Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটাই বাস্তব: প্রধানমন্ত্রী


আগামী নিউজ | ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২১, ০২:৩১ পিএম
দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটাই বাস্তব: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকাঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারলাম না। কারণ গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দেইনি বলেই আমাকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হলো না। বৃহৎ দুটি দেশ আর প্রতিবেশি দেশ তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি। কারণ আমার নিজের দেশের সম্পদ আমি অন্যের কাছে বিক্রি করার আগে আমার কথা ছিল আগে দেশের মানুষ তাদের চাহিদা পূরণ হবে, পঞ্চাশ বছরের মজুদ থাকবে। তিনি বলেন, দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসবো না, এটাই বাস্তব।

প্রধানমন্ত্রী শনিবার (১৬ অক্টোবর) ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, নিজেরা খাদ্য উৎপাদন করে চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি করবো। অর্থ উপার্জন করবো। এটা আমরা পারি, পারবো। উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্যের মানও ঠিক রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সার-বীজ কৃষকের হাতের নাগালে পৌঁছে দিয়েছি। অথচ এ সার চাইতে গিয়ে আন্দোলন করায় ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে খালেদা জিয়ার সরকার। বিদ্যুৎ চাওয়ায় নয়জনকে হত্যা করা হয়।’

তিনি বলেন, তারপর যেটা অতিরিক্ত থাকবে সেটা আমি বেচতে পারি। তাছাড়া এই দেশের সম্পদ আমি বেচতে পারি না। এ কথা আসলে একটা বিশাল দেশ আমেরিকা আর পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের পছন্দ হয়নি। কাজেই আমি ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারিনি। কিন্তু দেশ বেচে তো আমি ক্ষমতায় আসব না, এটা হলো বাস্তব।

সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের চাহিদা পূরণে বিনা পয়সায় খাবার বিতরণ করছি। ১০ টাকায় চালের ব্যবস্থা করেছি। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশ মঙ্গামুক্ত থাকবে। বাংলাদেশে আর কেউ যেন দুষ্কর্ম করে দুর্ভিক্ষ তৈরি করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। আমরা খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করবো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা যখন মহামারি আকারে দেখা দেয় তখনই আমি আহ্বান জানিয়েছি যে আমাদের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে। বিশ্বের অনেক দেশে এখন খাদ্যের অভাব। অনেক দেশ দুর্ভিক্ষ অবস্থার দিকে চলে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয়, বাংলাদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে, আমরা যেন খাদ্যের অভাবে আর কখনো না ভুগী। উত্তরবঙ্গ আওয়ামী লীগ সরকার এলেই মঙ্গা মুক্ত হয়। মঙ্গা মুক্তই থাকবে। বাংলাদেশে কখনো যেন দুর্ভিক্ষ হতে না পারে।’

কৃষি জমি রক্ষার তাগিদ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘কৃষি জমি যেন কোনো মতেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা উৎপাদন করব, উন্নয়ন আমরা করব। সে উন্নয়নটা আমাদের কৃষি জমি সংরক্ষণ করে করতে হবে।’

সারা বিশ্বে প্রচুর খাদ্য অপচয়ের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যের অপচয়টা কমাতে হবে, অপচয় যেন না হয়। সারা বিশ্বে কিন্তু একদিকে খাদ্যের অভাব অপর দিকে কিন্তু প্রচুর অপচয় হয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই অপচয় যেন না হয় বরং যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটাকে আবার পুনবর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে। সেটার বিষয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। উদ্বৃত্ত যে খাদ্য থাকবে বা আপনি খেতে বসেও যে খাবার বেশি থাকবে সেটাও কিভাবে পুনঃব্যবহার করা, অন্য চাহিদা পূরণ করা যায় কি না সেটাকেও গবেষণার মধ্যে রাখা দরকার।’

কৃষি সম্প্রসারণ ও খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য চাহিদা ইনশাল্লাহ আমরা পূরণ করে যাব। হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য দিয়েও তাদের চাহিদা আমরা পূরণ করব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’

উৎপাদিত খাদ্যের মান ঠিক রাখার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাদ্য শুধু উৎপাদন না মানটা যেন ঠিক থাকে।’

বীজ উৎপাদনে বিভিন্ন গবেষণা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বীজ আমরা উৎপাদন করবো, আমরা অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকবো না।... সরকারি থেকে উৎপাদন করবে, বীজ মান সম্পন্ন এবং যথাযথ সংরক্ষণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত ‘বঙ্গবন্ধু ধান-১০০’ অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কৃষিতে সফলতার জন্য বাংলাদেশি কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমরা চাহিদার উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ধান উৎপাদনে তৃতীয়, শাকসবজি উৎপাদনে তৃতীয়, চা উৎপাদনে চতুর্থ, আম ও আলু উৎপাদনে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে তৃতীয় এবং ইলিশ মাছ উৎপাদনে প্রথম স্থান অর্জন করেছি।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আগামীনিউজ/বুরহান