Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim

মেয়েদের ঋতুকালীন সমস্যাও নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবায় অন্তর্ভুক্তের দাবি 


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২০, ০৯:৩৬ পিএম
মেয়েদের ঋতুকালীন সমস্যাও নিয়মিত স্বাস্থ্য সেবায় অন্তর্ভুক্তের দাবি 

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা : বর্তমান প্রেক্ষাপটে শতকরা প্রায় ৩৬ জন কিশোরী তাদের প্রথম মাসিক সম্পর্কে জানেই না এবং এ বিষয়ে তারা ভীত এবং অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে পড়ে এবং লজ্জায় পরিবারের সদস্যের সঙ্গেও আলোচনা করতে পারে না।

সোমবার (২৭ জুলাই) বর্তমান প্রেক্ষাপটে মেয়েদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধার সঙ্গে যুক্ত কি না- তা নিয়ে  এক ভার্চুয়ালি কর্মশালায় এমন কথা জানান আলোচকরা।

ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন কোলাবোরেটিভ কাউন্সিল (ডব্লিুউএসএসসিসি) উন্নয়ন সহযোগী টিম (ইউএসটি) ও বাংলাদেশের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

কর্মশালার লক্ষ্য হলো দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাংবাদিক সমাজকে মেয়েদের ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরব কন্ঠস্বর ও লেখনীর মাধ্যমে সকলকে সচেতন করে তোলা।

এ প্রেক্ষিতে বাজারসমূহ, হাসপাতাল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও জনসমাগম স্থানের টয়লেট সমূহের সঙ্গে পয়োঃনিষ্কাশন সুবিধা যুক্ত কি না সে বিষয়ে নানান প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরা হয়।

কর্মশালায় অংশ নেয়া চিকিৎসক ও সাংবাদিকরা বলেন, প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ পর্যায়ে স্কুল ছাত্রীদের জন্য ‘ঋতুকালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা (এমএইচএম)’ নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবায় সমান সুযোগ পাওয়া জরুরি। স্কুলের শিক্ষকারাও এ বিষয়ে মেয়েদের সচেতন ও সহযোগিতা করতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের (এনআইএমসিএইচ) ফিজিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. নাজমুল হক। সভাপতিত্ব করেন সংবাদের বার্তা সম্পাদক কাজী রফিক।

কাজী রফিক বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে এগিয়ে থাকলেও স্বাস্থ্য সচেতনতায় আন্তর্জাতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এখানে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লেখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করতে পারে। এছাড়াও স্কুলগুলোর জনহিতকর কাজের মধ্যে এই উদ্যোগটি যোগ করতে পারে।

প্রধান বক্তা অধ্যাপক ডা. নাজমুল হক বলেন, ‌'আমাদের গ্রামগুলোর স্বাস্থ্য সঙ্কট প্রাচীন যুগের মতোই রয়েছে। তাই জনগনের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে এ বিষয়টি নিয়ে যে লুকোছাপার ব্যাপারটা রয়েছে তা ভেঙে বেরিয়ে আসা দরকার। এসময়ে নিয়মিত খাওয়া, ঘুমানো এবং হালকা ব্যায়াম করা উচিত।

পাশাপাশি নিয়মিত হাত ধোঁয়া এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন,  আমার মায়ের ঋতুস্রাব হয়েছিল বলেই আমার পক্ষে এই পৃথিবীতে জন্ম নেয়া সম্ভব হয়েছে। ঋতুস্রাবের সময়ে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পরপর স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড বদলানো উচিত।

ডব্লিুউএসএসসির জাতীয় সমন্বয়কারী শাহ মো. আনোয়ার কামাল, ইউএসটি পরিচালক মো. তাজ্জামেল হক রাজধানী ঢাকা ও আটটি বিভাগের মোট ৩০ জন সাংবাদিককে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ বলেন, এমএইচএম পৃথক ইস্যু নয়, এটা আমরা আমাদের পরিবারের মতো করেই যুক্ত থাকব। চরাঞ্চল, পাহাড়ি ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

সাংবাদিক বনানী মল্লিক জানান, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চলে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি।

শাহনাজ পলি বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সামাজিকভাবে লজ্জাজনক হলেও, আসুন এ বিষয়ে কথা বলি এবং মানুষকে সচেতন করি।

তাহমিনা বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। লুকিয়ে না রেখে এ বিষয় নিয়ে পরিবারের মধ্যে প্রথম আলোচনা হওয়া উচিত। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকারা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সুরাইয়া মুন্নি বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঋতুকালীন সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে মেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

খুলনা থেকে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইউএনবির সংবাদদাতা শেখ দিদারুল আলম জানান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য স্কুল পর্যায়ে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

 

আগামীনিউজ/এসপি

 

Dr. Neem