Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকরির নামে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল


আগামী নিউজ | নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২২, ০৮:৩৬ পিএম
ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকরির নামে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল

রংপুরঃ ভূমি মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেয়ার নামে নেয়া হয় ১৩ লাখ টাকা। সচিবের সই জাল করে দেয়া হয় নিয়োগপত্র। ঢাকায় এনে ভর্তি করা হয় কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারেও। ৩ মাস পর বুঝতে পেরে প্রতারকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। ততদিনে লাপাত্তা প্রতারক। ঘুষ নেয়ার ভিডিও ভাইরালের পর তোলপাড় রংপুরে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ে কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস সহকারী হিসেবে ছেলে সোহাগ মিয়াকে চাকরির দেয়ার কথা বলে রংপুর নগরীর দখিগঞ্জ এলাকার আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগমের কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা গুণে নেন একই এলাকার আনোয়ার হোসেন।

কিছুদিনের মধ্যে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের পরিচালক স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগপত্র এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাজুল ইসলাম মিয়ার স্বাক্ষর করা যোগদানপত্র হাতে দিয়ে ঢাকায় একটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে সোহাগকে রেখে বলা হয়, চাকরিতে যোগদান হয়ে গেছে। তবে ৩ মাসের ট্রেনিং শেষে হবে পোস্টিং। বেতন হিসেবে দুই মাস ২২ হাজার টাকাও দেয়া হয় তাকে। বেতন বিল, ভ্রমণ ভাতাসহ সরকারি দফতরের বেশকিছু ফরম, ভাউচারও দেয়া হয় তাকে। কিন্তু ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও পোস্টিং না হওয়ায় বুঝতে পারে প্রতারণার শিকার হয়েছে সে।

প্রতারণার শিকার সোহাগ মিয়া বলেন, একটা কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে নিয়ে আমাকে ট্রেনিং করার জন্য বলে। আমি আস্তে আস্তে তাদের প্রতারণার বিষয়টি টের পাই। ওনাদের বলার পর তারা আমাকে সরাসরি বলে তিন মাস না হওয়া পর্যন্ত সরকারি হবে না।

ফিরে এসে ঘুষের টাকা ফেরত চাইলে কিছুদিন টালবাহানা করে আনোয়ার ও তার পরিবার। পরে স্বপ্না বেগম বিষয়টি লিখিতভাবে থানায় অভিযোগ দিলে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান আনোয়ার ও তার পরিবার।

সোহাগের বাবা আব্দুল হান্নান বলেন, আমি তাদের বলি যে দুটি লোক ডেকে এনে আমার টাকাটা দাও। সে বলে লাগবে না, তুমি কি চাও যে তোমার ছেলের চাকরি না হোক।

সোহাগের মা স্বপ্না বেগম বলেন, আনোয়ার আর আক্তার যখন আসছে চাকরির অফারটা নিয়ে, যখন সরকারি চাকরির কথা বলেছে তখন আমি বলেছি যে অ্যামাউন্ট কত নিবা? কয়, আপনার জন্য ১৩ লাখ।

এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একই রকম প্রতারণার আরও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশের বড় কর্মকর্তারা।

তবে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন মোহেরুল ইসলাম।

রংপুরের কোতোয়ালি থানার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মোহেরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগকারী মামলা করার জন্য এগোচ্ছে না। তারা মামলাও করতে পারছে না, আবার টাকাও তুলতে পারছে না। দুটি অবস্থার মধ্যে আছে তারা।

অভিযোগ তুলে নিতে এখন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

এসএস