Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim

পাঁচ নেতাকর্মীর সন্ধানে মির্জা ফখরুল


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২০, ১১:৪৭ এএম
পাঁচ নেতাকর্মীর সন্ধানে মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাঃ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দলের পাঁচ নেতাকর্মীর সন্ধান চেয়ে বলেছেন, কিছুদিন আগে হাইকোর্টের গেট থেকে গোয়েন্দারা বেশ কয়েকজনকে তুলে নিয়ে যায়। এদের কয়েকজনকে আটক করে রাখা হয়। তার মধ্যে তিনজনকে চার-পাঁচ দিন আটক রাখার পর থানায় হস্তান্তর ও একজনকে ছেড়ে দেয়া হয়। পাঁচজন এখনো নিখোঁজ। সরকারের কাছে অনতিবিলম্বে তাদের সন্ধান দাবি করছি।

গতকাল বিকালে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে অনলাইন মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান ফখরুল।

তিনি বলেন, নিখোঁজ পাঁচ নেতাকর্মী হলেন- লিয়ন হক, মামুন পারভেজ তন্ময়, তৌহিদুল ইসলাম হাসিব, ফেরদৌস মজুমদার মাসুম ও সেলিম মিয়া। এই পাঁচজনকে তুলে নিয়ে গেছে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা। অনেক জায়গাতে পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে। দল ও তাদের পরিবার থেকে খোঁজ করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অস্বীকার করছে। যারা গুম হয়েছে তাদের পরিবার অত্যন্ত উদ্বিগ্ন অবস্থায় আছে, আমরাও উদ্বিগ্ন।

ফখরুল বলেন, আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো, কোনো ব্যক্তি যদি নিখোঁজ হয় তাহলে তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে সরকারের। এটা একটা অসম্ভব ব্যাপার যে, হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়েছে। তারপরে সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দারা তাদের তুলে নিয়ে যাবে। আমরা কোন দেশে বাস করছি?

সরকারের অপকর্মের সমালোচনা রুখতেই বিরোধীদের গুম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বাংলাদেশে যেটা প্রত্যক্ষ করছি গত এক দশক ধরে এই গুমের সংস্কৃতি দিয়ে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকছে। যেহেতু তারা জনগণ থেকে আজকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই কারণে তারা গুমের সংস্কৃতি চালু রেখে ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে জনগণের ওপর নির্যাতন করছে। তাদের উদ্দেশ্য একটাই- সরকারের যে বিভিন্ন অপকর্মগুলো রয়েছে সেই অকর্মগুলোর সমালোচনা না করা যায়, সরকারের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করলেই এর একটা ভীতি সৃষ্টি করা যায় গুম করে। এখানে এটাই হচ্ছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রচণ্ডভাবে বিনষ্ট হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, এখানে কী আইনের শাসন নেই, এখানে গণতন্ত্রের ন্যূনতম অধিকারগুলো ১৯৭২ সালে সংবিধানে আমাদেরকে দিয়েছে সেগুলো কি আমাদের নেতাকর্মী, ভিন্নমত পোষণকারীদের জন্য একেবারে অনুপস্থিত হয়ে গেলো। আজকের বাস্তবতা হচ্ছে এটা- এই সরকার শুধু জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি তারা পুরোপুরিভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। আজকে তারা রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করেছে, করায়ত্ব করেছে সেভাবে তারা টিকে থাকতে চায়। আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো, অবিলম্বে গুম হওয়া নেতাকর্মীদের খুঁজে বের করা হোক, যাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করা হয়েছে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হোক এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হোক।

গত ১২ই নভেম্বর রাজধানীতে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা সরকারের এজেন্টদের পুরনো খেলা বলে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপিকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার এটা নীলনকশা। আজকে রাজনীতি করা আর ভিন্নমত পোষণ করার জন্য যদি মানুষকে গুম হয়ে যেতে হয়, তাহলে এদেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। বাস্তবতা হচ্ছে যে, এদেশে কোনো নির্বাচনই হয় না। এখন নির্বাচন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে গেছে। নির্বাচনের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই। সরকারের কারণে এটা হয়েছে। সরকারের বংশবদ নির্বাচন কমিশন তারা একটা নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পারেনি। নির্বাচন বা জনগণের ভোট দেয়ার যে অধিকার এটা রক্ষা করার দায়িত্ব শুধুমাত্র বিএনপির নয়, এদেশের সকল মানুষের। তাই সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র নস্যাৎ করবার যে প্রক্রিয়া তাকে বন্ধ করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

আগামীনিউজ/মিথুন