Agaminews
Bangla Noboborsho
Dr. Neem Hakim

মাছ-মুরগিতে দামের বড় ফারাক: দিশেহারা ক্রেতা


আগামী নিউজ | প্রভাত আহমেদ প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২১, ০৯:২৭ পিএম
মাছ-মুরগিতে দামের বড় ফারাক: দিশেহারা ক্রেতা

ছবি: আগামী নিউজ


ঢাকাঃ লকডাউনের প্রথম দিনে সোমবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। তবে স্থিতিশীল রয়েছে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম।


সরেজমিনে রাজধানীর হাজীপাড়া বৌ বাজার, রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে।

এদিকে, কাওরান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, লকডাউনের আগে গতকাল (রোববার) রাস্তায় অতিরিক্ত যানজটের কারণে সবজি পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে সরবরাহের সমস্যা না থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

তবে লকডাউনের বাজারে কোনো সবজির কমতি নেই। আলু, পটল, করলা, টমেটো, শিম, লাউ, কাঁচা-পাকা মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বেগুন, মূলা, লাল শাক, পালং শাক, লাউ শাক সবকিছুই বাজারে ভরপুর।

এদিকে দাম বেড়ে প্রতি কেজি ঢেঁড়স, বেগুন, পটল, বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। যা গতকালও ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে ছিল।

দামবৃদ্ধির তালিকায় রয়েছে আলু, পেঁপে, টমেটোও। মালিবাগ বাজারে বিক্রেতা আনিস বলেন, গতকাল যে আলু ২০ টাকায় বিক্রি করেছি তা আজ ২৫ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে বেড়ে ৩০ টাকা আর টমেটো ২০ থেকে বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে।

মালিবাগ বাজার ঘুরে কয়েজন ক্রেতার সাথে কথা হয় আগামী নিউজের, ক্রেতারা জানান, বাজারে জিনিসপত্রের দাম আগুন, আমরা দিশেহারা। ক্রেতারা জানান, মুরগীর বাজার ও মাছের বাজারে তো ঢুকতেই ভয় হয়, এতো দামে মাছ কিনলে বাকী সদায় কিনবো কি করে?

 


রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে আজ সকালে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগি বিক্রি হয় ২৮০ থেকে ৩২০ টাকায়। ডিম পাড়া লাল ও সাদা লেয়ার মুরগি ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং দেশি মুরগির প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়।


শান্তিনগর বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী সোবহানের দোকানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজি ৩১০ টাকা। তবে তার পাশের দোকনেই ব্রয়ালার মুরগি ১৫০ টাকা এবং সোনালি ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সোবহান আগামী নিউজকে জানান, তার দোকানের বেশির ভাগ মুরগি দুই দিন আগে কেনা। তখন প্রতি কেজি মুরগিতে পাইকারি ২০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়েছে। খুচরায় প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে।

পাশের দোকানি মো. জাকির জানান, বাজারে দুই ধরনের দোকান আছে। কিছু ব্যবসায়ী ঢাকার বাইরে থেকে মুরগি এনে সরাসরি বিক্রি করেন। আবার অনেকে তাদের কাছ থেকে মুরগি কিনে বিক্রি করেন। ফলে দামের পার্থক্য হয়। তবে তা ৫ থেকে ১০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

একই বাজারে একটু দূরে কাঁচা বাজারের পাশেই সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ৩২০ টাকায়। একই মুরগি দুই কিলোমিটার দূরে কলমিলতা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৩৩৫ থেকে ৩৪০ টাকায়। এ বাজারের বিক্রেতা জসিম জানান, ৩৪০ টাকার কমে মুরগি বিক্রি করলে লাভ বেশি থাকে না।

বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫৭০ থেকে ৫৮০ টাকা, ছাগলের মাংস ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ৮০০ টাকায়।

মাছ বাজারে দামের পার্থক্য আরও বেশি। আকার ও দোকান ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ১৯০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এর মধ্যে আধা কেজি ওজনের রুই (যা নলা মাছ হিসেবে পরিচিত) ১৯০ থেকে ২২০ টাকা। এক কেজি ওজনের রুই ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা এবং দুই থেকে তিন কেজি ওজনের রুই মাছ ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে আকারভেদে প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, ছোট পুঁটি মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাস ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা, গ্রাস কাপ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, শিং মাছ ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকা, ছোট পাবদা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, চিংড়ি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শোল মাছ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ ব্যবসায়ী মো. আলতাফ উদ্দিন আগাম নিউজকে বলেন, মাছের বাজার বেশ কিছুদিন ধরেই চড়া। দুই দিন ধরে দাম আরও বেড়েছে। তবে আজ (সোমবার) দাম একটু কম আছে। সামনে লকডাউন বাড়লে দাম বাড়তে পারে।

বাজারের আরেক ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন দাম বাড়ার জন্য মাছ ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘কিছু শুনলেই ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এক কেজির জায়গায় চার কেজি কেনেন। ব্যবসায়ীরা যখন দেখেন বেশি মানুষ বাজারে আসছে তখন তারা দাম বাড়িয়ে দেন এটা ঠিক না। বাজারে একই সাইজের মাছের দাম প্রায় একই রকম থাকে।

‘এখন দেশে প্রচুর মাছ চাষ হয়। গত কয়েক মাসের মধ্যে মাছের সংকটও পড়েনি। লকডাউনের কারণে কোনো কিছু বন্ধও নেই। আবার অনেক মাছও এসেছে। তবু দাম বেড়েছে। কিন্তু এ মাছ দেশের পুকুরেই হয়। বাইরে থেকে আনতে হয় না।’

অন্যরা যে তেলাপিয়া মাছ ১৬০ টাকায় বিক্রি করছে, তিনি তা ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন বলেও জানান তিনি।

বাজরে ইলিশ মিললেও দাম বেশ চড়া। এক কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশ বিক্রেতা মো. সুমন জানান, বাজারে এখন ইলিশের জোগান অনেক কম। যা কিছু আসছে বেশির ভাগই আগে ফ্রিজে রাখা। নতুন মাছ ধরার আগ পর্যন্ত দাম বেশি থাকবে। দাম বেশি বলে সব ক্রেতা ইলিশ কিনতেও আসে না।

ক্রেতারা বলছেন, বিভিন্ন জিনিসের বাড়তি দামের কারণে তাদের বাজার খরচ মেলাতে হিমশিম খেতে হয়। কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আরিফ হোসেন জানান, করোনার কারণে তার ট্রাভেল ব্যবসার অবস্থাও ভালো না। তার ওপর তেল থেকে মাছ সবকিছুর দামই বাড়তি। একবার দাম বাড়লে তা আর কমে না। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এটা যন্ত্রণার। কারণ, একদিকে খরচ বাড়লে অন্য দিকে খরচ কমাতে হয়।

চাল ও তেলের পর এখন ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাড়তি দাম গরিব ও মধ্যবিত্তেদের খরচ বাড়াচ্ছে।

আগামীনিউজ/প্রভাত