Agaminews
August

ঘিওরে কোটি টাকার গরু


আগামী নিউজ | মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২১, ০৩:১১ পিএম
ঘিওরে কোটি টাকার গরু

মানিকগঞ্জঃ ছানা ব্যবসায়ী মো. হাবিল মিয়া (৪০)। আট বছর ধরে গরু পালন শুরু করেন তিনি। প্রথম বছর গরু বিক্রি করে লাভের মুখ দেখলে আরও বেশি করে গরু পালনের ইচ্ছা হয় তার। গত কোরবানির ঈদের পর চারটি গরু কিনেন তিনি। স্ত্রী শেফালী বেগমকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন লালন পালন। এবার সেই চারটি গরু সোয়া কোটি টাকায় বিক্রি করতে চান হাবিল।

হাবিল মিয়ার বাড়ি মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বরুরিয়া গ্রামে। একরকম সখের বশেই গরু পালন শুরু করেন তিনি। সেজন্য প্রতিটি গরুর ভিন্ন ভিন্ন নাম দেন হাবিল। নিজ জেলার সাথে মিল রেখে দুটি গরুর নাম রাখেন মানিক-রতন। আর দুটি গরু দুষ্ট প্রকৃতির বিধায় নাম রাখেন রক ও আন্ডারটেকার। রেসলিং খেলা পছন্দ করেন তিনি। তাই বিশ্বসেরা রেসলারদের সাথে মিল রেখে নাম রাখেন গরু দু’টির।

হাবিল মিয়া জানান, রতন নামের ফিজিয়ান (বাহাসা) গরুটি কেনা হয় মানিকগঞ্জের হরগজ হাট থেকে। আর গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করেন লাল রঙের ইন্ডিয়ান শাহিয়াল গরুটি। যার নাম দেওয়া হয় মানিক। অস্ট্রেলিয়ান রক ও আন্ডারটেকারকে কেনা হয় এলাকা থেকে। দুটি অন্ধকার ঘরে রেখে টানা এক বছর লালন পালন করা হয় গরুগুলো।

হাবিলের দেওয়া তথ্য মতে, রতনের ওজন ৫২ মন, মানিকের ৩৫, রকের ৩৫ ও আন্ডারটেকারের ৩৬। রতনকে ৩৫, মানিককে ৩২, রককে ২২ ও আন্ডারটেকারকে ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চান তিনি।

হাবিল মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম বলেন, প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি খৈল, কুড়া, ভুষি, ভূট্টা, ছোলা ও পায়রা জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়েছে গরুগুলোকে। এতে দৈনিক খরচ হয়েছে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস থেকে নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে।

এদিকে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে হাবিল মিয়ার গরু। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন গরু দেখতে আসছেন।মানিক, রতন, রক ও আন্ডারটেকারকে দেখে মুগ্ধ তারা। অনেকে গরু পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে চাকরির পিছনে না ছুটে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে খামার করার প্রতি আগ্রহ তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সবুজ বলেন, হাবিল মিয়ার গরু দেখে আমি মুগ্ধ। আমারও এমন গরু পালনের ইচ্ছে করছে। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি না পেলে গরু পালন করার ইচ্ছে আছে।

ঘিওর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণীসম্পদ অফিস থেকে গরু খামারে নিয়মিত তদারকি করা হয়। গরু মোটাতাজাকরণ ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে কিনা দেখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত চিকিৎসা সহযোগিতা দেওয়া হয়। হাবিল মিয়ার গরুগুলোকে প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়েছে।