Dr. Neem
Dr. Neem Hakim

স্ত্রী চলে যাওয়ায় ৫ বছর শিকলবন্দী যুবক 


আগামী নিউজ | খান সাহরিয়ার, বরগুনা প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১৬, ২০২১, ০৭:০৯ পিএম
স্ত্রী চলে যাওয়ায় ৫ বছর শিকলবন্দী যুবক 

ছবি: আগামী নিউজ

বরগুনা: স্ত্রী ছেড়ে চলে যাওয়ায় মানষিক ভারসাম্য হাড়িয়ে ৫ বছর যাবত নিজ ঘরে শিকলবন্দী হয়ে আছেন জয়নাল হোসেন তুহিন (২৯)।

তুহিন বরগুনা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের সোনা খালি গ্রামের সুরেশ্বর বাজার এর আবদুল জব্বারের ছেলে। 

জানা যায়, ১০১৭ সালে নিজের পছন্দে বরগুনার পশ্চিম হেউলিবুনিয়া গ্রামের ময়না আক্তারকে বিয়ে করে তুহিন। বিয়ের পর তুহিন মা,বাবা, স্ত্রী নিয়ে আনন্দেই দিন কাটাচ্ছিলো। বিয়ের কিছুদিন পর বরিশালের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি হয় তুহিনের। চাকরির সুবাদে তুহিনকে  বরিশালেই থাকতে হত। মাসে একবার করে বাড়িতে আসত স্ত্রী, মা-বাবার কাছে।

হঠাৎ একদিন তুহিনের স্ত্রী কোন কারন ছাড়াই তুহিনকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়। স্ত্রী চলে যাওয়ার খবর জানতে পেরে তুহিন বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে দরজা জানালা বন্ধ করে আসবাবপত্র ভাংচুর করতে থাকে। পরে স্বজনরা দরজা ভেঙে অজ্ঞান অবস্থায় তুহিনকে উদ্ধার করে। এরপর থেকেই তুহিন অস্বাভাবিক আচরন করতে শুরু করে। মানুষ দেখলে কামড়ে দিতে চায়। তারপর থেকেই শিকলে বাঁধা পড়ে যায় তুহিনের জীবন।

প্রথমে জ্বীনের আচড়ে অস্বাভাবিক আচরন করছে ভেবে একেরপর এক ওঝার শরণাপন্ন হন তুহিনের বাবা মা। ওঝার পরামর্শে পুনরায় বিয়ে করান তুহিনকে। তবুও সুস্থ্য হয়নি তুহিন। আর স্বামী পাগল হওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীও থাকছে বাপের বাড়ি গিয়ে। অসচ্ছল, দরিদ্র হওয়ায় চিকিৎসাও করাতে পারেনি মা বাবা। বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিল তুহিন। তার এই অবস্থায় না খেতে পেয়ে পথে বসেছে পরিবারটি।

তুহিনের মা সুফিয়া বেগম জানান, টাকার অভাবে আমার পাগল ছেলের কোন চিকিৎসা করাতে পারছিনা। ছাড়া পেলে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে, মানুষজন কামড়ে দেয় তাই শিকলে বেঁধে রাখতে হয়। সরকার এত মানুষকে সহায়তা দেয়,  আমাদের কি চোখে পড়েনা! 

তুহিনের বাবা আবদুল জব্বার বলেন, আমার ৪ মেয়ে ২ ছেলে। মেয়েরা সবাই শশুরবাড়ি থাকে। আর বড় ছেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে আালাদা থাকে। আমার ছোট ছেলে তুহিন ৫ বছর ধরে পাগল। এমন অবস্থায় লোকজনের কাছ থেকে খাবার চেয়ে এনে জীবন চালাই। এখন পর্যন্ত কোন প্রকার সরকারি বেসরকারি কোন সহায়তাই পাইনাই। এরকম চললে বেশিদিন বাঁচা সম্ভব হবেনা।

বরগুনা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রথমে তাকে চিকিৎসা করাতে হবে। চিকিৎসার রিপোর্টে যদি তার মানষিক রোগ ধরা পরে তাহলে আমরা তাকে কার্ড দেব। কার্ডের মাধ্যমে তাকে ভাতার আওতায় আনা হবে। এরপর থেকে প্রতিবছর সময়মত তিনি ভাতা পাবেন।

আগামীনিউজ/ হাসান