Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

নিরাপদ খাদ্য মজুদ অর্ধেকে নেমেছে


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২১, ১২:১৯ পিএম
নিরাপদ খাদ্য মজুদ অর্ধেকে নেমেছে

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাঃ দেশে নিরাপদ খাদ্য মজুদ অর্ধেকে নেমে গেছে। নিরাপদ খাদ্য মজুদ হিসেবে চাল ও গম মিলিয়ে মজুদ থাকার কথা ১০ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে বর্তমানে খাদ্য মজুদ রয়েছে ৫ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন। এ পরিস্থিতিতে দেশে দ্রুত খাদ্য মজুদ গড়ে তোলার জন্য হন্যে হয়ে উঠেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। দফা দফায় ভারত, মিয়ানমার, রাশিয়া ও আর্জেন্টিনা থেকে চাল ও গম আমদানির চেষ্টা করা হচ্ছে। এর আগে এই সব দেশ থেকে চাল ও গম কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এখন নতুন করে ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

খাদ্য অধিদফতরের হিসাব মতে, গত ২৪ মার্চ দেশে খাদ্যশস্য মজুদের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ৪ লাখ ৫২ হাজার মেট্রিক টন গমের পরিমাণ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন।

সংস্থাটি গত ফেব্রুয়ারির এক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করেছে, চলতি অর্থবছর (২০২০-২১) শেষে অর্থাৎ আগামী জুন শেষে খাদ্যের নিরাপত্তা মজুদ হিসেবে প্রায় ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং দুই লাখ মেট্রিক টন গম থাকা আবশ্যক। সে হিসাব ধরে অর্থবছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য আরো ১১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ টন গম প্রয়োজন পড়বে।

জানা গেছে, বিপুল পরিমাণ এ চাহিদার বিপরীতে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একাধিক বৈঠকে ভারত ও মিয়ানমার থেকে সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) ও আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ৫ লাখ মেট্রিক টন চাল ও দেড় লাখ মেট্রিক টন গম আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরপরও এখনো প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ১ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা প্রয়োজন হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ২ দশমিক ০৮ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল এবং জি-টু-জি ভিত্তিতে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া জি-টু-জি ভিত্তিতে আরো সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের জন্য চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জানা গেছে, এখন নতুন করে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে আরো ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। প্যাকেজ-১১-এর আওতায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স’ থেকে এ চাল আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন ৪১৬ ডলার হিসেবে চাল আমদানিতে বাংলাদেশী মুদ্রায় ব্যয় হবে ১৭৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আজকের বৈঠকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে জানা গেছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল এই সভাটি দুপুর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

এ দিকে সরকার ঘোষিত ধান ও চালের মূল্য বাজার দরের তুলনায় কম হওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গত বোরো মৌসুমে ধান ও চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি আমন মৌসুমেও এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে মনে করছে খাদ্যবিভাগ।

তাদের হিসাব মতে, গত বোরো মৌসুমে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া চলতি আমন মৌসুমে ২ লাখ মেট্রিক টন ধান ও সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত ৩ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার ৫৬৭ মেট্রিক টন ধান ও ৫২ হাজার ২৭৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বাজারে খাদ্যশস্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বিদেশ থেকে চাল ও গম আমদানি করা ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনো বিকল্প খোলা নেই বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

আগামীনিউজ/এএইচ