Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

মানি লন্ডারিং: ডিজিটাল বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের সতর্কতা জরুরী


আগামী নিউজ | ড. নিম হাকিম প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২১, ০৭:৩৪ পিএম
মানি লন্ডারিং: ডিজিটাল বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের সতর্কতা জরুরী

ড. নিম হাকিম। ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকাঃ তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় নানা সমস্যায় পড়ছে বিশ্ব। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো। ধনী দেশগুলো ইতোমধ্যেই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলেছে। কিন্তু বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশ এখনও অরক্ষিত। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরন। ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেয়া, ব্যাংক থেকে অর্থ বের করা এগুলো মূলতঃ  হয়ে থাকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে।

এছাড়া ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রবর্তন ও প্রচলনের সাথে সাথেই শুরু হয়েছে ডিজিটাল জালিয়াতি, ই-কর্মাসের নামে নব্যরূপে পরিচালিত হচ্ছে অবৈধ মাল্টিলেভেল বা নেটওয়ার্ক ব্যবসা। সরকারের কোন নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ না থাকার কারনে বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বুঝে উঠার আগেই প্রতারকরা লোভনীয় অফারে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে সর্বশান্ত করেছে লাখ লাখ মানুষকে। আর এ সব প্রতারনার বিপুল পরিমান অর্থ সরিয়ে নিয়েছে এবং নিচ্ছে বিদেশে। প্রশ্ন এত টাকা কিভাবে বিদেশে সরিয়ে নিল ?  পৃথিবীর কোন দেশ থেকে এভাবে হুন্ডির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেয়ার উদাহরণ কি আদৌ আছে ? মানিলন্ডারিং আইনে তদন্ত ও বিচারের দীর্ঘ সক্রিয়তা, নজরদারীর অভাব দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার কারনে এই ধরনের অপরাধ ক্রমশঃ বেড়েই যাচ্ছে।

সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতারনা:

ফেসবুকের পেইড লাইক ও ইউটিউবে নানা রকম মিথ্যা, প্রলোভনমূলক ও সেক্সয়াল কার্যক্রম, দেশ, ব্যক্তি বিশেষ বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারনা, মান সম্মান ও মর্যাদা হানিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ায় মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে যা কোন দেশ ও জাতীর জন্যই সুখকর নয়।

এই সব অশ্লীল, মিথ্যা, প্রলোভনমূলক এবং দেশ বিরোধী প্রচারনা ও বিজ্ঞাপনে যে সব অর্থ ফেসবুক, ইউটিউব এবং গুগুলকে বৈদেশিক মুদ্রায় দিতে হচ্ছে তা কি ভাবে পরিশোধ হচ্ছে তাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার।

ফেসবুক ও ইউটিউবে কোন কিছু আপলোডে নীতি নৈতিকতার বালাই নেই তাই অবাধে চলছে এ সব অপকর্ম।

বেকার সমাজকে চাকুরীর প্রলোভন, ছিলিপিং এজের কিশোর-কিশোরীদের বিপদগামী করা। যৌনতার প্রতি আকৃষ্ট করে ঘরছাড়া করা। টিকটকের মাধ্যমে কিশোরীদের আকৃষ্ট করে পরবর্তীতে বিদেশে পাচার অহরহই ঘটছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী সরাসরি এ সব প্লাটফর্মকে অর্থ প্রদান না করলেও বিজ্ঞাপনদাতারা অর্থ প্রদান করে থাকে। এ সব অর্থ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয় এবং এ সব অর্থ অবৈধ পথে প্রদান করা হয়। এই সব আদান-প্রদান বন্ধ করাও জরুরী। এছাড়াও সরকারের উচিৎ হবে ই-কমার্সের নামে পরিচালিত অবৈধ মাল্টিলেভেল ব্যবসা বন্ধ করা তা হলে হয়তো কিছুটা হলেও মানিলন্ডারিং বন্ধ হবে, দেশের মানুষও প্রতারনার হাত থেকে রক্ষা পাবে।