Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

বাংলার আলো সরকারি বাঙলা কলেজ 


আগামী নিউজ | মকিবুল মিয়া, সরকারি বাঙলা কলেজ প্রতিনিধি প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২১, ০৫:৫৫ পিএম
বাংলার আলো সরকারি বাঙলা কলেজ 

ছবি: আগামী নিউজ

বাংলা ভাষা রক্ষার্থে ১৯৬২ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় সরকারি বাঙলা কলেজ। বাংলার মানুষের মুখের ভাষা ছড়িয়ে দিতে এবং বাঙালির জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করা, বাংলা কে উচ্চতর শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে চালু করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। 

দেশ স্বাধীনের পর নব উদ্যমে যাত্রা শুরু করে কলেজটি ‘বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। বর্তমানে কলেজটিতে উচ্চমাধ্যমিকসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৫ সালে কলেজটিকে সরকারিকরণ করা হয়। ১৯৯৭ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজটি ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত হয়। 

স্মৃতিতে কৃতিরা- বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব আন্দোলন-সংগ্রামে বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠা ব্যক্তিবর্গের এবং ছাত্রদের অংশগ্রহণ ছিল প্রথম সারিতে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বাঙলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম। এছাড়া ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, খান বাহাদুর খান, আব্দুল হাকিম, এস মাহমুদ প্রমুখ তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রেখে গেছেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধেও অবদান রাখেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ১৯৬৯ সালের ছাত্র গণআন্দোলনের সময় সংগ্রামী ছাত্রদের সহযোগিতায় বাঙলা কলেজের ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলন ব্যাপক গণভিত্তি লাভ করে এবং ৯০ এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামগুলোতে এ কলেজের ছাত্রদের অবদান জড়িয়ে আছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের মধ্যে বাঙলা কলেজ অন্যতম। বাঙলা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স ছাড়াও ১৯ টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এখানে ৩০ হাজারের বেশি। উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফলে এই কলেজ ঢাকা বোর্ডে বরাবরই শ্রেষ্ঠত্বের সুনাম ধরে রেখেছে। স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলেও সুনাম আছে। বর্তমানে এখানে বিজ্ঞান, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে বেশ কয়েকটি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু আছে।

সহশিক্ষা কার্যক্রমঃ- সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য বাঙলা কলেজের শিক্ষার্থীদের সুনাম রয়েছে। ডিবেটিং সোসাইটি, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউট, যুব থিয়েটার, সাংবাদিক সমিতি, আবৃত্তি সংসদ, চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র সংসদ, গার্লস গাইড, সেভ দ্যা ফিউচার ফাউন্ডেশন, ক্লিন এন্ড গ্রীন ক্যাম্পাস, ৭১’র চেতনা, বাঁধনের মতো সংগঠনগুলো সব সময় ক্যাম্পাস মাতিয়ে রাখে। এ ছাড়া রয়েছে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব।

সরকারি বাঙলা কলেজ রাজধানী ঢাকার বুকে ২৫ একর জমি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। বাঙলা কলেজ বধ্যভূমি, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এটাই সবচেয়ে বড় গণহত্যা। বাঙলা কলেজ শুধু মিরপুরেই নয়, বাংলাদেশের অন্যতম একটি বধ্যভূমি।

আগামীনিউজ/ হাসান