সবজির দাম চড়া, ডিমেও অস্বস্তি


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ১২:৫৯ পিএম
সবজির দাম চড়া, ডিমেও অস্বস্তি

ঢাকাঃ সরবরাহ কম, মুরগির খাবারের দামবৃদ্ধি, বৃষ্টি ও বাড়তি পরিবহন ভাড়ার অজুহাতে বেড়ে যাওয়া ডিমের দাম এখনও কমেনি। বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। অন্যদিকে পাড়া মহল্লার দোকানে একই ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে সবজির দাম। বাজারে ৬০ টাকা কেজির নিচে পেঁপে আর কাচকলা ছাড়া কোনো সবজিই মিলছে না। তবে সবজির সরবরাহ রয়েছে পর্যাপ্ত। বাড়তি দামে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ। বাজারে এসে অল্প পরিমাণে সবজি কিনে বাসায় ফিরছেন অনেকে।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। যা গত সপ্তাহে ছিল ১৩৫ টাকা। আর হাঁসের ডিমের দাম ১৬৫ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা লাল ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। আর পাড়া মহল্লায় বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। একইভাবে দেশি ডিম বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা ডজন। প্রতি ডজন হাঁসের ডিম ২০০ টাকা। এছাড়া, কোয়েল পাখির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।

সবজির বাজারে বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, কাকরোল ৭০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, গোল বেগুন ৮০ টাকা আর চিকন বেগুন ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।

সবজির এই উত্তাপ লেগেছে শাকেও। প্রতি আঁটি লাল শাক ২৫ টাকা, ডাটা শাক ২৫ টাকা আর পুই শাক বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। এছাড়াও প্রতি পিস লাউ ৬০-৭০ টাকা আর জালি কুমড়া ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মহাখালী কাঁচাবাজারে সাপ্তাহিক বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল হক। তিনি বলেন, বাজারে এমন কিছু নেই যার দাম বাড়তি যাচ্ছে না। দামের কারণে যারা মাছ, মাংস কিনে খেতে পারছেন না তারা অন্তত সবজি, ডিম, ডাল খেয়ে বেঁচে আছেন। সেই ডিমের দামও এখন বাড়তি।

তিনি বলেন, বাজারে এক হালি ডিম কিনতে হচ্ছে ৪৮ টাকায়। আর পাড়ার দোকানে দাম পড়ে যাচ্ছে ৫০ টাকা। অর্থাৎ একটি ডিম ১২ টাকা ৫ পয়সায় কিনতে হচ্ছে। দোকানদারদের জিজ্ঞেস করলে বলে, মালের দাম বাড়তি যাচ্ছে।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার ডিম বিক্রেতা আব্দুস সোবহান বলেন, গত সপ্তাহে বৃষ্টির কারণে ডিমের সরবরাহ কম ছিল। তাই দাম বেড়েছিল। আমরা খুচরা বাজারে ডিম ১৪৫ টাকা ডজন বিক্রি করছি। মূলত মুরগির খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের খরচ বেড়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ আগের চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি বলেন, ডিমের দাম বাড়তি যাওয়ার কারণে বর্তমানে আমাদের বিক্রি কমেছে। আগে যে এক ডজন ডিম কিনত, সে এখন ৬টি কেনে।

বাজারের চেয়ে পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের দাম বেশি কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রামপুরা এলাকার মুদি দোকানি মোজাম্মেল হক বলেন, বড় দোকানে প্রচুর বিক্রি হয়। কিন্তু আমরা বাজার থেকে অল্প সংখ্যক ডিম এনে দোকানে বিক্রি করি। তাই ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি করছি ডিম। এটাই বাজারে গেলে ক্রেতারা ১৪৫ টাকায় পাচ্ছেন।

বাজার করতে আসা গৃহিণী শামসুন নাহার বলেন, বাজারে শাকেরও বাড়তি দাম। আবার আঁটিতে পরিমাণেও কম। আঁটিগুলো এমন যে এক আঁটিতে চারজনের পরিবারে একবেলাও হয় না। দুই আঁটি নেওয়া লাগে। শাক কিনতেই ১০০ টাকার মতো খরচ হয়ে যায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকা দরে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা। এছাড়া লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

শাক-সবজির মতো মাছের দামও বাড়তি বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০ টাকা, রুই ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ টাকা, সিলভার কার্প ১৪০ টাকা, শিং মাছ আকার ভেদে ৫০০-৭৫০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৬০০-১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের খুচরা বাজারে আটাশ চালের কেজি ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭০-৭৫ টাকা, গুটি স্বর্ণা ৫৫ টাকা, স্বর্ণ ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মোটা ডালের কেজি ১১০ টাকা, চিকন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। এছাড়া পেঁয়াজের কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা আর আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এমবুইউ