনফেকশনের বা সংক্রমনের  কারনে এ অবস্থা হয়ে থাকে। মুখে অতিরিক্ত চর্বির  জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। হরমোনের কারনেও এর আধিক্য ঘটে। এই অবস্থায় সকাল সন্ধায় মুখের চামড়া ভাল ভাবে পরিস্কার করতে হবে। সাধারন সাবান এবং তৈলাক্ত ক্রীম ব্যবহার থেকে সর্তক থাকতে হবে। প্রতিদিন অল্প সময় ঘৃতকুমারী ব্যবহার করতে হবে।  এতে বাহির ও ভিতরের চামড়া পুনঃ উৎপাদন হবে এবং তৈল শুষে নিবে। 
জেলী ফিস, চুতরা ও কীট পতঙ্গের দংশনঃ  চুলকানী এবং দংশণ যুক্ত স্থানে দ্রুত ঘৃতকুমারীর মাংসল অংশ মাখতে হবে এতে ব্যথা কমে যাবে এবং দ্রুত নিরাময় হবে। 
সোয়িয়াসিস, রাস ও একজিমা (Psoriasis, rash and eczema) : PSORIASIS যা  Psychosomatic বা মন ও শরীরের সম্পর্ক সম্বন্ধীয়; শারীরিক লক্ষনের দ্বারা মানসিক বিকৃতির বহিঃপ্রকাশ যা অনিয়মতান্ত্রিক জীবন যাপনের জন্য ঘটে থাকে এবং চামড়ার স্পর্শ কাতরতার জন্য ও আক্রান্ত হওয়া সম্ভব। এই অবস্থায় প্রতিদিন দুই টুকরা ঘৃতকুমারীর মাংসল অংশ খেতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রতিদিন জেল বা জুস লাগাতে হবে। এছাড়াও ঠান্ডা ময়েশ্চারাইজিং বা অলিভ ওয়েল, বা অন্য কোন প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। 
খোঁস-পাঁচড়া, চুলকানী (Itch): উরু বা পায়ের যে অংশ হাটুর উপরে অবস্থিত (Thigh) সেখানে সাধারনত হয়ে থাকে যা খুবই অস্বস্তিকর।  প্রতিদিন দুইবার ঘৃতকুমারী ব্যবহারে এক দুই দিনের মধ্যেই তা নিরাময় হয়ে যাবে। 
অ্যাথলীটস ফুট (Athlet feet): পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের নীচেও চামড়ার ফাঁকে তৈরী হওয়া একজাতীয় ক্ষত। এটা ফাংগাল ইনফেকশন এবং সাধারনতঃ গ্রীষ্মকালে পুরুষদের হয়ে থাকে। সার্জিক্যাল গজ, ঘৃতকুমারীর জুসে ভিজিয়ে ক্ষত স্থানে রাতভর রেখে দিতে হবে। 

মহিলাদের যৌনাঙ্গে প্রদাহঃ থ্রাস (Thrush) বা ক্ষত TRICHOMONS বা ফ্লাজেলা যুক্ত একজাতীয় আদ্য প্রাণীর আক্রমন এবং যোনি নালিতে অন্যান্য রোগ সংক্রমনে বা ইনফেকশন এবং ইরিটেশন বা দেহের অস্বস্তিকর ভাব। এক্ষেত্রে ঘৃতকুমারী খুবই ভাল উপশম বা নিরাময়কারী। এই  রোগের উপসর্গ হলো জ্বালা, চুলকানী এবং মিউকাস বা কফ শ্লেমা নির্গত হওয়া। এই অবস্থায় এক চিলতে ঘৃতকুমারীর মাংসল অংশ যোনি নালীতে সারারাত রেখে দিতে হবে। দুই এক দিনের মধ্যে তা সেরে যাবে। এই রোগ প্রতিরোধের জন্য যোনি নালী বিশুদ্ধ পানি ও ঘৃতকুমারী দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এতে যোনি নালীর স্বাস্থ্য ও কার্যকারীতা বৃদ্ধি পায়। 

ক্লান্ত এবং অবসন্ন পা (Tired and arching feet): ঘৃতকুমারীর জুস মালিশ করলে এর আশ্চর্য কার্যকারীতা বুঝা যাবে। আরো ভাল উপকার পাওয়া যায় যদি উষ্ণ গরম পানিতে ঘৃতকুমারী রেখে তাতে পা ভিজিয়ে কিছুক্ষন রাখা যায়। এতে পায়ের অবস্থা পুনঃ অবস্থায় ফিরে আনার শক্তি জোগায়। মাসলের ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ব্যথা ও অন্যান্য ব্যথা নিরাময়ে ঘৃতকুমারীর তুলনা নেই। 

