August
Dr. Neem on Daraz
Dr. Neem Hakim

গাইবান্ধায় নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলো পায়নি ঢেউটিন-টাকা 


আগামী নিউজ | জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা: প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২২, ০৭:১৪ পিএম
গাইবান্ধায় নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলো পায়নি ঢেউটিন-টাকা 

গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় চলতি বছরে বন্যার আগে ও পরে চার উপজেলার দুই সহস্রাধীক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। নদীভাঙনের শিকার এসব পরিবার অাশ্রয়কেন্দ্র, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, খোলা আকাশের নিচে, অন্যের জমিতে ও আত্মীয়ের বাড়ীতে ঠাঁই নিয়েছেন। বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাই তাদের জন্য দরকার জমি, ঢেউটিন ও ঘর তৈরির জিনিসপত্র কেনার জন্য নগদ টাকা। 

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের গত ২৩ জুনের তথ্যানুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহের বন্যায় গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নের সর্বোচ্চ ২১ হাজার ৮৩৪ পরিবারের ৬১ হাজার ৫১৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এই চার উপজেলার ঠিক কতো পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে তা জানাতে পারেনি দপ্তরটি। বন্যা পরবর্তী ঢেউটিন ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয় নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর মধ্যে।

এদিকে, কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নে প্রায় ২০০ পরিবার, একই উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০ পরিবার, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০ পরিবার, সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নে ৩০০ এর বেশি পরিবার ও একই উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নে ৪০০ এর বেশি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। 

এছাড়া নদীভাঙনের কবলে থাকা অন্য ইউনিয়নগুলো হচ্ছে সুন্দরগঞ্জের তারাপুর ইউনিয়ন, বেলকা, হরিপুর, চন্ডীপুর, কাপাশিয়া, সদর উপজেলার মোল্লারচর, কামারজানী, গিদারী, ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী, ফজলুপুর, কঞ্চিপাড়া, গজারিয়া, উদাখালী, সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী, ঘুড়িদহ, সাঘাটা, হলদিয়া ও জুমারবাড়ী ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের আরও কয়েকশো পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। সবমিলে দুই সহস্রাধীক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন চলতি বছরে বন্যার আগে ও পরে।

ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, 'এবারের বন্যায় আমার ইউনিয়নে প্রায় ২০০ পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তাদেরকে সহায়তা হিসেবে মাত্র ১০ কেজি করে চাল দিয়েছি। এছাড়া তাদেরকে আর কিছু দিতে পারিনি। খুবই কষ্টে তাদের দিন কাটছে।'

একই উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান বলেন, 'এবার প্রায় ৩৫০ পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তারা অন্যের জমিতে কোনমতে ঠাঁই নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারগুলোর তালিকা করা হচ্ছে।'

সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান সরকার বলেন, '৪০০ এর বেশি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তারা বিভিন্ন চরে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৭০ জনকে এখনো কোন প্রকার ত্রাণ বা সহযোগিতাই করতে পারিনি। নদীভাঙনের তালিকা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জমা দেওয়া হয়েছে। এখনো কোন ঢেউটিন ও নগদ টাকা বরাদ্দ পাইনি।'

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, 'নদীতে পানি কমে যাওয়ায় কিছু পরিবার নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। এখনো কোন ইউপি চেয়ারম্যান এরকম কোন তালিকা আমাকে দেননি। তবে চেয়ারম্যানদের কাছে তালিকা চাওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা পেলে পুনর্বাসনের জন্য তা গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।'

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. ফয়েজ উদ্দিন বলেন, 'বন্যায় নদভাঙনের শিকার মানুষদের জন্য ঢেউটিন চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। কোন ইউএনও এখনো নদীভাঙনের শিকার মানুষদের তালিকা জমা দেননি বা ঢেউটিনের চাহিদা দেননি। তারা চাহিদা দিলে ও অধিদপ্তর থেকে ঢেউটিন পেলে ক্ষতিগ্রস্থদের দিয়ে দেওয়া হবে।'

সুদীপ্ত শামীম/এসএস