Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

অশ্বগন্ধা


আগামী নিউজ | ড. নিম হাকিম প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২২, ০১:০২ পিএম
অশ্বগন্ধা

সংগৃহীত ছবি

পরিচিতিঃ Botanical Name: Withania somnifera Dunal. Common Name: Ashwagandha English Name: Winter Cherry. Family: Solanaceae

অশ্বগন্ধা ঝোঁপ জাতীয় গাছ এবং এর মূল ব্যবহার হয়। মূল আঙ্গুলের ন্যায় এবং ভাঙলে ভিতরে সাদা দেখা যায়। পাতা ২-৪ ইঞ্চি লম্বা, অগ্রভাগে সরু ও ডাটার গায়ে শুষ্ক সাদা লোমযুক্ত। এই গাছ উচ্চতা ও গঠনে অনেকটা বেগুন গাছের মত। সাধারনতঃ ৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। গাছের যে অংশে পাতা বের হয় সেখান থেকে সবুজ বহিরাবরণে ঢাকা মটরের মত ফল হয়। ফুল সবুজের আভাযুক্ত। ফল গোলাকার সবুজ, পাকলে লাল বর্ণ ধারণ করে। বীজ মসৃন ও চ্যাপ্টা। শিকড় নরম ও ঘোড়ার গন্ধের মত বলে একে অশ্বগন্ধা বলা হয়। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অশ্বগন্ধা চীনের জিনসেং অপেক্ষা অধিক কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। অশ্বগন্ধার শিকড় ও বীজ ব্যবহৃত হয়। অক্টোবর নভেম্বর মাসে ফুল আসে এবং মার্চ- এপ্রিল মাসে ফল পাকে।

প্রাপ্তিস্থানঃ কোন কোন কবিরাজের বাড়িতে পাওয়া যায়। বুনো অবস্থায় পাওয়া যায় না বললেই চলে। বর্তমানে নাটোর, বগুড়াসহ দেশের উত্তরাঞ্চল ও ভাওয়াল (ভাওয়াল ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে গঠিত) অঞ্চলে পাওয়া যায়।

চাষাবাদঃ মার্চ- এপ্রিল মাসে পরিপক্ক ফল/ বীজ সংগ্রহ করে সেই বীজ ছিটিয়ে অথবা বীজ থেকে চারা তৈরীর মাধ্যমে অশ্বগন্ধা চাষ করা যায়। এই গাছ পানিবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না বিধায় পানি জমতে পারে না এরকম জায়গায় বীজ ছিটানো বা চারা রোপণ করতে হবে। এছাড়াও নিয়মিত পরিচর্যা এবং মৌসুমে সেচ প্রয়োজন বিধায় সমতল উঁচু জমিতে চাষ করা ভালো।

লাগানোর দূরত্বঃ ২ থেকে ৩ ফুট।

উপযোগী মাটিঃ সব ধরনের মাটিতে এই গাছ জন্মে তবে বেলে দোঁআশ মাটিতে ভাল জন্মে।

বীজ আহরণঃ মার্চ- এপ্রিল মাসে ফল পাকলে সেই ফল সংগ্রহ করে ফলের উপরের আবরণ ফেলে দিন বীজ সংগ্রহ করতে হয়। প্রতি কেজিতে বীজের পরিমাণ ৪ চার থেকে পাঁচ হাজার।

ব্যবহার্য অংশঃ অশ্বগন্ধার মূল/শিকড় ব্যবহার হয়।

উপকারিতা/ লোকজ ব্যবহারঃ অশ্বগন্ধা বলকারক, মোটাকারক, বীর্য বর্ধক, যৌন উত্তেজক ও জন শক্তিবর্ধক। শুক্র দৌর্বল্য, বাত, রক্তচাপ, শোথ, ভ্রম ও অনিদ্রা, শ্বাসকষ্ট, কাশ, ব্রঙ্কাইটিস, কোমর ও ব্যথায় উপকারি। প্রসূতিকে প্রসবাস্তে অশ্বগন্ধা সেবন করালে বিশেষ উপকার হয়।

কোন্ অংশ কিভাবে ব্যবহৃত হয়ঃ

● শোথ রোগ হলে চার গ্রাম পরিমিত অশ্বগন্ধার মূলচূর্ণ ঘি ও মধুসহ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

● কফ রোগে তিন গ্রাম পরিমিত অশ্বগন্ধার মূলচূর্ণ গরম পানির সংগে খেলে কফ রোগ ভালো হয়।

● শ্বাস রোগে অশ্বগন্ধার মূলের ছাই, মধু সহ খেলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।

● যক্ষা রোগে অশ্বগন্ধার মূলচূর্ণ মধুসহ নিয়মিত চেটে খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

● রিকেট রোগে শিশু ক্রমশ রোগা হতে থাকলে দেড় গ্রাম পরিমিত অশ্বগন্ধার মূলচূর্ণ, কিছু গরম পানি, দুধ অথবা ঘি মিশিয়ে এক মাস নিয়মিত খেলে শিশু স্বাস্থ্য ভালো ও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে থাকে।

● প্রমেহ রোগে প্রতিদিন সকালে ঠান্ডা পানিসহ খেলে প্রমেহ রোগ আরোগ্য হয়।

● স্বপ্নদোষজনিত শুক্রক্ষয়ে তিন গ্রাম পরিমিত অশ্বগন্ধার চূর্ণ কাঁচা দুধসহ ঘুমানোর আগে একমাস নিয়মিত খেলে স্বপ্নদোষ বন্ধ হয় এবং শুক্রবৃদ্ধি হয়।

● অনিদ্রায় অশ্বগন্ধা চূর্ণ আড়াই গ্রাম পরিমাণ চিনি ও দুধসহ খেলে ভালো ঘুম হয় এবং অনিদ্রা রোগ দূর

হয়।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ সাধারণত ৬-৭ মাসেই পরিপক্ক হয়।

অন্যান্য ব্যবহারঃ সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অশ্বগন্ধা চীনের জিনসেং অপেক্ষা অধিক কার্যকর প্রমাণিত

হয়েছে।

আয়ঃ প্রতি একর জমিতে বার্ষিক ৮০,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

এসএস