Agaminews
Dr. Neem Hakim

‘মুখে হাত’ দেওয়ার অভ্যাস পরিবর্তেনের উপায়


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মার্চ ২৮, ২০২০, ১১:২৩ এএম
‘মুখে হাত’ দেওয়ার অভ্যাস পরিবর্তেনের উপায়

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা : চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আতঙ্কিত সারা বিশ্বের মানুষ। করোনা সংক্রমণে এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে এখনো স্বীকৃত কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় এর প্রতিরোধ সম্ভব হচ্ছে না। আর সে কারণেই ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা ভাইরাস সাধারণত সংক্রামিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির সময় শ্বাসপ্রশ্বাসের ফোঁটাগুলোর মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে  অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাস হাতে তিন ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। আর হাত মুখ কিংবা শরীরের অন্য কোথাও লাগলে জীবাণু দ্রুত শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তাই বারবার হাত ধুয়ে নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

তাই করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষায় বারবার সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধোয়া এবং নাক, মুখ ও চোখ থেকে হাত দূরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা স্পর্শ করতে নিষেধ করলেও ব্যস্ত সময়ে মুখ থেকে হাত দূরে রাখা বাস্তবে কঠিন। জার্মানির লিপজিগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা একটি সম্পূর্ণ সমীক্ষা প্রকাশ করেছেন যে, মানুষ গড়ে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২৫ বার তাদের মুখ স্পর্শ করে।

চলুন জেনে নিই নাক, মুখ ও চোখ থেকে হাত দূরে রাখার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কী পরামর্শ

প্রতিযোগিতামূলক আচরণ বাছাই : করুননিউইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ গেইল সর্টজ ব্যাখ্যা করেন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা রোগীদের যখন কোনো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস পরিবর্তন করতে চান, তখন তাদের পাল্টা আচরণগুলো বাছাই করেন। মুখ স্পর্শ করে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে না দিয়ে আপনি স্পর্শ করার জন্য শরীরের অন্য অংশ বাছাই করুন ও সেদিকে মনোযোগ দিন। যেমন যদি আপনার মুখ স্পর্শ করার তাগিদ অনুভব করেন, তবে আপনার বাহুতে বা হাত চুলকানো শুরু করুন। এভাবে কোনো অভ্যাস দূর করতে প্রতিযোগিতামূলক আচরণ বেছে নেয়া অস্বাস্থ্যকর আচরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

পরিস্থিতিগুলোর নোট নিন : ‘মুখ স্পর্শ করবেন না’ এটা বারবার নিজেকে বোঝালেও দেখবেন ঠিকই মুখে হাত চলে যাচ্ছে। তাই যদি সম্ভব হয় দিনে কমপক্ষে ৩০ মিনিট মুখ স্পর্শ করার পরিবর্তে অন্য কিছু করার অভ্যাস গড়ে তোলার অনুশীলন করুন। যদি লক্ষ্য করেন যে, নির্দিষ্ট সময়ে বা কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মুখ স্পর্শ করছেন; যেমন ফোনে কথা বলার সময় বা পড়ার সময় তাহলে এমন পরিস্থিতিগুলোর নোট নিন। পরবর্তী সময়ে ওই পরিস্থিতিগুলোর দিকে মনোযোগ দিলে মুখ স্পর্শ করার অভ্যাস এড়াতে পারবেন।

হাতকে ব্যস্ত রাখুন : মুখ থেকে হাত দূরে রাখার আরেকটি সহজ উপায় হলো হাতকে ব্যস্ত রাখা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ লেয়া লিস বলেন, আপনি যদি দেখেন অবচেতনভাবেই নাক, মুখ বা চোখে হাত চলে যাচ্ছে, তাহলে হাতকে কোনো কিছুতে ব্যস্ত রাখুন। স্ট্রেস বলগুলো হাতকে ব্যস্ত রাখার জন্য দুর্দান্ত একটি উপায় হতে পারে। তবে এ বলগুলোও নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে ভুলবেন না।

গৃহস্থালি পণ্যগুলো ব্যবহার : 

ডা.লিস ব্যাখ্যা করেছেন, মুখ থেকে হাতকে দূরে রাখতে চাইলে হাতে এমন কিছু ব্যবহার করুন, যার ঘ্রাণ আপনি পছন্দ করেন না। তাহলে দেখবেন আপনার হাত মুখের কাছে গিয়ে বারবার ফিরে আসছে। এক্ষেত্রে আপনি নেইল পলিশ, অপছন্দনীয় ঘ্রাণযুক্ত বার্নিশ বা তীব্র ঘ্রাণযুক্ত সাবান ব্যবহার করতে পারেন। এর বাইরেও অনেক সময় নাক, মুখ ও চোখে হাত স্পর্শ করার প্রয়োজন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে মুখ স্পর্শ করুন। আবার হাত মুছতে পরিষ্কার টিস্যু বেছে নিন। এমন একটি অপরিষ্কার বা শক্ত টিস্যু বেছে নিলেন, যার ফলে চুলকানি বাড়তে পারে, যা আপনি উপেক্ষা করতে পারবেন

আগামীনিউজ/সুমন/মিজান  

Dr. Neem