সন্ধি সমূহের অস্থিরতা (Articutations): ঘৃতকুমারী ব্যথা হজম বা Inhabit করে এবং চামড়ার কোষ সরাসরি ঘৃতকুমারীর কার্যকর উপাদান গ্রহণ করে এবং দ্রুত রক্তে চলে যায়। এ কারণে ব্যথা দ্রুত উপশম হয়। এই ব্যবস্থা তাপ দিয়ে বা তাপ ছাড়াই করা যায়। ঘরে বসে একটুকরা ঘৃতকুমারী গরম করে তা থেকে এক টুকরা পরিমান মত কেটে নিয়ে অস্থিরগ্রস্ত স্থানে রেখে দেয়া যায়। 

গন্ধ নিবারক (Deodorant): ঘৃতকুমারীর অন্যান্য গুনাবলীর মধ্যে একটি অতিপ্রচলিত বিশেষগুন হলো এটা শরীরের গন্ধ শোধন করতে পারে। আজকাল বাজারে প্রস্তুত রাসায়নিক গন্ধ নিবারকের মত শক্তিশালী না হলেও ঘৃতকুমারী অন্ততঃ চামড়ায় অসস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি করে না। এলার্জিতে ঘৃতকুমারীর ব্যবহার আছে এবং কোন মানুষ যদি বিকল্প দ্রব্য চায় তাহলে ঘৃতকুমারীই উত্তম বিকল্প।  

মাথাধরা ও সাইনোসাইটিসে (Headache, sinuosities): একটুকরা ঘৃতকুমারীর পাতা কপালে রাখুন, তারপর কিছু সময় তা চামড়ায় মাখুন। এছাড়া সাজিক্যাল গজ ঘৃতকুমারীর জুসে ভিজিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। এই ভিজানো গজ কপালে রাখতে হবে। যদি মাথা ব্যথা সাইনাসের  কারনে হয়ে থাকে তবে এই গজ দিয়ে নাক ঢেঁকে রাখতে হবে। 

স্নায়ু যন্ত্রনা (Painful nerves): ঘৃতকুমারীর আরেকটি চমৎকার গুন হলো নষ্ট হয়ে যাওয়া স্নায়ুর কার্যকারীতা পুনরুদ্ধার করা এবং পুরোনো ব্যথা যুক্ত ক্ষত সারানো। স্নায়ুর জড়তা নিরাময়েও ঘৃতকুমারীর ব্যবহারে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই স্নায়ুতে অনুভূতি আসবে। পুরোনো বা দীর্ঘদিনের অনুভূতি হারানোর ক্ষেত্রে অবিরাম ও দীর্ঘ দিন ধরে  ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে। 

শৈশবের রোগব্যধি (Infancy disease): চিকেন পক্স (Chicken pox) বা জল বসন্ত, জার্মান মাজেল্স (German measles) ঘৃতকুমারী ব্যবহারে দ্রুত নিরাময় হয় সামান্যতম চুলকানো ছাড়াই। ক্ষত অংশে জুস বা মাংসল অংশ প্রয়োগ করতে হবে। মাজেল্স এর কারনে চুলকানী থেকে ঘৃতকুমারী রক্ষা কবজ। যে কোন চিকিৎসা যেখানে অ্যালকোহল ব্যবহার হয় সেখানে অ্যালকোহলের পরিবর্তে ঘৃতকুমারী ব্যবহার করা যায়। এই উদ্ভিদ সত্যিকার অর্থেই সংক্রমনরোধকারী। শরীরের তাপমাত্রা কমানোর জন্য ঘৃতকুমারীর মাংসল অংশ ঘাড়ে, কপালে এবং পায়ের পাতায় মাখলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। Nappies এর কারনে অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে ঘৃতকুমারীর জুস খুব উপকারী।

