Agaminews
Dr. Neem Hakim
Dr. Neem Hakim

খুশির দিনে কাজী নজরুলের জয়ন্তী


আগামী নিউজ | নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২০, ১১:১৬ এএম
খুশির দিনে কাজী নজরুলের জয়ন্তী

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা: প্রতিবছর রমজানের শেষ দিন সন্ধ্যায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি বাজতে থাকে চারদিক। নানা আয়োজনে, টেলিভিশনের পর্দায় বিচিত্র পরিবেশনায় এই গানটি পরিবেশিত হয়। উৎসব-সংগীত হিসেবে নিঃসন্দেহে উল্লেখযোগ্য একটি গান। ধর্ম-নির্বিশেষে সবার মনে সমান দোলা দিয়ে যায় এই অসাধারণ নজরুল-সৃষ্টি। আজ রমজান শেষের খুশির ঈদের দিনই নজরুলের জন্মবার্ষিকী, ১২১তম নজরুল জয়ন্তী। এই উপলক্ষে বিশেষ ডুডল প্রকাশ করেছে গুগল। সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টটির হোমপেজে ঢুকলেই চোখে পড়ছে বাবরি চুলের বিদ্রোহী কবিকে।

কাজী নজরুল ইসলাম ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবার নাম কাজী ফকির আহমেদ, মা জাহেদা খাতুন। দরিদ্র পরিবারে জন্মের পর দুঃখ-দারিদ্র্য ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। তাঁর ডাকনাম ছিল দুখু মিয়া। বাবার অকালমৃত্যুতে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি শিশু বয়সেই মক্তবে শিক্ষকতা, হাজি পালোয়ানের মাজারে খাদেম, মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেন। তবে নিজের দুঃখ নিয়ে নয়, তিনি জাতির দুঃখ-ক্লেশ, দৈন্য-লজ্জা ঘোচানোর জন্য ভাবতেন সব সময়।

কাজী নজরুল ইসলাম বিশ শতকের বিশ ও ত্রিশের দশকে উপমহাদেশের অবিভক্ত বাংলার সাংস্কৃতিক জগতে সবচেয়ে বর্ণাঢ্য ব্যক্তিত্ব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যর্থ অনুকরণ ও অনুসরণের কৃত্রিমতা থেকে আধুনিক বাংলা কবিতাকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল সবচেয়ে সফল। তিনিই রবীন্দ্র-উত্তর বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার পথিকৃৎ। নজরুল তাঁর কবিতা, গান ও উপন্যাসে পরাধীন ভারতে বিশেষ করে অবিভক্ত বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা, সামন্তবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।

কোমল আর কঠিনে মেশানো এক অপূর্ব ব্যক্তিত্ব কাজী নজরুল ইসলাম। প্রেমে পূর্ণ, বেদনায় নীল। আবার প্রতিবাদে ঊর্মিমাতাল। তিনি আমাদের অনন্ত প্রেরণার উৎসও। বাংলার মানুষের সবচেয়ে কাছের, প্রাণের মানুষ তিনি। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে অসুস্থ কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। বঙ্গবন্ধু কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন। পরে তাঁকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আগামীনিউজ/মিজান

Dr. Neem