Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

দুপচাঁচিয়ায় নারীর তৈরী কাসুন্দি বিক্রি করেন পুরুষেরা 


আগামী নিউজ | দেওয়ান পলাশ, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি  প্রকাশিত: মে ২, ২০২১, ০৪:৩৪ পিএম
দুপচাঁচিয়ায় নারীর তৈরী কাসুন্দি বিক্রি করেন পুরুষেরা 

ছবি: আগামী নিউজ

বগুড়া: কাসুন্দি তৈরির এ ভরা মৌসুমে ব্যস্ত সময় পার করছে নারীরা। কাসুন্দি তৈরির প্রধান উপাদান সরিষা থেতলে গুড়ো করার জন্য বিলুপ্ত প্রায় ঢেঁকিগুলোও জেগে উঠেছে। কাসুন্দি পল্লীতে এখন সারাক্ষণ শোনা যায় ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দ। 

বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার আমশট্ট হিন্দু পল্লীতে প্রায় ১৫ টি পরিবার শতাধিক বছরব্যাপি কাসুন্দি তৈরির ঐতিহ্যকে টিকে রেখেছে এখনও। পূর্বে আরও অধিক সংখ্যক পরিবার কাসুন্দি তৈরির পেশার সাথে যুক্ত থাকলেও সময়ের তোড়ে অনেকে ছেড়েছে এ পেশা।

রোববার ( ২ মে)  দুপুরে আমশট্ট গ্রামের হিন্দু পল্লীর একটি বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নারীরা কাসুন্দি তৈরির জন্য বিভিন্ন উপাদান প্রস্তুত করছে। নারীদের কেউ ঢেঁকিতে সরিষা থেতলানোর কাজ করছে, কেউ মরিচ বাটছে, কেউবা কাঁচা আম কুচি করে কাটছে।

কাসুন্দি তৈরির কাজ করার সময় কথা হয় গৃহবধূ নিয়তী রানির সাথে। নিয়তী রানি জানায়, পরিবারে অভাব তাদের নিত্যদিনের সংগী। অন্য পেশায় জীবিকা অর্জন করতে গেলে বেশি মূলধনের প্রয়োজন হয়। এ পেশায় স্বল্পপুঁজিতে বেশি আয় করা যায়। নারীরা মিলে কাসুন্দি তৈরি করে আর পুরুষরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিক্রি করে সেই কাসুন্দি। 

কাসুন্দি তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিয়তী রানি জানায়, সরিষা ধুয়ে নিয়ে রোদে ভালভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকানো হয়ে গেলে ঢেঁকিতে থেতলে সরিষা গুড়া করতে হবে। 

এবার পানি ফুটানোর পর পরিমানে অর্ধেক হয়ে আসলে ওই পানিতে সরিষার গুড়ার সাথে পরিমানমত মৌরি,দারুচিনি গুড়া,হলুদের গুড়া, মরিচের গুড়া,ধনে গুড়া,জিরা গুড়া এবং লবন দিয়ে বেশ কিছুক্ষন জ্বাল দিতে হবে। কাসুন্দিকে টক স্বাদযুক্ত করার জন্য এর সাথে কাঁচা আমের কুচি অথবা তেতুল যোগ করে আরও কিছুক্ষণ জ্বাল দিয়ে চুলা থেকে নামাতে হবে। এরপর মাটির পাতিলে ঢেলে পাতিলের মুখ কাপড় দিয়ে বেধেঁ  দু'দিন রেখে দিতে হবে। এভাবেই তৈরি করা যাবে কাসুন্দি।

নিয়তী রানির স্বামী অনিল চন্দ্র জানায়, বৈশাখ থেকে আষাঢ়ের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাপক পরিমানে কাসুন্দি বিক্রি হয়। বছরের অন্যসময়ে সামান্য পরিমানে কাসুন্দি বিক্রি করা যায়। দুপচাঁচিয়ার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পাশ্ববর্তি জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলায় কাসুন্দির বেশ চাহিদা আছে। সরিষার দাম বেড়ে যাওয়ায় এবছর ৮০ টাকা কেজি দরে কাসুন্দি বিক্রি করতে হচ্ছে। গত বছর প্রতি কেজি কাসুন্দির দাম ছিল ৬০ টাকা।

অনিল চন্দ্র বর্মন আরও জানায়,  কাসুন্দি তৈরিতে তার বিনিয়োগকৃত পুঁজির পরিমান পাঁচ হাজার টাকা। সেই টাকায় কেনা বিভিন্ন উপাদানে কাসুন্দি তৈরি করে থাকে বাড়ির নারীরা। সেই কাসুন্দি বিভিন্ন জায়গায় ফেরি করে বিক্রি করলে দিনে ৮শ টাকা থেকে ১হাজার  টাকা লাভ হয় তার। মোটামুটি তিনমাসের সঞ্চিত লাভের টাকায় সারা বছরের জীবন সংসারের খরচ চালাতে হয় তাদের। আর বছরের বাকী সময়ে কাসুন্দি বিক্রি তেমন হয় না বলে মাঝে মাঝে অন্য পেশার কাজও করে তারা।

দুপচাঁচিয়া পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসীম কুমার দাস বলেন, কাসুন্দি ভাতের সাথে মেখে গেলে খাবার স্বাদযুক্ত হয়। তাছাড়া সারাবছর ধরে  পেয়ারা ও আনারসের সাথে কাসুন্দি মেখে বিক্রি করে ভ্রাম্যমান বিক্রেতারা। বিভিন্ন কোম্পানিগুলো কাসুন্দি বোতলে ভরে বাজারজাত করার ফলে গ্রাম্য কাসুন্দি তৈরিকারকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এ পেশা ছাড়ছে। গ্রাম্য কাসুন্দি তৈরিকারকদের কাছ হতে কাসুন্দি ক্রয় করে এদের পেশা টিকে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 

আগামীনিউজ/নাহিদ