Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim
বিপর্যয়ের আশংকা

বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের মাটি-বাতাস-পানি!


আগামী নিউজ | ড. নিম হাকিম প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২২, ১১:১৪ পিএম
বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের মাটি-বাতাস-পানি!

ড. নিম হাকিম। ছবি: সংগৃহীত

দেশের এক দশমাংশ জুড়ে পার্বত্য চট্রগ্রামের অবস্থান। সবুজ পাহাড়, নদ-নদী আর ঝিড়িতে সাজানো এই অঞ্চলে একসময় ছিল বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ও জনসংখ্যা ছিল খুবই কম। অধিবাসীরা নির্ভরশীল ছিল প্রাকৃতিক সম্পদের উপর। কালের আর্বতে জনসংখ্যা বেড়ে গেছে, দূষণ-দখলে নদীগুলোর পানি কমে গিয়ে হয়েছে মাছ ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ ও প্রানী শুন্য।

পাথর আর বালু উত্তোলনের কারনে ঝিড়িগুলোর বেহাল দশা। বিদেশী গাছ সেগুন আর ইউকেলিপটাস রোপনে আর এসব গাছগুলোর ব্যাপক পানি শোষনে ঝিড়িগুলো হয়ে গেছে পানি শুন্য।

পাহাড়ে বন্যপ্রানী, পাখি, শামুক, ঝিনুক সবই শেষের পথে। এর চেয়েও ভয়াবহ হলো বর্তমানে পাহাড়ে ব্যাপক আকারে শুরু হয়েছে হাইব্রিড ফল ও সবজির চাষ। এসব ফসল উৎপাদনে প্রয়োজন হচ্ছে সেচের পানি, রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশক।
উল্লেখ্য, হাইব্রিড ফল ও ফসল উৎপাদনে সেচ, সার ও কীটনাশক অত্যাবশ্যক। অপরিকল্পিত ও অত্যাধিক রাসায়নিক সার এবং ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহারে মাটি যেমন বিষাক্ত হচ্ছে তেমনি বাতাসে ছড়িয়ে তা বাতাসকেও দূষিত করছে। আর পর্যায়ক্রমে এই সার আর কীটনাশক পাহাড়ের পাদদেশে বহমান নদী-ঝিড়িতে গিয়ে তার পানি দূষণ ফলে  মাছ ও জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য জলজ প্রানীর বিলুপ্তি ঘটছে।

পাহাড়ের জমিতে এত বেশী রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে যে তা দেশের সমতল অঞ্চলে ব্যবহারের থেকে ৩ গুন বেশী। এসব ক্ষতিকর কৃষি উপাদান ব্যবহারের ভয়াবহতা নিয়ে কৃষি ও পরিবেশ বিভাগ অথবা মৃত্তিকা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেউ কোন প্রকার সচেতনতা মূলক কার্যক্রম পরিচালনায় নেই। উন্নয়নের ধ্বজাধারী পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন র্বোড আর টেকসই উন্নয়নের প্রবক্তা দাবীদার এনজিওরা নিজ নিজ স্বার্থে ব্যস্ত।

বিদেশী সন্ত্রাসী বৃক্ষ ইউকেলিপটাস ও সেগুন লাগানোর কারনে এবং এসব ক্ষতিকর বৃক্ষের অতিরিক্ত ও মাটির গভীর থেকে পানি শোষনের ফলে ঝিড়িগুলো পানি শুন্য  হয়ে যাচ্ছে তা নিয়েও কারও মাথা ব্যথা নেই। পানি শুন্যের কারনে সুপেয় পানিতো দুরের কথা রান্না-বান্না আর গোসলের পানিও পাওয়া যাবেনা  না অদুর ভবিষ্যতে। না প্রতিরোধ করা হচ্ছে এসব জীববৈচিত্রের জন্য ক্ষতিকর বৃক্ষরোপণে অথবা পাথর আর বালু উত্তোলনে। সব মিলিয়ে পাহাড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ পরিবেশ  বির্পযয়ের আশংকা।