Agaminews
Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

পিতরাজ


আগামী নিউজ | ডঃ নিম হাকিম প্রকাশিত: জুন ৬, ২০২১, ১২:১৮ পিএম
পিতরাজ

ছবি: সংগৃহীত

পরিচিতিঃ (Botanical Name: Aphanamixis polistachya, Common Name: Pitraj/Royna, English Name: Parker, Family: Meliaceae.)

চিরসবুজ পত্রাচ্ছাদিত মাঝারি আকারের বৃক্ষ, ১০-১২ মিটার উঁচু হয়। পাতা ৩০-৫০ সেমি লম্বা, পুস্পদন্ড পাতার দৈর্ঘ্য অপেক্ষা কিছু ছোট বা সমান। এর পাতা চাঁপা ফুলের পাতাসদৃশ। পত্রদন্ডের দুই  দিকে সমান্তরালভাবে পাতা হয় এবং অগ্রভাবে একটি পাতা হয়। পুস্পদন্ডের স্ত্রী পুরুষভেদে দু রকমের ফুল ফোটে। ফল গোলাকার, মসৃণ, শাঁসযুক্ত এবং ঈষৎ লাল। তবে ফিকে পীতবর্ণও হতে দেখা যায়। ফলের বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। এটিকে রোহিতক বা রয়নাও বলা হয়ে থাকে।ছাল পুরু ও ভিতরে ঈষৎ রক্তাভ।

প্রাপ্তিস্থানঃ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই গাছ দেখা যায়।

চাষাবাদঃ বীজ হতে চারা তৈরী করে পিতরাজ গাছ লাগানো যায়। ডিসেম্বর মাসে গাছে ফুল ফোটে এবং মার্চ মাসে ফল পাকে। তখন বীজ সংগ্রহ করতে হয়। বীজ সংগ্রহের ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে চটে অথবা মাটির পটে বীজ বপন করতে হয়। বীজ বপনের পূর্বে ফল হতে বীজ বের করে নিতে হয়। বপনের দেরি হলে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা কমে যায়। এক বছরের চারা মাঠে রোপন করতে হয়। পরিপক্ক ফল থেকে বীজ আলাদা করার জন্য ৩-৪ দিন ছায়াযুক্ত পরিবেশে স্তপাকারে রাখতে হয় ও ফলকে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে হাত দিয়ে কচলিয়ে বীজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর বীজ রোদে শুকিয়ে সংরক্ষন করা উত্তম।

লাগানোর দূরত্বঃ ১৮ ফুট।

উপযোগী মাটিঃ বেলে-দোআঁশ।

প্রতিকেজিতে বীজের পরিমাণঃ ৪০০ থেকে ৫০০ টি।

বীজ আহরণ ও সংগ্রহের সময়ঃ মার্চ- মে।

প্রক্রিয়াজাতকরণ/সংরক্ষণঃ বীজ সংগ্রহ করে পরিষ্কার করে ছায়াযুক্ত রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। বীজের আর্দ্রতা কমে কিছুটা গাঢ় বর্ণ ধারণ করলে প্যাকেটজাত করতে হবে।

ব্যবহার্য অংশঃ ফলের শাঁস, তেল।

উপকারিতা/লোকজ ব্যবহারঃ চরকের চিকিৎসাস্থানে উল্লেখ করা আছে, প্লীহা, যকৃৎ বৃদ্ধি পেলে (পিতরাজ) যথাযথ পাকের নিয়মে তৈরি করে প্রয়োগ করলে ঐ রোগ নিরাময় হবে। এছাড়াও উদর, কামলা, শ্বোথ ও অরুচি প্রশমক হিসাবে এটি ব্যবহৃত হয়। বীজের তেল বাত ব্যাধিতে ব্যাবহার করা হয়। তেল দিয়ে বাতি জ্বালানো যায়।

কোন অংশ কিভাবে ব্যবহার করা হয়ঃ

  • মেয়েদের রক্তপ্রদর রোগ শুরু হওয়ার অল্পদিনের মধ্যে মূলের ৫ গ্রাম ভাল করে থেঁতো করে ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে আন্দাজ আধকাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে সেই পানি দ্বিগুণ দুধ মিশিয়ে সকাল বিকাল দুবার করে এক সপ্তাহ খেলে এই রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে।
  • মেহ ও স্থৈল্য রোগের (মোটা হয়ে যাওয়া) এটি একটি মহৌষধ। বীজের তেল বাতের মালিশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ছাল কটু রসায়ন ও বলবৃদ্ধিকারক।

পরিপক্ক হওয়ার সময়কালঃ ৭-১০ বছর।

অন্যান্য ব্যবহারঃ এর কাট খুবই শক্ত এবং ঘরের আসবাবপত্র তৈরীতে ব্যবহার হয়।

আয়ঃ প্রতি একর জমিতে ৩০,০০০ টাকা থেকে ৪০,০০০ টাকা আয় করা সম্ভব।