Agaminews
 অমর একুশে
Dr. Neem Hakim

ভালো নেই বাউল শিল্পীরা


আগামী নিউজ | হুমায়ুন কবির, জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২১, ০১:২৮ এএম
ভালো নেই বাউল শিল্পীরা

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়াঃ ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি/ মানুষ ছাড়া খেপারে তুই মূল হারাবি।’ মানুষভজা এই সহজ মানুষগুলো এখন আর ভালো নেই। করোনা তাদের জীবন ও জীবিকার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। লালন ভক্ত এই মানুষগুলো লালন সাঁইজির বাণী পরিবেশন করে সংসারধর্ম পালন করে থাকেন। করোনায় কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গন প্রায় স্থগিত। বেঁচে থাকার জন্য এই শিল্পীদের কেবল প্রয়োজন দুবেলা-দুমুঠো অন্নের। কিন্তু সেই অন্নের জন্য হন্নে হয়ে ঘুরে ফিরছেন সারাক্ষণ। তাও মিলছে না সেই অন্নের দেখা।

লালন অনুসারীদের তীর্থস্থান কুষ্টিয়ার লালন মাজার। দেশ-বিদেশ থেকে লালন ভক্ত, অনুসারী, সাধু-গুরুরা বছরে দুবার সাঁইজির দর্শন পেতে ছুটে আসেন কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে। এ ছাড়াও বছরের অন্যান্য সময়ও দেশ ও দেশের বাইরের অসংখ্য দর্শনার্থী আখড়াবাড়ির লালন মাজার দর্শনে আসেন। আর মাজারে আসা দর্শনার্থীদের সাঁইজির বাণী পরিবেশন করে মুগ্ধ করে থাকেন মাজারে থাকা বেশ কিছু বাউল শিল্পী। বাউল শিল্পীদের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে দর্শনার্থীরা তাদের দক্ষিণা দিয়ে থাকেন। দিনশেষে দক্ষিণা ভাগাভাগি করে নেন বাউল শিল্পীরা। আর তা দিয়ে চলে তাদের সংসার।

করোনার কারণে টানা ৫ মাস ধরে আখড়াবাড়ির লালন সাঁইজির মাজারের মূল প্রবেশ দ্বারে ঝোলানো হয়েছিল তালা। এই পাঁচ মাস ভেতরে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। আর এ কারণে বন্ধ ছিল বাউল শিল্পীদের কণ্ঠের সাধনও। সেটা মাজার আঙিনায় হোক বা অন্যত্র। পরবর্তীতে এই তালা খুললেও আগের জৌলুস ফেরেনি লালন আখড়ায়।করোনার এই দুঃসময়ে জেলা প্রশাসন দুয়েকবার খাদ্য-সহায়তা দিলেও তা দিয়ে তো মাসের পর মাস চলা যায় না। তাই আখড়াবাড়ির বাউল শিল্পী বাবু শাহসহ অখড়াবাড়িতে সাধন-ভজনে থাকা সহজ মানুষগুলো নিরূপায় হয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তাদের যেন অন্তত দুবেলা-দুমুঠো অন্নের ব্যবস্থা করা হয়। শুধু আখড়াবাড়ির বাউল শিল্পীরাই নন, করোনার এ দুঃসময়ে কষ্টে আছেন লালন অনুসারী সাধুরাও। যারা নিজ আশ্রমে সাধন-ভজনে দিন কাটান।

তবে করোনার এ দুঃসময়ে জেলা প্রশাসন ও কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি শিল্পীদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। সরকার বা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি পেলে অন্তত এই দুঃসময়ে সংস্কৃতি শিল্পী বা বাউল শিল্পীদের জীবনধারণ করে বেঁচে থাকা সম্ভব এমনটিই মনে করেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

আগামীনিউজ/এএইচ