Agaminews
Dr. Neem

সূর্যমুখী চাষে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষকরা


আগামী নিউজ | মোহাম্মদ শাহ্ আলম প্রকাশিত: মার্চ ১, ২০২০, ১১:০৭ এএম
সূর্যমুখী চাষে সফলতার মুখ দেখছেন কৃষকরা

হবিগঞ্জে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করছেন কৃষকরা। সদর উপজেলার প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে কৃষকরা হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করেছেন।

অল্প সময়ে অল্প পুঁজিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে কৃষি অধিদফতর।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নজুড়ে প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে ভোজ্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখি ফুলের চাষ করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট ২৫ জনেরো ওপরে কৃষক সুবিধাভোগি হিসেবে অংশ নিয়েছেন।

সূর্যমুখী চাষের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা বীজ ঘরে তুলতে পারবেন। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো প্রকার ক্ষতি না হয় তাহলে প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে।

এক মণ বীজ থেকে ১৮ কেজি তেল পাওয়া যাবে। প্রতি কেজি তেল বাজারে ২৮০ টাকা দামে বিক্রি করা যায়। সূর্যমুখীর তেল ছাড়াও খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এর কোনো অংশই ফেলা যায় না। এছাড়া সূর্যমুখি চাষের পরো কৃষক যথা সময়ে আউশ ধানের চাষ করতে পারবেন। এসব তেল প্রক্রিয়াজাত এবং বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে বলে জানান কৃষি অফিসার।

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লুকড়া ইউনিয়নের আশাড়া ফান্দ্রাইল গ্রামের সূর্যমুখী ফুলের চাষি আলহাজ আলতাব হোসেন জানান, আগে তিনি তার জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করতেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এ বছর উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে প্রথমবারের মতো তিনি এবং তার ভাতিজা ৩৬ শতাংশ জমিতে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে তাদের বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রতিটি গাছেই ফুল ধরেছে। আশা করি সূর্যমুখী চাষে সফলতা আসবে।

হবিগঞ্জ সদরের বিভিন্ন ইউনিয়নে সূর্যমুখি প্রদর্শনী জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমসুখি ফুলের সমাহারে এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। চারদিকে হলুদ রঙের ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে কৃষকের জমি। এটি যেন ফসলী জমি নয়, এ এক দৃষ্টি নন্দন বাগান। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য অবলোকনে শুধু প্রকৃতি প্রেমীই নয় বরং যে কারো হৃদয় কাড়বে। তবে সূর্যমুখি ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়। মুলত ভোজ্য তেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা হচ্ছে। তেল জাতীয় অন্য ফসলের চেয়ে সূর্যমুখীর চাষ অনেক সহজলভ্য ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা এতে উৎসাহিত হয়ে উঠেবেন বলে কৃষি অধিদফতর মনে করছে।

গত পৌষ মাসের প্রথম দিকে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেছেন তারা। একটি পরিণত সূর্যমুখি ফুলের গাছ ৯০ থেকে ১১০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে থাকে। পরিণত হয়ে ইতোমধ্যেই সূর্যমুখী গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে।

হবিগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাহবুবুল হক জানান, চলতি বছরে উক্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। মোট ৫০ বিঘা জমিতে কৃষকরা হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ, সার এবং আন্ত-পরিচর্যার জন্য উপকরণ ও অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

আগামীনিউজ/শাহ আলম/মাসুম

Dr. Neem