রোগ প্রতিরোধে ঘৃতকুমারী (Aloe Vera for prevention): আপনি যদি পরিপূর্ণ সুস্থ্যও থাকেন, তাহলেও প্রতিদিন এক টুকরো ঘৃতকুমারী  খেতে পারেন। এতে দুর্বলতারোধ হবে এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ঘৃতকুমারী শরীরকে এনার্জি সরবরাহ করে চারিদেকে GERMANID, আয়রন এবং টাইটানের বলয় সৃষ্টি করে। হজম প্রক্রিয়ায় ঘৃতকুমারী খুবই কার্যকরী। প্রতিদিন এক দুই টুকরো ঘৃতকুমারী খেলে পিচ্ছিলকারক হিসেবে কাজ করে। ঘৃতকুমারী খুবই চমৎকার উত্তেজক টনিক। শরীরের যে কোন অংশে ঘৃতকুমারী ব্যবহার করা যায় এতে শরীর সুরক্ষিত থাকে। বহিঃ ও অন্তঃ উভয় ভাবেই ঘৃতকুমারীর ব্যবহার নিরাপদ। 

ঘা (Ulcer): ঘায়ের লক্ষন না যাওয়া পর্যন্ত এক  চিলতা ঘৃতকুমারীর মাংসল অংশ সকালে খালি পেটে এবং শোয়ার আগে খেতে হবে। পরবর্তীতে এই মাত্রার অর্ধেকে কমিয়ে আনতে হবে। এই সময়ে খাদ্য কমিয়ে দিতে হবে এবং আস্তে আস্তে কমিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে হবে। আপনি যদি ঘৃতকুমারীর তিক্ত স্বাদ যা এই উদ্ভিদ Server (চামড়া ও মাংসের মাঝখানে হলুদ এক ধরনের রস্য) ধারন করে থাকে। পানিতে ধুয়ে বা অন্য কোন ফলের জুসের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। 

বাত ও বাতজনিত ব্যথা (Arthritis and rheumatism): ঘৃতকুমারী ব্যথা নাশক (Anti-in fiamatory) কিন্তু এর কোন নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। প্রতিদিন এবং নিয়মিত একটু করে ঘৃতকুমারী খেলে জয়েন্ট বা সন্ধির ব্যথা উপশম হয়। 

আনজিনা ও গলার ঘা (Angina , sore throat): দুই ভাবে এর চিকিৎসা করা যায়; একটুকরা মাংসল অংশ মুখে নিন। কিছুক্ষন মুখে চুষুন (Suck) চুইয়িংয়ের  আগে। অথবা গরম পানিতে ঘৃতকুমারী মিশিয়ে কলকুচি বা গার্গেল করুন। আরও নিবিড় ফল পেতে  গার্গেল করার পর  তা খেয়ে ফেলতে পারেন। এই ব্যবস্থা প্রতিদিন কয়েক বার করতে হবে। 

চোখ ও কান (Eyes and ear): চোখ ও কান হলো শরীরের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কয়েক দিন ব্যবহারে  ঘৃতকুমারীর জুস ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং আরাম আনয়ন করে। এই রোগের আর একটি চিকিৎসা হলো ঘৃতকুমারী দিয়ে আইলিডস ঘষতে (rinse) হবে। ঘৃতকুমারী ক্যাটাার‌্যাক্ট (Cataract) ও চোখের অন্যান্য সমস্যায় ব্যবহার হয়।

অতিরিক্ত মদ্য পান (After excess): অতিরিক্ত মদ্যপান বা দূষিত খাবারের সংমিশ্রনে হৃদপিন্ডের জ্বালায় এক টুকরো ঘৃতকুমারী চুষতে হবে যতক্ষণ না তা উপশম হয় তার পর ফেলে দিতে হবে। 

ব্যবহার বিধি :
১. পুড়ে গেলে : ঘৃতকুমারীর  প্রলেপ দিলে জ্বালা উপশম হয় এবং বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। 
২. চর্মরোগে : পাঁচ মিঃ গ্রাঃ পরিমাণ জলে প্রলেপ দিলে চর্মরোগে ভাল হয়। 
৩. প্লীহা হলে : পাঁচ মিঃ গ্রাঃ পরিমাণ ঘৃতকুমারীর রস হলুদ গুঁড়াসহ নিয়মিত সেবন করলে প্রভুত উপকার হয়। 
৪. মাথা ঠান্ডা রাখতে :  ঘৃতকুমারীর পাতার নির্যাস মাথায় ব্যবহার করলে মাথা ঠান্ডা থাকে। 
৫. বীট নিঃসরন : পায়খানায় কোঁথ দিলে যদি বীর্য আসে তবে ২ চা চামুচ মাংসল পদার্থ এক গ্লাস পানিতে গুঁড় সহ ভাল করে মিশিয়ে খেলে ২-৩ দিনের মধ্যে বীর্য পড়া বন্ধ হয়। এটা বহুল পরীক্ষিত।

Dr. Neem