Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

ভাড়ানী খালের গার্ডার ব্রীজটি এখন দুর্ভোগের কাঁটা


আগামী নিউজ | উপজেলা প্রতিনিধি, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২২, ০৬:০২ পিএম
ভাড়ানী খালের গার্ডার ব্রীজটি এখন দুর্ভোগের কাঁটা

পটুয়াখালীঃ  কলাপাড়ায় ধানখালী ইউনিয়নের কোডেক বাজার সংলগ্ন কাটা ভাড়ানী খালের ওপর ৮০ফুট লম্বা গার্ডার ব্রীজের পুর্ব মাথায় ও মাঝখান দিয়ে বিভিন্ন জায়গায়  মৃত্যুফাঁদে পরিনত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ ব্রীজটি দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজারো ছাত্র-ছাত্রী, চাকুরীজীবী, কৃষক, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষ, এছঅড়াও ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, নির্মাণাধীন আরপিসিএল কয়লা ভিত্তিক তুাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র  স্থাপন হওয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রীজটি  নির্মিত হয়েছে প্রায় ২০বছর আগে যা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সুত্রে জানা যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধানখালী ইউনিয়নের কাটা ভাড়ানী খালের ওপর ৮০ফুট লম্বা ব্রীজের পুর্ব মাথায়/মাঝ খান দিয়ে ও বিভিন্ন জায়গা পাথরের সুরকি উঠে গিয়ে লোহার রড বেড়িয়ে গেছে, যেখানে একটি বড় গাছ ফেলে রাখা হয়েছে যার মাথায় লাল নিশান দিয়ে সংকেত চিহৃ দেওয়া হয়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপদ হতে পারে ওই স্থানে। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙ্গে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। আরপিসিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গাড়ি যাওয়া আসার জন্য ওই খালে একটি বাইপাস সড়ক করে ছিল। সেতুটির পাশের বাইপাস সড়কটিও পুরোপুরি ভেঙ্গে গেছে। উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এ ব্রীজটি। নোমরহাট বাজার হয়ে আমতলী উপজেলায় পৌঁছেছে ও পার্শ্ববর্তী আমতলী-গলাচিপা উপজেলার অনেক লোকজনের যাতায়াত এ ব্রীজ দিয়ে। কাটা ভাড়ানী খালের ওপর লোহার অবকাঠামোতে তৈরি একটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের এ গার্ডার ব্রীজটি। জরাজীর্ণ হয়ে পড়ার ফলে মানুষের দূর্ভোগ ক্রমশই বাড়ছে। তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সোমবার ও বৃহস্পতিবারএখানে সাপ্তাহিক বাজার হওয়ায় গ্রামের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পন্য নিয়ে আসতে হয় কালু মিয়ার বাজারে তাদেরকে ওই ব্রীজ পারাপার করতে হয়। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ মানুষ। স্কুলগামী শত শত শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ব্রীজ দিয়ে চলাচল করছে এ পথে। নিত্যকার এ দূর্ভোগ নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তর শেষ নেই। গার্ডার ব্রিজের সংলগ্ন রয়েছে আরপিসিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কোডেক বাজার, আশ্রাফ একাডেমী মাঃ বিদ্যালয়, সোমবারিয়া কালুমিয়ার বাজার, ধানখালী ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্্র , ধানখালী ডিগ্রি কলেজ, ধানখালী টেকনিক্যাল কলেজ, চালতাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা ঝুঁকিপূর্ণ ব্রীজ পারাপার হয়ে যেতে হয়।  

ধানখালী গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা শাজাহান আলী খান বলেন, ওই ব্রীজ দিয়ে ১২টি বিভিন্ন প্রতিস্টানের লোকজনের ও সাধারন মানুষের চলাচল করতে হয়। ওখানে রয়েছে দু’টি সাপ্তাহিক বাজার। কোডেক বাজার খালের উপর রয়েছে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। যে কোনো সময় সেতুটি ভেঙ্গে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। 

ধানখালী ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাদা পারভেজ টিনু মৃধা জানান, কোডেক বাজার খালের উপর সেতুটি খুবই জনগুরুত্বপুর্ন। বিভিন্ন পেশার লোকজনের চলাচল করে। এজন্য ওই জায়গা একটি নতুন সেতু স্থাপনের জন্য উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে ধানখালী বাসির পক্ষে থেকে জোর অনুরোধ জানাছি। এখানে রয়েছে আরপিসিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র , কোডেক বাজার, আশ্রাফ একাডেমী মাঃ বিদ্যালয়, সোমবারিয়া কালুমিয়ার বাজার, ধানখালী ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স , ধানখালী ডিগ্রি কলেজ, ধানখালী টেকনিক্যাল কলেজ, চালতাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ধানখালী ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, কোডেক বাজার খালের উপর রয়েছে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু। ধানখালী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকসহ এখানে অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিস্টানের শিক্ষক- ছাত্রী/ছাত্রী রয়েছে তাদেরকে ওই ব্রীজ দিয়ে চলাচল করতে হয়। ওই সময় ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করার কারনে কয়েক বছরের মধ্যে এ ব্রীজটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিনত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে সেতুটি মেরামতসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।

এবিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের(এলজিইডি) উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো: আবুল হোসেন বলেন, ধানখালী ইউনিয়নে কোডেক বাজার খালের উপর গার্ডার ব্রীজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এসএস